slideshow 1 slideshow 2 slideshow 3

You are here

অকুপাই ওয়ালস্ট্রীটের সাথে সংহতি প্রকাশের প্রয়োজন হবে কেনো?

"অকুপাই ওয়ালস্ট্রীট" শিরোণামে কর্পোরেটবিরোধী একটা গণআন্দোলনের সূচনা হয়েছিলো নিউইয়র্কে, সাদামাটা ভাবে শুরু হওয়া এ আন্দোলন বর্তমানে অনেক স্থানেই ছড়িয়ে পরেছে, বিশ্বের প্রায় হাজার খানেক শহরে গত কয়েক দিন অকুপাই ওয়ালস্ট্রীটের সমর্থনে কিংবা অকুপাই ওয়ালস্ট্রীটের অনুপ্রেরণায় গণজমায়েত হয়েছে। লন্ডনের গণজমায়েতের নেতৃত্ব কিংবা বিদ্রোহী চরিত্র হিসেবে উপস্থিত হয়েছিলো জুলিয়ান এসাঞ্জে, উইকিলিকসের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা কিংবা হাস্যকর সেন্সরশীপ প্রথার ভিত নড়িয়ে দিয়েছিলো যে।

হুজুগে বাঙালী পিছিয়ে পরেছিলো, গতকালও যেসব শহরে গণজমায়েত হয়েছে সেসব শহরের তালিকায় ঢাকার নাম ছিলো না।  এটা আমাদের জন্য যথেষ্ঠ অবমাননাকর, সুতরাং আগামী সপ্তাহেই ঢাকা সেসব শহরের তালিকায় ঢুকে পরতে যাচ্ছে। "অকুপাই ওয়ালস্ট্রীট" আন্দোলনের সাথে সংহতি প্রকাশের জন্য এখানে রাজু ভাস্কর্যের কাছাকাছি স্থানে জমায়েতের কর্মসূচি ঘোষিত হয়েছে। 'সংহতি' প্রকাশের প্রয়োজন পরলো কেনো আমাদের?

যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা বিশেষত যারা ওয়ালস্ট্রীট দখল করতে সেখানে শান্তিপূর্ণ অবস্থানগ্রহন কর্মসূচি পালন করছে তাদের কাছে ওয়ালস্ট্রীট কর্পোরেট পৃথিবীর প্রতীক, ওখানকার অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানসমুহ সমস্ত দেশের অর্থনীতি নিয়ন্ত্রন করছে, সেখানকার প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তাব্যক্তিদের ব্যক্তিগত লাভ-লোভ এবং মুনাফার অন্ধ প্রতিযোগিতা, সমস্ত দেশের অর্থনীতির বিকাশ এবং বিনাশে তাদের ভূমিকা স্পষ্ট, দেশের মুল্যস্ফ্রীতি, জীবনযাত্রার মানের ক্রমাবনতি, চাকুরি অনিশ্চয়তা এবং বেকারত্বের প্রকোপ অসহনীয় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে এইসব কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিদের ব্যক্তিগত লোভ লালসা, অর্থনীতির ধ্বংসস্তুপের ভেতরেও তাদের পূঁজির প্রতাপ ধ্বংস হয় নি, বরং রাষ্ট্রীয় প্রণোদনায় পূঁজির উপরে তাদের দখল আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। রাষ্ট্র সাধারণ জনগণের সুযোগ-সুবিধা-জীবনযাত্রার ব্যায়ের পরিমাণ চিন্তা না করে এইসব বিলাসী মানুষ তাদের জীবনযাত্রা যেন নির্বিঘ্নে অব্যহত রাখতে পারেন সে কারণে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থাকে জনগণের ট্যাক্সের টাকা প্রদান করে প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেউলিয়াত্বের হাত থেকে রক্ষা করেছে।

সকল মতের-পথের-বিশ্বাসের মানুষেরা যাদের সামর্থ্য আছে নিউইয়র্কে এসে এবং যারা পারছেন না তারা স্থানীয় পর্যায়ে পূঁজি ও অর্থনীতি নিয়ন্ত্রন করা এইসব প্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে অবস্থান করে সবাইকে জানাতে চাইছেন ১% মানুষের জন্য রাষ্ট্রের এমন লির্লজ্জ পক্ষপাতিত্ব কাম্য নয়। বরং রাষ্ট্রের রসদ ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার লক্ষ্য হওয়া উচিত ৯৯% মানুষের কল্যান।

বিভিন্ন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো একীভূত হয়ে যে বিশাল সম্মিলিত অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের অঙ্গ হয়েছে সেসব প্রতিষ্ঠানগুলোকে বলা হচ্ছে " টু বিগ টু ফল"। তবে এইসব প্রতিষ্ঠানগুলোর পতন ঠেকাতে রাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন ব্যক্তিরা যে পরিমাণ মেধা এবং জনগণের অর্থ ব্যয় করেছেন তাতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার নিয়মিত ধরন বদলে গেছে। অভাবের তাড়নায় তারা নিজেদের স্বাভাবিক জীবন ও নিত্যনৈমিত্তিক চাহিদায় কাটছাট করতে বাধ্য হয়েছেন।

তাদের প্রতি রাষ্ট্রের উদাসীমতায় আমাদের অশ্রুপাতের প্রয়োজন হবে কেনো? আমরা তাদের প্রতি সহানুভুতিশীল হতে যাবো কেনো? আমাদের রাষ্ট্রে কর্পোরেটাইজেশনের মাত্রা সীমিত, বিজ্ঞাপন ব্রান্ডিং এইসব বিভিন্ন ফাঁকিঝুকি শুরু হলেও এখনও প্রাতিষ্ঠানিকরণের মাত্রা ততটা জনবিধ্বংসী হয়ে উঠতে পারে নি। এখনও সামান্য চেষ্টা করলেই সে পথ থেকে সরে আসা সম্ভবপর। আমাদের অকুপাই ওয়ালস্ট্রীটের প্রতি সংঘতি প্রকাশের মঞ্চে আমাদের ৯৯% মানুষের প্রয়োজনের কথাটিই প্রথমত ভাবতে হবে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের তরুণেরা তাদের কাঙ্খিত জীবনের জন্য লড়ছে, তাদের প্রাযুক্তিক বাস্তবতা এবং তাদের পরিচিত বিধিব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেই তারা নতুন নিয়মতান্ত্রিকতার জন্ম দিয়েছে, তারা ছায়াসরকারের মতো কর্মসূচি পালন করছে। আমাদের মতো দেশে যেসব শৃঙ্খলা আমরা আশা করি না, একেবারে পরস্পরের অপরিচিত মানুষও একই রকম শৃঙ্খলা বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছে। তারা সহিংসতার নয় বরং গণতান্ত্রিক সমাজে জনসমর্থনের জোরে পরিবর্তন আনতে চায়। " দে আর ফাইটিং ফর এ চেঞ্জ, দে আর ফাইটিং ফর দেয়ার এক্সিসটেন্স"।

আমাদের অস্তিত্বের লড়াই এবং আমাদের অস্তিত্বের বাস্তবতা আলাদা রকমের। যেখানে দারিদ্রসীমা নির্ধারিত হয়েছে দৈনিক ৪০ ডলারের নীচে আয় করা সেখানে আমাদের দেশে মাসে ৪০ ডলারের বিইময়ে রক্তজল করছে অসংখ্য মানুষ। দৈনিক ২ ডলারের নীচে উপার্জন করা ব্যক্তির সংখ্যা যে দেশে ৮০%, সে দেশের তরুণেরা ৪০ ডলার আয় করা মানুষদের কষ্টে অশ্রুপাত করছে এটা আমাদের উদারতা।

আমাদের চাওয়া ন্যুনতম, আমরা চাই নিরাপদ জীবন, শিক্ষা এবং অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা। আমাদের চাওয়াগুলো আমাদের জানা, আমাদের কাঙ্খিত জীবন এবং আমাদের বাস্তবতার ভেতরে বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে যারা তাদের মুখগুলোও আমাদের চেনা। আমাদের অকর্পোরেটায়িত রাষ্ট্রে কর্পোরেটাইজেশনের ছোঁইয়া লাগার আগেই আমরা কর্পোরেটের পাপগুলোতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত, আমাদের প্রতি রাষ্ট্রের প্রতিনিয়ত স্পষ্ট উদাসীনতায় আমরা বিক্ষুব্ধ না হয়ে আজ অন্যের দুঃখে অশ্রুপাতে আগ্রহী হয়ে উঠছি কেনো?

 

রাষ্ট্রকে নাগরিকের দায়িত্ব গ্রহন করতে হবে, নাগরিক রাষ্ট্রের বোঝা নয়, বরং নাগরিককে রাষ্ট্রের সম্পদে পরিণত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা প্রদানে আইন শৃঙ্খলা এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে হবে, আরও বেশী জনমুখী রাষ্ট্রে পরিনত হতে হবে বাংলাদেশকে। বাংলাদেশের তরুণেরা এ স্বপ্নই দেখে।

 স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সুষ্ঠু স্বাস্থ্যনীতির বন্দোবস্ত করতে হবে, চিকিৎসা সেবা সাধারণের নাগালে আনতে হবে। এ লক্ষ্যে মৌখিক বানী নয় বরং আরও বেশী দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে রাষ্ট্রকে। স্থানীয় কম্যুনিটি চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসক থাকতে চান না, তারা শহরে প্রাইভেট প্রাকটিসে আগ্রহী, এইসব চিকিৎসকদের সরকারী চাকুরি থেকে বরখাস্ত করাটাই সমাধান নয়, বরং চিকিৎসায় অবহেলার দায়ে প্রয়োজনে তাদের হত্যাকান্ডে সহযোগী হিসেবে বিচারের মুখোমুখী করতে হবে। ডাক্তারের অবহেলায়, উপেক্ষায় যেকোনো ব্যক্তি নিহত হলে তার পরিবারের মানসম্পন্ন জীবন যাপনের প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান দিতে হবে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে। দেশের ঔষধ উৎপাদন এবং বিপণন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করতে হবে, যেনো আর কেউই ভুল চিকিৎসায় নিম্নমানের ঔষধ খেয়ে নিহত না হয় সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

 

শিক্ষার ব্যয় নয় বরং রাষ্ট্রকে শিক্ষার মান বিষয়ে নজরদারী করতে হবে, প্রতিটি পর্যায়েই শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষা পাচ্ছে এটা নিশ্চিত করতে হবে রাষ্ট্রকে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্প্যুটার পাঠিয়ে ডিজিটালাঈজেশনের মতো লাইগেশনমুখী প্রক্রিয়া নয় বরং যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে। মন্ত্রী এমপিগণ ৩ লাখ টাকায় শিক্ষকের পদ বেচছেন, এভাবে অযোগ্য অথর্ব শিক্ষকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বেহাল অবস্থা। এইসব ঘুষের টাকায় নিযুক্ত শিক্ষকদের বহিস্কার করে সেখানে উপযুক্ত শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে। যেসব মন্ত্রী এমপিরা ঘুষের বিনিময়ে শিক্ষার পিঠে ছুড়ি চালাচ্ছেন তাদের রাষ্ট্রদ্রোহিতার দায়ে অভিযুক্ত করতে হবে।

আমাদের জীবনযাপনে রাষ্ট্রের আরও সক্রিয় আন্তরিক অংশগ্রহনের দাবীতে আমাদের একমত হতে হবে। আমরা ৯৯% মানুষ রাষ্ট্রের ক্রমাগত উদাসীনতা, উপেক্ষায় বিক্ষুব্ধ এবং আমাদের ভেতরে এই অভাববোধ বিষয়ে সচেতনতা জন্মেছে এটা নিশ্চিত করতে হবে।

 

একই সাথে সহিংসতা এড়িয়ে চলতে হবে। অকুপাই ওয়ালস্ট্রীটের অবস্থানে অংশগ্রহনকারীদের সবচেয়ে বড় সম্পদ তাদের শৃঙ্খলাবোধ, গত ১ মাসেও তারা সহিংসতা দেখান নি, পার্ক পরিচ্ছন্নতার নামে তাদের উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়ার পর অংশগ্রহনকারীরাই নিজেদের উদ্যোগে পার্ক পরিস্কার করেছেন, তাদের আইনের প্রতি অবিচল শ্রদ্ধা।

কতিপয় উৎসাহী উজবুক, যারা গাড়ী দেখলেই ঝাপিয়ে পড়ে, লাথি মারে, কাঁচ ভাঙতে চায়, এরা আন্দোলনের প্রকৃত স্পিরিটে বিশ্বাস রাখে না কিন্তু আন্দোলনকে ধ্বংস করতে অত্যুৎসাহী ভূমিকা পালন করে, এরা এইসব বিক্ষোভ এবং অসন্তোষের পরিস্থিতিটে শুধুমাত্র লুটপাটের বাসনায় অংশগ্রহন করে।

এদের নিয়ন্ত্রনের কোনো কার্যকরী উদ্যোগ কিংবা পরিকল্পনা আমাদের নেই, দু চারটা গাড়ীর কাঁচ না ভাঙলে যেখানে আমাদের প্রতিবাদ সম্পূর্ণ হয়েছে বলে কেউ মনে করে না সেখানে বরং আমাদের হুজুগে মানসিকতায় আমরাও হৈ হো রৈ রৈ করে ছুটে গিয়ে সাধারণ পথচারীর উপরে চড়াও হবো, গাড়ী ভাঙবো, এইসব ফাতরামি করে জনবিচ্ছিন্নতা আহ্বান করবো না এমনটা নিজেকে বিশ্বাস করালেই হবে। আমাদের নিজেদের উপর নিজেদের নিয়ন্ত্রনই পরিস্থিতির উপরে আমাদের নিয়ন্ত্রন বাড়াবে।

 

আমাদের দাবী সামান্যই, আমরা ৯৯% মানুষ আমাদের জীবনযাপনের সব বিষয়েই রাষ্ট্রের অধিকতর অংশগ্রহন কামনা করি। আমাদের সুস্থ, নিরাপদ জীবনযাপন নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের, আমাদের উপযুক্ত নাগরিক হিসেবে নির্মাণের দায়িত্ব রাষ্ট্রের। রাষ্ট্র ব্যবসায়ীদের তল্পিবাহক হয়ে দীর্ঘ দিন নিজের দায়িত্ব এড়িয়ে চলছে, আমাদের দাবী সরকারের কুম্ভকর্ণের ঘুম ভাঙুক, বাংলাদেশ রাষ্ট্র বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্যই নিজেকে নিবেদিত করুক।

 

আমাদের সাথে এমন শান্তিপূর্ণ অবস্থানে শরীক হয়ে নিজের সমর্থনটুকু জানিয়ে যান।

 

12345
Total votes: 258

মন্তব্য

আরিফ রুবেল-র ছবি

এটা এই ব্লগে আমার প্রথম মন্তব্য। গুরুত্বপূর্ণ পোস্টের জন্য ধন্যবাদ। সবাই আসলে জানতে চাচ্ছে কি হচ্ছে ? আশা করি এই পোস্ট অনেকের প্রশ্নের জবাব দেবে। 

বাবু আহমেদ-র ছবি

কেডা এইডা?রুবেল সাহেব নাকি??উন্মোচনে সু-স্বাগতম।আমিও কয়দিন আগেই আইছি।যাউক।জইমা উঠবো তাইলে জায়গাটা।

পাকিস্তানী এবং ভারতের দালালমুক্ত,রাজাকারমুক্ত,রাজাকারমুক্ত এবং রাজাকারমুক্ত স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ চাই।

শশাঙ্ক বরণ রায়-র ছবি

আরিফ রুবেলকে উন্মোচনে স্বাগতম! খুব দ্রুতই নিশ্চয় লেখায় স্বাগত জানাবার সুযোগ পাবো। অনেক শুভকামনা।

........................................................

আদিবাসী বাঙ্গালী যত প্রান্তজন
এসো মিলি, গড়ে তুলি সেতুবন্ধন

বাবু আহমেদ-র ছবি
আমাদের সাথে এমন শান্তিপূর্ণ অবস্থানে শরীক হয়ে নিজের সমর্থনটুকু জানিয়ে যান।

পাকিস্তানী এবং ভারতের দালালমুক্ত,রাজাকারমুক্ত,রাজাকারমুক্ত এবং রাজাকারমুক্ত স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ চাই।

মাহবুব রশিদ-র ছবি

যদি শান্তি রক্ষা করতে না পারি। যদি পুলিশ ও রাজনৈতিক প্রশাসনের যুক্তি বা নিয়মবর্হিভূত স্বেচ্ছাচারী কার্‍্যকলাপ আমাদের বিক্ষুব্ধ হতে বাধ্য করে তবে তুমি কি করবা বাবু??

শশাঙ্ক বরণ রায়-র ছবি

সংহতি। অনেক মানুষই বর্তমান সময়ে নিজের ক্ষোভটুকু প্রকাশ করার জায়গা খুঁজছে। নিরান্নব্বই ভাগের চেতনাটা যদি রূপ পায় তাহলে পুরো রাষ্ট্রটাই বদলে যেতে পারে। সূচনাটা সফল হোক, আমরা যুথবদ্ধ হই বেদনায় বিক্ষোভে।

........................................................

আদিবাসী বাঙ্গালী যত প্রান্তজন
এসো মিলি, গড়ে তুলি সেতুবন্ধন

দোস্ত এতদিন যে রাষ্ট্র দায়িত্ব নেয় নাই, কাইলকা ওই রাষ্ট্র আমাগো দায়িত্ব নিয়া ফালাইবো, এমন ভাবা অন্যায়। কারণ এতকাল ধইরা যারা রাষ্ট্র চালাইতাছে, তাগো দায়িত্ব নেওয়ার কুনো সিনই নাই। তাই ওই দায়িত্বহীন চুদিরপোগো লাত্থিয়া সিন আউট কইরা নিজেগো দায়িত্ব নিজেগো কান্ধেই তুইলা নেওয়ার আন্দোলন শুরু করো।

আমরা আবদার করলেই রাষ্ট্র দায়িত্ব নিয়ে নিবে এমনটা ভাবা অসংগত, তবে এই মুহূর্তে সরকার উচ্ছেদের মতো কোনো ক্ষমতা আমজনতার নাই, এমন কি যদি তেমন কোনো আন্দোলনের দিকে যাওয়া হয় সেটা হবে হঠকারিতা।

 

জনবিরোধী সরকারের আচরণ পরিবর্তন হবে না এমন বিশ্বাস থেকে সরকার পতনের আন্দোলনের সূচনা করতে চাইলে তেমন জনসমর্থনের ভিত্তি তৈরি করতে হবে, বাজারে খাওয়ার দাম বেশী, সবাই আক্রান্ত কিন্তু এ কারণে কেউ লাঠি নিয়ে পুলিশের সাথে লড়াইয়ে জড়িয়ে পরবে না। এটা বাস্তবতা, এই বাস্তবতাটুকু উপলব্ধি করতে হবে।

 

প্রাথমিক ভাবে ভাবলে জনসমর্থন প্রাপ্তির উদ্যোগ নিতে হবে, যদি জনগণ সচেতন হয় তাহলে ভোটের রাজনীতিতে গণদাবীর একটা প্রভাব থাকবে, পরবর্তী নির্বাচনে অংশগ্রহনের আগে জনগণের স্বতঃস্ফুর্ত চাহিদার কথা বিবেচনা করতে বাধ্য হবে রাজনৈতিক দলগুলো।

 

পরিবর্তন এমনি হয় না, রাষ্ট্রের জনগণের অসচেতনতা এবং স্বার্থপরতার উপরে ভর করে রাষ্ট্র জনবিরোধী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। রাষ্ট্রকে জনবিরোধি পথ থেকে জনকল্যানমুখী পথে নিয়ে আসার দায়িত্ব এবং ক্ষমতা থাকে জনগণের হাতে।

আজাদ-র ছবি

আহা কি চমত্কার কথা। "আমাদের উপযুক্ত নাগরিক হিসেবে নির্মাণের দায়িত্ব রাষ্ট্রের। রাষ্ট্র ব্যবসায়ীদের তল্পিবাহক হয়ে দীর্ঘ দিন নিজের দায়িত্ব এড়িয়ে চলছে, আমাদের দাবী সরকারের কুম্ভকর্ণের ঘুম ভাঙুক, বাংলাদেশ রাষ্ট্র বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্যই নিজেকে নিবেদিত করুক।" যেন রাষ্ট্র না বুঝেই এসব করে, রাষ্ট্র যেন একটা অবুঝ নাবুঝ শিশু! তার যেন কোন সুনির্দিষ্ট চরিত্র নেই! সরকারও যেন একটা নিষ্পাপ শিশু, ও খালি ঘুমায়। আহা কি সুন্দর একটি সিভিল চিন্তা।

রাষ্ট্র একটা মেশিন, এই মেশিন যার হাতে থাকে সে তার মত করে এইটারে এসেম্বল করে, ব্যবহার করে। এর চলাফেরা টের পাওয়া যায়। পুলিশ যখন প্যাদানি দেয়, RAB যখন ক্রস দেয় আরো নানান হুকুমতে। সাধু কথা কোনকালেই রাষ্ট্রের কানে ঢোকে না কারন রাষ্ট্রের কোন সাধুতা নাই। গান্ধিবাদিতা ততক্ষন কাজ করে যতক্ষন তা রাষ্ট্রের কলকব্জাগুলো টাইট দেয়ার জন্য কাজ করে, সেটা রাষ্টের পক্ষেরই কাজ। যখন কলকব্জাগুলো ভাঙ্গার প্রশ্ন আসে তখন থেকেই রাষ্ট্র ব্যবস্থা পরিবর্তনের লড়াই শুরু হয়।

কোনটাকে আপনি জনগণের অসচেতনতা বলছেন তা কি একটু বলবেন?  কোন অবস্থায়, কেন জনগণ অসচেতন ও স্বার্থপর হয় তাও একটু ব্যাখ্যা করবেন।

রাষ্ট্রকে শাসক গোষ্ঠী নিজের স্বার্থ পুরণে ব্যবহার করছে এটা এক ধরণের বাস্তবতা। শাসকগোষ্ঠী নিজের প্রয়োজনে প্রশাসনকে ব্যবহার করছে, প্রশাসনকে তোয়াজ করছে, সেসব দৃশ্যমান বৈষম্যের নেপথ্যের প্রধান কারণ জনসাধারণের বিচ্ছিন্নতাটুকু।

 রাষ্ট্রের আভ্যন্তরীণ অসাঞ্জস্যতা বিদ্যমান, কাকে কতটুকু ক্ষমতা ও দায়িত্ব দেওয়া হবে সেটা নির্ধারণ করার এখতিয়ার সাধারণ জনগণের নেই, তারা শ্লোগানে মুগ্ধ হয়ে ভোট দেয়, যদি নিজের প্রার্থী পরাজিত হয় ধারণা করে ভোট নষ্ট হলো, এই জনগণের সচেতনতা বিষয়ে আমি আস্থাবান নই।

উপযুক্ত নাগরিক নির্মাণের দায়িত্ব যে রাষ্ট্রের সে বিশ্বাসটুকু শতকরা কতজন নাগরিকের আছে? রাষ্ট্র যে বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন ভাবে নাগরিকের অধিকার হরণ করছে সে বিষয়ে সাধারণ মানুষ কতটুকু সচেতন? অধিকার সচেতনতা না থাকলে অধিকার রক্ষার লড়াই করে কি অর্জন করবে ব্যক্তি?

আন্দোলন বিষয়ে সাধারণের একটা ধারণা আছে, একদিন রাস্তায় নেমে সবাইকে সন্ত্রস্ত করতে হবে

ব্যপক পরিমাণে ভাঙচুর করে নিজের অসংযত ক্ষোভের পরিমাণ এবং সেটার পরিণাম সম্পর্কে সরকারকে অবহিত করতে হবে, সে কারণে একজন পথচারী অন্য কারো গাড়ী ভাঙলে কিছুটা আনন্দিত হয়। একেবারে প্রতিহিংসামূলক আনন্দ, কিংবা পরিতৃপ্তি এটা। সরকার এই ক্ষোভের কারণে প্রথমত আন্দোলন দমনের চেষ্টা করে, করদ নাগরিক এবং অকরদ নাগরিকের বিষয়ে বিবেচনা করতে হলে করদ নাগরিকদের গুরুত্ব বেশী, তারা রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশগ্রহন করছে। সেটা যদি করদ নাগরিকদের আরও বেশী সন্ত্রস্ত করে তুলতে পারে তাহলে শাসকগোষ্ঠী দাবি মেনে নিয়ে আপোষ করে।

আপোষ করে কিংবা দাবী মেনে নেয় বলেই এমন অসংযত আন্দোলন সব সময়ই অভীষ্ট পুরণে সহায়ক হবে এমন না।

জনগণের সম্পৃক্ততা আন্দোলনকে ক্ষমতা দেয়, সাধারণের ক্ষমতা তাদের সংখ্যায়, তাদের অস্ত্রে নয়। সে বাস্তবতাটুকু উপলব্ধি করে বলেই রাষ্ট্র সার্বজনীন সংঘবদ্ধতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। কিংবা আমাদের শাসকগোষ্ঠী বিভিন্ন লোভে বিজ্ঞাপনে জনগণকে এইসব সংঘবদ্ধতা থেকে বিচ্ছিন্ন রাখতে চায়।

 

জনগণ ব্যক্তিস্বার্থের বাইরে ভাবছে না, তাদের উত্তেজনাগুলোও সাময়িক, যৌনচাহিদা বাড়লে সেটা প্রশমনের বিভিন্নমুখী উদ্যোগ জনগণের থাকে, যদি এমন কি পতিতা খুঁজে নেওয়ার ক্ষমতা না থাকে পাবলিক হাত মেরে কাঁথামুড়ি দিয়ে শুয়ে পরে, আমাদের আন্দোলনগুলোর পরিণতি এমনতরই। সাময়িক উত্তেজনায় হস্তমৈথুনের মতো বিকার, সেটা সামগ্রীক অর্থে কোনো গুরুতর পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যায় না সমগ্রকে।

এখানে জীবনের চাহিদাগুলো প্রকট, একজন শিক্ষাঙ্গনে এসে নিজেকে নির্মাণের পরিশ্রমটুকু করতে চায় না, তারা শিক্ষাকে অর্থনৈতিক উপযোগ হিসেবে দেখে অভ্যস্ত, এখানে শিক্ষা নয় সনদের গুরুত্ব বেশী। সে কারণে শিক্ষাঙ্গনে তারা উপযুক্ত শিক্ষা দাবী করে না, দাবী করে সাজেশন, তারা স্বল্পতম পরিশ্রমে সর্বোচ্চ সুখভোগের আশাবাদে বিশ্বাসী। এ জনগণকে সচেতন বলাটা শোভন হবে না।

 তাদের উপযুক্ত শিক্ষা প্রদান ও তাদের মননশীলতার বিকাশও যে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হিসেবে পরিগনিত সেটা তারা যদি উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয় তাহলে তাদের প্রথমে সে শিক্ষাটুকু দিতে হবে। আন্দোলনের সূচনারও প্রারম্ভিকতা আছে, একটা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে জনগণকে সংঘবদ্ধ করা এবং তাদের নির্দিষ্ট একটা লক্ষ্যে পরিচালনা করার আগে তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা আছে। একক নয় বরং সামগ্রীক স্বার্থ পুরণ হলেই যে একক স্বার্থ অধিকতর রক্ষা পায় এ বিশ্বাসটুকু যখন জনগণের জন্মাবে তারা গণআন্দোলনের জন্য প্রস্তুত এবং উপযুক্ত হয়েছে সেটা মনে করতে হবে।

তেমন প্রারম্ভিক উপযোগবিহীন" রাষ্ট্রকে পরিবর্তনে বাধ্য করতে হবে " টাইপ হঠকারি আন্দোলন প্রতিবারই ব্যর্থ হয়েছে, সে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হবে আবারও।

 

আজাদ-র ছবি

রাষ্ট্রকে শাসক গোষ্ঠী নিজের স্বার্থ পুরণে ব্যবহার করছে এটা এক ধরণের বাস্তবতা।

একধরনের নয় এটাই বাস্তবতা। এবং সব রাষ্ট্রে সবসময় রাষ্ট্র যে গোষ্ঠীর হাতে থাকে সেই গোষ্ঠী তাকে তাদের স্বার্থে ব্যবহার করে। আর প্রশাসন'তো রাষ্ট্রই কারণ তার পারপাস সার্ভ করাই কাজ। আর ব্যাপারটা জনসাধারণের বিচ্ছিন্নতা নয়, রাষ্ট্রের দিক থেকে সবসময় চেষ্টা থাকে নিজেকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করে জনগণের মাথার উপর বসার। বীপরিতক্রমে জনগণ সবসময় নিজেকে রাষ্ট্রের সংস্পর্শে রাখতে চায়, শাসনকে প্রকৃতিগতভাবেই ঘৃণা করা স্বত্বেও।

ক্ষমতা ও দায়িত্ব বন্টন করার এখতিয়ার জনগনের থাকবে কি থাকবে তা নির্ভর করে রাষ্ট্র কাঠামোর উপর। এই রাষ্ট্র কাঠামোতে তা নেই। আর যার প্রার্থী পাশ করে সেও মনে করে তার ভোট নষ্টই হল, ভোটারদের মানসিকতাও এখন এরকম যে যা পারো ভোটের আগেই নাও পরে কিছুই পাওয়া যাবে না। ভোটের পরে সে বিশেষ কিছু পায়ও না, এমনকি নির্বাচিতের সাক্ষাত ও স্বাক্ষর পেতেও টাকা খরচ করতে হয়। এই গেমে জনগণ মোটেই অসচেতন নয়।

সাধারণ মানুষ জানে-দেখে, ঐতিহাসিকভাবে চলে আসা রাষ্ট্রটা তার অধিকার হরণ করে, তাকে বঞ্চিত করে। অধিকার রক্ষার আন্দোলনে তার আস্থা নাই বরং অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে তার আস্থা, যখন এরকম কোন শক্তি দেখে তখন জনগণ দাড়ায়।

আন্দোলন বিষয়ে সাধারণের একটা ধারণা আছে, একদিন রাস্তায় নেমে সবাইকে সন্ত্রস্ত করতে হবে

হা কারণ যার বিরুদ্ধে আন্দোলন সেও তাকে সবসময় সন্ত্রস্ত রাখে।

সংঘবদ্ধতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লড়াইএর ধরণ এবং রূপ কি হবে তা দ্বন্দের ধরণের উপর নির্ভর করে। সংঘবদ্ধ হলেই রাষ্ট্র ভয়ে সব দিয়ে দিবে এমনটি নিশ্চই নয়। দাবী যখন শাসকগোষ্ঠীর পূরণ আযোগ্য হয় তখন তার বাহিনীগুলো নির্মমভাবে ব্যবহার করে। জিততে চাইলে লড়াইটা আর কিছুতেই তখন শান্তিপূর্ণ রাখা যায় না।

একটা ব্যক্তিস্বার্থের সমাজে জনগনের মধ্যে ব্যক্তিস্বার্থ প্রধাণ থাকবে সেটাইতো স্বাভাবিক। শিক্ষাঙ্গনের জন্যেও ঐ একই ব্যাপার গড়ে উঠার চাই জীবনধারনের জন্য সার্টিফিকেট অনেক জরুরী, এই শিক্ষায় এই রাষ্ট্র ওকে দেয়।

মানুষের আসলে কোন প্রশিক্ষণ লাগে না, মানুষ প্রয়োজনে প্রশিক্ষিত হয়ে ওঠে নিজেই।

রাষ্ট্রকে পরিবর্তনে খুব একটা বাধ্য করা যায় না। পুরোনো শাসকগোষ্ঠীকে বিতারিত করে রাষ্ট্রটাকে নতুন আদলে গড়তে হয়। এভাবেই হয়েছে জগত্জুড়ে। এইসব কথাবার্তা অবশ্য রেডিক্যাল বলে বাতিল করা হয়। কিন্তু একটা বদল চাইলে শেষপর্যন্ত চিন্তাটাকে এই রেডিক্যাল পর্যন্ত নিতে হয়।

আমি আশাবাদী।@ রাসেল পারভেজ

মাহবুব রশিদ-র ছবি

মার্কিন ৯৯ ভাগের এজেন্ডা আর আমাদের ৯৯ ভাগের এজেন্ডা এক না।আমাদের সংহতির প্রয়োজন কেবল একারণে যে দু'টিই ৯৯ ভাগ জনতার মুভমেন্ট। হয়ত মার্কিন অই ৯৯ ভাগ জিতে গেলে তারা আমার ৯৯ ভাগের প্রতিপক্ষই হয়ে যাবে, কিন্তু তাতে কি ? যুদ্ধের ময়দান আমাদের উভয় জনগোষ্ঠির আলাদা। আমরা কেবল ঐ ৯৯ ভাগ কে জানাতে চাই যে আমরা আমাদের মত করে ৯৯ ভাগের সংগ্রাম করছি, আমাদের কন্টেক্সটে সে মার্কিন ৯৯ ভগের সংগ্রামের তুলনায় আমাদের সংগ্রামের চেহারা কর্মপদ্ধতি ভিন্ন হলেও আমরাও আছি, তাদের আগেই আছি। তারা আমাদের কথা ভুলে যায় বার বার। তারা মার্কিন বলেই মিডিয়ায় ফোকাসড হয়। 

আর জঙ্গী আন্দোলন বিষয়ে আপনার মতামত অন্তত আমার কাছে হতাশাব্যাঞ্জক। মার্কিনিরা প্ল্যকার্ড হাতে এক জায়গায় ঘুরে ঘুরে মিছিল করলেও তাদের উদ্দিষ্ট সফল হয়, আমাদের রাষ্ট্র - সরকার সেরকম সুগঠিত নয়, অনেকটাই ফিউডাল ,তার বিরুদ্ধমত কে প্রতিহত করার পদ্ধতিও পাশবিক, তাই আপ্রাইজ করা ছাড়া অনেক সময়েই উপায় থাকেনা।

বিপ্লব রহমান-র ছবি

বিদ্রোহ আজ, বিদ্রোহ চারিদিকে:



Letter to the Occupy Wall Street Movement


 


Published Oct 19, 2011 10:37 PM


These are hard times. There doesn’t appear to be any respite coming soon. The political atmosphere has shifted in response to the greatest economic calamity since the Great Depression. This crisis, because of how the changes in technology, communication and production have made the world smaller, is global in its impact.



Corporations and financial institutions on Wall Street have become profitable again. Their profits were made possible by the more than $16 trillion in tax money doled out to them by Washington and because they have shed millions of jobs, ripped up workers’ contracts, forced concessions down the workers’ throats and because they make those left with a job work harder and produce more in less time.



There are cutbacks at every level of government — cuts to education, health care, housing, federal nutrition programs and other vital social services. Government workers are being laid off and their collective bargaining rights curtailed in places like Wisconsin — the birthplace of public sector unions — and in Ohio, Michigan and Indiana to name a few states.



These are hard times, confusing times, where, no matter which political party the heads of government at the local, state and federal level answer to, the common program is for cutbacks, cutbacks, cutbacks for the workers and the poor and tax breaks, subsidies and bailouts for the corporations and the rich.



But times change. The political atmosphere shifts in response to real events. It has once again. The Occupy Wall Street movement, like the uprising in Wisconsin earlier in the year but on a grander and broader scale, has awakened youth and students, labor — all sectors.



It has grown from seeds planted by the conditions of accelerating poverty, joblessness, disenfranchisement and frustration with a political system that favors the wealthy elite. Perhaps this movement’s greatest achievement to date is that it has opened up new, broad, vitally needed political space.



It rose suddenly and brazenly, goaded on by threats and intimidation. It shows no sign of waning. This movement has captured the imagination of people the world over who have been waiting, hoping that the roots lurking just under the soil will push upward.



But where does it go from here?



The United States was created from the destruction of the societies and the way of life of the original inhabitants of the North American continent. The wealth of the country stemmed from this destruction of the lives of Indigenous peoples, the enslavement of Africans, the seizure of half of Mexico, the colonization of the land of sovereign nations such as Puerto Rico, Hawaii and the Philippines, the corporate grab of the Western Hemisphere.



Indigenous people, the descendants of African slaves, the offspring of the people from the northern half of Mexico, the people of Puerto Rico continue to live in the United States and suffer the effects of centuries of genocide, slavery, land theft and racist policies that have been pervasive throughout U.S. history.



Drawn into the U.S. are people who left their homelands because of war — be it the war in Iraq that has raged for eight years; the war in Afghanistan that has persisted for ten; the wars more than one generation ago in Vietnam and Korea — or economic warfare imposed on their countries through the so-called North American Free Trade Act, structural adjustments or austerity — all emanating from Wall Street.



We, the overwhelming majority, comprise the working class. It is a multinational class that speaks many languages, has many different cultures, customs, beliefs and religions.



For the movement to grow, it has to accept the peculiar history of the development of the U.S. What we all want is an equal, just society with an equitable distribution of wealth, one where people are not exploited and where young people are not thrust into Wall Street’s wars for profit and plunder.



But that society does not yet exist.



A broad movement must be multinational, in solidarity with all people and their issues, against racist repression, sexism, homophobia, and in support of the struggles of people who suffer disproportionately under this oppressive system.



While in general the conditions heaped upon all of our class are bad, Black, Latinos/as, Indigenous people and other people of color suffer higher rates of unemployment, poverty, lack of access to health care, in addition to regular oppression and repression.



The attacks against immigrant workers, the raids and deportations, the attacks against Muslims and the attacks against Black people — be they in the form of police brutality, incarceration or police occupation of communities of color — must all be seen as attacks against a sector of the working class.



As Martin Luther King Jr. once said, “Injustice anywhere is a threat to justice everywhere.”



Unity and solidarity are needed.



Any grouping that seeks to scapegoat immigrants, Muslims, people of color is no friend of the working class. It is instead doing the bidding of Wall Street by attacking the most dispossessed, most disenfranchised. Any opportunists who think that demagogy against Wall Street that serves a racist, sexist or homophobic perspective must be given no quarter. Our class is diverse and we must always be aware of its diversity.



This movement will grow and can be transformative. We will learn what works and what doesn’t. We will learn lessons from our mistakes and our victories, and we will march forward.



An Injury to One Is an Injury to All!



All Power to the People!



Larry Hales
Oct. 19



Hales is an organizer of the national student struggle against austerity; an Occupy Wall Street, anti-police brutality and anti-war activist and a member of Workers World Party.




[লিংক] 

মন্তব্য