slideshow 1 slideshow 2 slideshow 3

You are here

বঙ্গবন্ধুর লাশ ৩২ ঘন্টা ৩২ নম্বরে পড়ে ছিল মোশতাকই প্রথম মর্যাদার সঙ্গে লাশ দাফনের নির্দেশ দেন(২)

শেখ মুজিবের মৃতদেহ ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ৩২ ঘন্টা পড়ে ছিল। জবীত শেখ মুজিব যাদের একদিন বীর উত্তম বা বীর বিক্রম খেতাব দিয়ে ছিলেন, সেসব মুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তা ঢাকা বেতার কেন্দ্রে এবং বঙ্গ ভবনে আসর গুলজার করেছিলেন। একমাত্র ব্যাতিক্রম ছিলেন কর্ণেল জামিল। তিনি কর্তব্যের তাড়নায় ৩২ নম্বরের দিকে ছুটে গিয়েছিলেন। কিন্তু পথেই তাকে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করা হয়। বিএনপির সময় অসময় বইয়ে লেখক মহিউদ্দিন আহমেদ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরের ৩২ ঘন্টা এভাবে বর্ণনা করেন।
বইয়ে তিনি উল্লেখ করেন, শেখ মুজিবের মৃতদেহ দাফন করা নিয়ে বঙ্গভবনে কিছু তর্কবিতর্ক হয়েছিল। ১৫ আগস্ট বিকালে মোশতাক সরকারে প্রতিমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেয়া মোয়াজ্জেম হোসেনের বিবরণ থেকে লেখক উল্লেখ করেন, শপথের পর প্রেসিডেন্টের কক্ষে সব মন্ত্রীকে নিয়ে যাওয়া হলো। সেনাবাহিনীর কয়েকজন অফিসার সেই কক্ষে রয়েছে। কারও কারও হাতে অস্ত্র। মোশাতাক নাতিদীর্ঘ বক্তৃতা দিলেন। বললেন জাতীয় ক্রান্তীলগ্নে আমাকে দ্বায়িত্ব নিতে হয়েছে। শেখ মুজিব ছিলেন দেশের রাষ্ট্রপতি তার মরদেহ বাসস্থানে পড়ে রয়েছে। আমি মনে করি যথাযোগ্য মর্যাদায় তার পিতামাতার কবরের পাশে গোপালগঞ্জের স্বগ্রামের বাড়িতে তাঁকে সমাহিত করা হোক। আপনারা যদি কেউ মরদেহরে সঙ্গে যেতে চান যেতে পারেন। সেনাকর্মকর্তাদের একজন বরে উঠল আমরা তাকে বিশ্বাসঘাতক হিসাবে হত্যা করেছি। আর এক্ষণে আপনি তাকে মর্যাদার সঙ্গে দাফন করতে চান এটা কেমন কথা হলো। এতো হতে পারে না। মোশতাক ধমকের সুরে বললেন, ওয়েল, ইন দ্যাট কেস ,ইউ টেক ওভার। ইফ আই অ্যাম দ্য প্রেসিডেন্ট ইউ হ্যাভ টু ক্যারি আউট মাই অর্ডারস। তারা কিছুক্ষণ গাইগুই করে মোশতাক সাহেবের প্রস্তাব মেনে পরদিন বঙ্গবন্ধুর লাশ গোপালগঞ্জে নিয়ে সমাহিত করে এসেছিল।

12345
Total votes: 186

মন্তব্য