slideshow 1 slideshow 2 slideshow 3

You are here

নিলুর নীল পাগড়ী (সমাপ্ত)

(৬)
কয়েক বছর পরের শেষ বৈশাখের এক দুপুর বেলা। খালে জোয়ারের স্রোত প্রবল বেগে ঢুকছে। স্রোতের শক্তি দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে তখন। নীলুদের নৌকা ঘাটে বাঁধা, স্রোতে একটু একটু কাঁপছে। নীলু নৌকায় উঠে গামছা পেতে শুয়ে পড়ল। গাছের পাতায় পাতায় চড়া রোদের দখলদারী, বাতাসে রোদ কাঁপছে না পাতা কাঁপছে বোঝা শক্ত। পুরো তল্লাটে মানুষের কোন নাম গন্ধ নেই। একটা ঘুঘু থেমে থেমে ডেকে চলছে, ঘুঘুর ডাকে বুকের ভেতর কেমন যেন হাহাকার লেগে যায়। নীলু বড় একটা নিঃশ্বাস ছেড়ে উঠে বসতে চেষ্টা করল, কিন্তু সে উঠতে পারল না, পিঠে মনে হল ভারী পাথর বাঁধা আছে, মেরুদণ্ড যেন অসাড়, সে বুঝতে পারছে একটা অদ্ভুত কিছু তার রক্তে ছুটে বেড়াচ্ছে, সবকিছু কেমন বিকল করে দিচ্ছে। 

নীলু চিৎকার করতে চাইল, পারল না। কোন শব্দ তৈরি করার সামর্থ্য সে হারিয়ে ফেলল। তৎক্ষণাত আকাশে দেখতে পেল একটা রক্তের ধারা এপাশ থেকে ওপাশে ছুটে যাচ্ছে। উড়োজাহাজের ছেড়ে যাওয়া ধোঁয়ার মত ক্ষীণ সে ধারাটি স্ফীত হচ্ছে ক্রমশ। সেই ধারার ভেতর একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটতে লাগল। ছলকে ছলকে উঠে পুরো আকাশে ছড়িয়ে পড়ছে লাল রঙ, রক্তে মেখে গেল যেন আকাশ, সূর্য, গাছের পাতা। লাল রক্তের এক মহা ঢেউ উঠল আকাশে, সেই ঢেউ ছুটে আসছে পৃথিবীর দিকে। করণীয় কিছু ঠিক করার সামর্থ্য সে হারিয়ে ফেলেছে। বোধ বুদ্ধি এখন অসাড়। তবু প্রাণপনে উঠতে চেষ্টা করল সে, কিন্তু একচুল নড়ার মত শক্তি কোনভাবে যোগাড় করতে পারল না। চোখমুখ বিস্ফারিত আর নিঃশ্বাস বন্ধ করে তখন সে চূড়ান্ত সময়ের জন্য অপেক্ষা করছে। এমন সঙ্কটময় মুহূর্তে স্পিরিচুয়াল লিপ কী করে নিতে হয় সে সম্পর্কেও তার কোন ধারণা নেই। সবকিছু তার এখন নিয়তির হাতে সমর্পিত।
 
উপায়হীন এমন সময়ে হঠাৎ সে উপলব্ধি করল একটা সহজ নিঃশ্বাস সে ছাড়তে পেরেছে। ভীষণ আশঙ্কা নিয়ে যখন শ্বাস টানল সেটাও অতি সহজে সম্পন্ন হল। আরাম বোধ করল সে। একটা ঘন উষ্ণ তরল সহজ ও স্বাভাবিকভাবে তার নাক দিয়ে ফুসফুসে ঢুকছে আবার বের হচ্ছে। এ এক নতুন উপলব্ধি। নাকি পুরনো, মাতৃজঠরের সেইসব দিনের মত? শুধু নাড়ীর বন্ধনটুকু কোথাও নেই! বাকি সবকিছু সেই একইরকম! 
লাল সমুদ্রের জলের অভ্যন্তরে সে ভেসে যেতে থাকল, নৌকাটি তার পিঠ থেকে কখন যেন ক্ষুদ্র এক ঝটকায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে সে টের পায়নি। শুধু দেখতে পেল ঝড়ে উড়ে যাওয়া পাতার মত ছোট হতে হতে বিন্দু তারপর অদৃশ্য হয়ে গেল নৌকাটি। সে এখন এক শেষহীন লাল তরল-নিয়তির হাতে বন্দী।
 
দ্বীনবন্ধু দাশের মুখের রঙ স্কেচের মত সাদা। কালো জমিনে আঁকা প্রতিকৃতি যেমন। মাথার পেছন দিকটায় আলুথালু দলা দলা সাদা চুলের রেখাচিত্র। সামনেটায় পিছলে যাওয়া টাক। বিষণ্ন মুখে বারবার নিজের পেটের দিকে তাকাচ্ছে। পেটের যেখানটায় ভুড়ি ছিল সেখানটায় কিছু নেই, ফাঁকা, ওইপাশের অন্ধকার দেখা যায়। নীলু যখন তার সামনে গিয়ে পড়ল, সে একবার মুখ তুলে দেখল, আরও বিষণ্ন হয়ে গেল তার দৃষ্টি। যে চক্র নীলুকে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে তা যেন একটু বিরাম নিল এখানে। নীলু কিছু একটা বলতে চাইল, কিন্তু মুখে কিছু সরছে না, কোন ভাবনা তৈরি হচ্ছে না, একটা শূন্য অনুভূতি তৈরি হল মাত্র।
 
দ্বীনবন্ধু অনেক কষ্টে মুখ বাঁকিয়ে একটু মুচকি হাসল, জিজ্ঞেস করল, “তোর বাপ জানে?”
নীলু কিছু বলতে পারছে না, শুধু চেয়ে থাকল।
“তুই একটা বলির পাঁঠা, তোর বাপটাও! একজন গেছে ধনে, আরেকজন গেলি মনে!”
নীলু যেন কিছুটা বুঝে উঠতে পারছে, কিছুটা যেন সে ভাবতে পারছে এখন। সে দেখতে পেল দ্বীনবন্ধুর ফাঁক হয়ে যাওয়া দাঁত। হাসলে কেমন নির্বোধের মত লাগে। তার পাতলা গোঁফ আর অর্ধেক মাথা জুড়ে টাক, অথচ দ্বীনবন্ধুর কখনও ধন হয়নি। টাকের সঙ্গে ধনের নাকি আত্মীয়তা আছে। আত্মীয়তা কী আর সবসময় কাজ করে? অন্তত দ্বীনবন্ধুর ক্ষেত্রে তো নয়ই।
“কাকা, আমি কী করতে পারতাম?”
“যা করার তা তুই কোনদিন করতে পারতি না। তোরা হইলি ঢোল-ডগর, মানষে তোগো বাজাইয়া যায়, তোরা টের পাস, কিন্তু কিছু করতে পারিস না।” এই বলে হাসল একটু।
“আমার এমন কেন হইল কাকা?”
“শোন, ওই গেরামে তোগো কোন বন্ধু নাই, সুযোগ পাইলে কেউ ছাড়ে না। সব শালা শত্রু আর শয়তান। সারাক্ষণ পিছে লাইগ্গা থাকে। কারণ কি কইতে পারবি? তোগো কেউ নাই, রক্তের সম্পর্কের কেউ। সবাই আত্মীয়, গ্রাম সম্পর্কে, কিন্তু রক্তের সম্পর্কের না। দ্যাখ, আইজ আমারও কেউ নাই।”
দ্বীনবন্ধু যেন কেঁদে ফেলবেন, কিন্তু পাথরের মত চোখে কোন পানি জমল না। শুধু পেঁচার মত একটু বড় গোল গোল হল। সেইসাথে কপালের রেখায় কয়েকটি ভাঁজ মূর্ত হল।
নীলু বলল, “আমরা কই যামু?” 
“কোনখানে যাইতে পারবি না তোরা। ওই ভিটা সাফ হইলেও তোরা ওই ভিটাতেই থাকবি।” এই বলে ইঙ্গিতপূর্ণ হাসি হাসল দ্বীনবন্ধু, দাঁতের ফাঁক দেখা গেল, ওই ফাঁকার ভেতর অন্ধকার, চোখের কোটরেও অন্ধকার।
নীলু যেন একটা গোলকধাঁধাঁয় পড়ে ঘুরপাক খাচ্ছে। সে দ্বীনবন্ধুকে বলল, “কাকা একটু খুলে বলবেন? সবকিছু কেমন ধাঁধাঁর মত লাগতেছে।”
দ্বীনবন্ধু একটু থেমে বলল, “তোর বাড়িতে যে মিছিল শুরু হইছে, তার অগ্রভাগে তুই। এরপর তুই টানবি তোর মায়রে, তোর মায় টানবে তোর বাপরে, তোর বাপ টানবে তোর বুইনরে, তোর বুইন টানবে হের মাইয়ারে, মাইয়ায় টানবে বাপরে। তয় এই যায়গায় খাড়াইয়া তোর বাপের লগে একটু দেখা করার খুব ইচ্ছা আমার!” এই বলে দুলেদুলে খুব হাসল সে।
মনমরা নীলু যেন ক্ষুদ্র হতে থাকল। দ্বীনবন্ধু ধীরে ধীরে দৈত্যের আকার নিতে লাগল, তার সমস্ত শরীরে অন্ধকার বাসা বেঁধেছে। অন্ধকার বাড়তে বাড়তে একসময় দ্বীনবন্ধুর সাদা অংশ চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়তে লাগল। আর নীলু সেসবের ভেতর চাপা পড়ে গেল।
 
যে কালহীন চক্রে নীলু খাবি খাচ্ছে তার কোন এক প্রাক্কালে তার ভেতর আবেগের এক ঢেউ উত্থিত হল, গগনচুম্বি সেই ঢেউ অন্ধকারের গায়ে খাবি খেতে লাগল। অন্ধকার ভেঙে ভেঙে পড়তে লাগল বরফের চাঁইয়ের মত। তার সামনে খুলে গেল একটা মস্ত গোলকধাঁধাঁ। সে একটা মেঘ হয়ে গেল। হাতিরঙা মেঘ। নিজের ভেতর অসীম এক শক্তির আধার টের পেল। এরপর ঝড় হয়ে ছুটতে লাগল ধানক্ষেত, গৃহ, মঠ, বন-জঙ্গল পেরিয়ে ভেঙেচুরে সবকিছু মিছমার করে। বিজলি হয়ে চমকে দিতে থাকল চতুর্দিক, বজ্র হয়ে নামতে লাগল আর বর্ষা হয়ে তীরের মত বিঁধতে লাগল সবকিছু। 
অনেককালের চেনা একটা জগৎ যেন তার সামনে দণ্ডায়মান, তার শক্তিতে মূঢ়। এই ভূবনকে সে জানত একসময় অন্যভাবে অন্যরূপে। সে তার বর্তমান ও অতীতের মাঝখানে দাঁড়াবার চেষ্টা করছে। একটা অদ্ভুত সুন্দর অতীত যেন তাকে ছুঁয়ে যাচ্ছে। তার বর্তমান সেই অতীতের উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে দুর্ণিবার গতিতে।
তার ফেলে আসা সবকিছু যখন চোখের সামনে ধীরে ধীরে মূর্ত হচ্ছে সে বুঝতে পারল তার চোখ ভারী হয়ে আসছে। নিজেকে সামলে রাখতে পারছে না। চোখ বেয়ে পানি পড়তে লাগল পুরনো সেই ভূখণ্ডের ওপর। সেই গাছপালা, পুকুর, ঘাস আর সেই ঘর। পুরনো জংধরা চালাবাড়ি। 
আবেগ আর ধরে রাখতে পারল না সে, ফেটে পড়ল। ওই যে মায়ের গলা শোনা যাচ্ছে। অবশ্যই মায়ের কণ্ঠ! এ বিষয়ে ভুল হতে পারে না। নিয়তি তাকে ব্রহ্মাণ্ডের যে প্রান্তেই নিয়ে যাক আর যত সহস্রাব্দ লটকে রাখুক না কেন, মায়ের ফিসফিসটাও যদি সে টের পায় হাজার মাইল দূর থেকে তার ভুল হবে না, চিনে নেবে ঠিক। 
সেই কণ্ঠ শুনে সে আর নিজেকে সামলে রাখতে পারল না। কিছুক্ষণ নীরব হয়ে থাকল, মুখ থেকে কথা সরছে না। একটা পাথরের টুকরো যেন আটকে আছে জিভের গোড়া আর তালুর মাঝখানে। অনেক কষ্টে যখন পাথরটা সরাতে সক্ষম হল ডেকে উঠল সে, “মা!”
 
(৭)
তখন ভোররাত। আনোয়ারা খাতুনের চোখ গর্তে ঢুকে পড়েছে। একপাশে আক্তার হোসেন ফোলাফোলা চোখে ভঙ্গুর মুখ নিয়ে বসে আছেন। নাজমা খাতুন অন্যপাশে বসে মায়ের মুখে চামুচে করে পানি দিচ্ছেন। অত্যন্ত ধীরে জিভ নেড়ে সেই পানি গলায় নেয়ার চেষ্টা করছেন আনোয়ারা। জামাই নিচে পাটি বিছিয়ে রেহালের ওপর কুরআন রেখে সশব্দে পড়ে যাচ্ছেন সূরা ইয়াসিন। রানুর ঘুম ভাঙানো হয়েছে, ঘুম জড়ানো চোখে সে মাথার কাছটায় বসে নানির শূন্য চোখের দিকে চেয়ে আছে। আনোয়ারার দাঁত বেরিয়ে পড়েছে, গালের চামড়ায় কোন তৈলাক্ততা অবশিষ্ট নেই, সবকিছু কেমন শুষ্ক। আনোয়ারা একবার রানুর দিকে চোখ ঘোরালেন, কিছু একটা বলতে চাইলেন, কিন্তু মুখে কিছু সরল না।
 
বিপীন ডাক্তার সকালে এসে নাড়ী ধরে বেশ কিছুক্ষণ বসেছিলেন। আগের ঔষধ চালাতে বলে গেলেন, ভালোর দিকে যাবে তেমন কোন আশ্বাস দিয়ে যেতে পারেননি, বরং শঙ্কার কথাই বলে গেছেন, যা খেতে চায় খাওয়াতে বললেন। শহরের হাসপাতালে নিয়ে যাবার কথা আর কেউ ভাবেনি, শরীরের যা অবস্থা! আর রেওয়াজটাও তো নেই।
 
গত দু’তিনদিন ধরে অবস্থা ক্রমশ খারাপের দিকে গেছে। এখন এই ভোররাতে সবাই শুধু অপেক্ষার প্রহর গুনছে।
 
আনোয়ারার সামনে হঠাৎ যেন আকাশটা খুলে গেল। জোছনায় ধোয়া আকাশ, সন্ধ্যারাতের তাজা জোছনা নয়, ভোররাতের মিইয়ে যাওয়া জোছনা। হ্যারিকেন আর কুপির আলো ঘরের যে সমস্ত কোন পর্যন্ত পৌঁছতে পারেনি, সেসব কোনও আলোকিত হয়ে উঠল, আনোয়ারা খাতুন বিস্ফারিত চোখে দেখতে লাগলেন। অনেক দূরে শুনতে পেলেন, রানুর ঘুঙুরের রিনিঝিনি, লাফিয়ে লাফিয়ে খেলছে সে, মুখটা কাছে আসতে তিনি আবিষ্কার করলেন এ তো রানু নয়, তার নিজের মুখ, তার শৈশব, মোহনভোগ আমের তলায় তার খেলনা বাড়ি। শুনতে পেলেন দূরে কোথাও ভোরের মৌনতাকে কাঁপিয়ে দিয়ে জামাই বজলুল হুদা সূরা ইয়াসিন পড়ছে সুর করে। কিন্তু কাছে যেতেই তার বাবার গলা শুনতে পেলেন, সুর করে পুঁথি পড়ছেন, কণ্ঠে আবেগের উচ্ছাস, পাশে বসে তিনিও শুনছেন, চোখ বেয়ে পানি নামছে দুজনেরই। আক্তার হোসেনের ছিটপড়া টুপি দেখতে পেলেন বাঁশের আগায় ঝুলছে, আর তিনি বাঁশতলায় কী যেন খুঁজে বেড়াচ্ছেন, কাঠবাদামই হবে, বাঁদুড় মুখে নিয়ে কামড়ে কামড়ে বাঁশঝাড়ে ফেলেছে, রানু যেদিন বাড়ি আসবে পাশে বসিয়ে কেটে খাওয়াবেন। অভাগী নাজমাকে দেখতে পেলেন বাগানের কাছটায় অন্ধকারের ভেতর দাঁড়িয়ে আছে, দুএকটি চুলে পাক ধরেছে, শুধু সেগুলোই যেন অন্ধকারে একটি রেখাচিত্র তৈরি করে দিয়েছে ওর, বড় মৌন, নিঃশব্দ, ঠোঁট দিয়ে ওষ্ঠ চেপে ধরেছে।
 
আনোয়ারার ঠিক পায়ের কাছটায় এসে বসল নীলু। চেহারাটা বড়ই ফ্যাকাসে, ব্যাঙের ছাতার মত। নিষ্পলক চেয়ে আছে আনোয়ারার দিকে। নীলুর ঠোঁট নড়ে উঠল, “মা!”
আনোয়ারার মনটা ভরে গেল। এমন মা ডাক কতদিন শোনে না, কেউ কি এমন করে ডাকে কখনও? তার চোখে পানি জমে উঠল, ভিজে উঠল চোখের গহ্বর। সে আবেগতাড়িত হয়ে বলল, “নীলু তুই নিবি আমারে?”
নীলু উঠে দাঁড়াল, ঘুরে মায়ের মাথার কাছটায় এসে কপালে হাত রাখল, চুলে আলগোছে আঙুল সঞ্চালন করে বলল, “তোমার কি ভাল লাগছে মা?”
আনোয়ারা যেন প্রাণ ফিরে পেলেন, তার শরীরে কেমন একটা তরঙ্গ খেলে যেতে লাগল।
নীলু যেন একটা ঝটকা খেল কোথাও, আনোয়ারা বুঝতে পারছে নীলু দূরে সরে যাচ্ছে। নীলু শুধু বলতে পারল, “সময় হয়ে গেছে মা!” সে তার হাত বাড়িয়ে দিল। আনোয়ারা তার সর্বশক্তি দিয়ে বাম হাতের তর্জনী বাড়িয়ে দিয়েছে, নীলু ডান হাতের তর্জনী দিয়ে মায়ের বাড়িয়ে দেয়া আঙুল ছুঁয়ে দিল। তর্জনী বেয়ে আনোয়ারার শরীরে কী যেন একটা আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ল, প্রতিটি রক্তকণায় ঢেউ উঠে গেছে, জোছনা উজ্জ্বল হতে হতে যেন সূর্যের আলো হয়ে উঠল, সূর্যের আলো উজ্জ্বল হতে হতে যেন সবকিছু ভয়ংকর সাদা হয়ে উঠল। আনোয়ারা আলোয় হাবুডুবু খেতে লাগলেন, আলোর বান তাকে এক ঝটকায় ছিন্ন করে ফেলল বিছানা থেকে, ভাসিয়ে নিয়ে যেতে লাগল নিরেট ভয়ংকর সাদা আলোর মহা বুদবুদের ভেতর। তিনি তার সমস্ত শক্তি জড় করে একটা চিৎকার করলেন। অপ্রত্যাশিতভাবে তার চিৎকার মহাপ্রলয়ের ধ্বনির মত সমস্ত চরাচর কাঁপিয়ে সমস্ত আলো দপ করে নিভিয়ে দিল।
 
সবকিছু তখন অন্ধকারে পতিত হল।
 
বজলুল হুদার কুরআন পাঠ থেমে গেছে। অদ্ভুত এক নিরবতা নেমে এল ঘরের ভেতর, যদিও তা খুবই স্বল্প সময়ের জন্য। তবে প্রথমে যার শব্দে মৌনতা ভাঙল, সে এক রাত ভাঙা ভোরের পাখি। সে না জেগে উঠলে মৌনতা হয়ত আরও প্রলম্বিত হতো।
লেখার ধরন: 
12345
Total votes: 170

মন্তব্য