slideshow 1 slideshow 2 slideshow 3

You are here

চাপাতির ভয়ে ভীত লুম্পেন বুদ্ধিজীবীরা

আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছে। বুদ্ধিজীবী, লেখক টেলিভিশনের উপস্থাপকও আতঙ্কিত। বিদেশি পত্রিকায় সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। আর্তি, জঙ্গিরা মেরে ফেলবে। ঘর হতে বের হতে ভয় পাই। অফিসে যেতে ভয় পাই। ড্রাইভারকে ভয় পাই। প্রাণ উষ্ঠাগত। আমাদের নিরাপত্তা দিন। বাসার সামনে। চলার পথে পুলিশ দিন। তারপরে পুলিশকেও মেরে ফেলেছে জঙ্গিরা। এটি অবশ্য টার্গেট করে হত্যা না। হত্যাকারী অন্য কাউকে হত্যা করতে যাচ্ছিল। পথে পুলিশ বাঁধা হয়ে দাড়ালে তাকেই হত্যা করা হয়েছে। টার্গেট হত্যাও কিছু হয়েছে। পিছন থেকে লুকিয়ে কুপিয়ে কিছু সাধারণ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকান্ডকে বলা হচ্ছে ইসলাম রক্ষার হত্যা কান্ড। অন্ত্যত যারা হত্যার দায় স্বীকার করে বিবৃতি দিচ্ছেন তাদের দাবি এরকমই। আবার কিছু লোকের নাম ধরে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের তারা ভবিষ্যতে হত্যা করবে। এই অবস্থায় আতঙ্কিত হয়ে কিছু লোক দেশ ছেড়ে যাচ্ছেন। সমুদ্র পাড়ি দিয়ে লেখা পড়া্ না করা মানুষ এমনেতেই দেশ ছাড়ে। কিন্তু পড়া লেখা করা মানুষ একটু ফন্দি করে দেশ ছাড়ে। তাই তারা আতঙ্ক নামের একটি ফন্দি বের করেছেন। বিদেশে এটাকে বলে রাজনৈতিক আশ্রয়। দেশে বই লিখে বা শিল্প সংস্কৃতি করে খুব একটা উপার্জন হয় না। বিদেশে আশ্রয়ের ভাতা অনেক বেশি। নিশ্চিন্তে লিখা যায়। দেশেও কদর বাড়ে।
যাই হউক আমি এই প্রক্রিয়াটার বিরোধী নই। যেযেভাবে পারে করে খাক। আমার বিষয়টা হলো, জঙ্গি নামের যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছে তা আসলে কী বড় আতঙ্ক? আমি ১৯৭১-৭২ সালের নকশাল, সর্বহারা, বা গণবাহিনী আন্দোলনের কথা বলতে চাচ্ছি। সিরাজ সিকদারের দখলে দেশের অর্ধেক ভূখন্ড। তার প্রশিক্ষিত বাহিনি রয়েছে। তাদের প্রত্যেকের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র। তারা প্রতিদিন মানুষ মারছে। জোতদার মারছে। তাদের বিরোধীদের মারছে। এমনকি নিজেদের লোক যারা বিরোধিতা করছে তাদেরও হত্যা করা হচ্ছে। ব্যাংক লুট করা হচ্ছে। ওই আতংককি এই জঙ্গী আতঙ্কের চেয়ে কম ছিল। পরিসংখ্যান কিন্তু বলে কয়েক হাজার গুণ বেশি ছিল। সর্বহারার দাবি অনুযায়ি তারা দেশে বিপ্লবের শত্রু ২৫ হাজার মানুষকে হত্যা করেছিল। আর সরকারের দাবি ছিল তারা ৫০ হাজারের মতো বিপ্লবি হত্যা করেছিল। তবে এই বিপুল হত্যার মধ্যেও কিন্তু লেখক বুদ্ধিজীবীরা দেশ ত্যাগ করেননি। তারা সাহস করে কথা বলেছেন। ওই সময়েই বাংলাদেশের সবচেয়ে েতাখর বুদ্ধিজীবীরা তাদের লেখনি চালিয়েছেন। প্রকাশ্যেই সভা সেমিনার করেছেন। কাউকে দেশ ত্যাগ করতে হয়নি। ওই সময় টিভি উপস্থাপকরা অতটা গনমাণ্য হননি। তাই তাদের কেউ হত্যার চিন্তা করতো না। শুধুমাত্র প্রেম নিয়ে সমস্যায় বুদ্ধিজীবী হুমায়ুন কবীরকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। আর দাউদ হায়দার নামে একজন কবি ইসলাম বিরোধিতা করে জার্মানিতে গিয়েছিলেন। তাহলে এখন লেখকদের মধ্যে বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে এত ভয় কেন? আমার মনে হয়েছে, লেখকরা এখন আগের চেয়ে বেশি সম্পদশালী। আগের ভুখা বুদ্ধিজীবী এখন অনেক সম্পদশালী। স্বাধীনতার পরে অনেকগুলো াগনতান্ত্রিক সরকারের সহযোগীতা করে তারা অনেকেই ঢের কামিয়েছেন। তাদের সন্তান সন্ততি হয়েছে। বাংলাদেশের গণ মানুষের বিপক্ষে যায় এমন সব কিছুকে নীরবে সমর্থন করে নিজেদের মূল্যবোধ হারিয়েছেন। আর টেলিভিশনের উপস্থাপক তাদের তো মারহাবা অবস্থা। আয়ের সঙ্গে জীবন যাপনের মিল পাওয়া যায় না। এই লুম্পেন বুদ্ধিজীবীদের সব কিছুতেই আতঙ্ক। তার সম্পদ হারানোর আতঙ্ক। অনেক সময় সম্পদ রক্ষার আতঙ্ক। না হলে লুকিয়ে চোরের মতো চাপাতি ওয়ালাদের ওরা ভয় পাবে কেন। এটা ভয় পাওয়ার মতো কিছু হলো। কয়েকটা জংলি মানুষ চাপাতি নিয়ে ঘুরে বেড়ালেই কী আতঙ্ক হয়ে যায়। এখানে আমাদের অর্থনীতি নামের একটি পত্রিকায় শাহরীয়ার কবীরের সাক্ষাৎকারটি খুব মজার। তিনি মজা করেই বলেছেন আরে ২৫ বছর ধরে আমাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। উল্লেখ্য, চাপাতি উয়ালাদেরও বলি, চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে কোন কিছু অর্জন করা যায়না। বাংলাদেশে কোন ধরণের গেরিলা আক্রমন সম্ভব না। এর বিপুল জনসংখ্যা ও মানুষের মানসিক গঠনের জন্যই এটা সম্ভব নয়। এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ সিরাজ সিকদার। সুতরাং আপনারাও চিন্তা করুন।

12345
Total votes: 213

মন্তব্য

শশাঙ্ক বরণ রায়-র ছবি

চটকরে একমত হয়ে যাওয়া কোন কাজের কথা নয়। সুতরাং আপনারাও চিন্তা করুন।

........................................................

আদিবাসী বাঙ্গালী যত প্রান্তজন
এসো মিলি, গড়ে তুলি সেতুবন্ধন

মন্তব্য