slideshow 1 slideshow 2 slideshow 3

You are here

জাহাঙ্গীরনগরে মার খাওয়া একজন সংস্কৃতিকর্মীর কিছু কথা ছিল......

আমি খুব সাধারণ পরিবারের ছেলে। বাবা হোমিও ডাক্তার আর মা গৃহিনী। বাবা-মার ইচ্ছে ছিল আমি বড় ইঞ্জিনিয়ার হব। বুয়েটে পড়ব। বাবা মায়ের স্বপ্ন রাখতে পারিনি। ভর্তি হয়েছি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত বিভাগে (বর্তমানে দুটিরই অচলাবস্থা)। বাবা তবু আশা দেখেন আমি বড় গণিতবিদ হব। তিনি প্রথম আলোর প্রতিটি গণিত ইস্কুলের সংখ্যা পড়েন আর আমাকে পড়তে বলেন। বলেন, পড়াশুনা কর বড় হতে হবে গবেষক হতে হবে। কিশোর বয়স থেকেই মুহম্মদ জাফর ইকবালের লেখা পড়েছি। বাবার কাছে শুনেছি বিশ্বযুদ্ধের গল্প, মুসোলিনি-হিটলারের গল্প, মুক্তিযুদ্ধের গল্প যৌবনে পড়েছি হাসান আজিজুল হক, হুমায়ুন আজাদ, তসলিমা নাসরিন, সুনীল, সমরেশ আর তারাশঙ্কর, বিভূতি, মানিক এখনো আমদের আড্ডার বিষয়বস্তু। শুধু পড়াশুনাই করে যাইনি, তার পাশে যোগ হয়েছে অভিজ্ঞতা। ভাই  হারানোর অভিজ্ঞতা, স্বপ্ন ভাঙ্গার অভিজ্ঞতা। সর্বশেষ অভিজ্ঞতা হল এক নায়ক ডঃ শরিফ এনামুল কবিরের স্বৈরাচারিতার বলি হবার অভিজ্ঞতা। একাত্তরের পাকিস্তানের পা চাটা দালালেরা আজ যে সব ঘাতক পয়দা করে রেখেছে আমাদের আশেপাশে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পঠনরত অবস্থায়, সেই জামাত শিবির হত্যা করেছিল আমার বড় ভাই দেবাশীষ ভট্টাচার্য্য রূপমকে। তাই মনে মনে শিবিরের প্রতি একরাশ ঘেন্না বয়ে নিয়েই বেড়াতাম। পারিবারিক নিষেধাজ্ঞা থাকায় আমি এর আগে কখনও নিজেকে দেবাশীষের ভাই বলে পরিচয় দেই নি। কিন্তু আজ পরিচয় দিচ্ছি। আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের নোংরা রাজনীতি আমাকে বাধ্য করছে। কারন যে জামায়াত-শিবিরের প্রতি ঘেন্না সারা জীবন মনে পুষে এসেছি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা চাইতে গেলে তারা বলে তারা নাকি আজ আমার পরিচয় খতিয়ে দেখছে- আমার বা আমার সাথে যারা মার খেয়েছে তাদের কারো সাথে ইসলামী ছাত্র শিবিরের কোনও যোগাযোগ আছে কিনা (তাদের কথা শুনে মনে হয় তারা মোটামুটি নিশ্চিত আমি বা আমরা শিবিরের দোসর) এবং আমাদের নির্মূল করার কাজে তার লাঠিয়াল বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল তারা তাদের কাজ সুসম্পন্ন করে এখন সাধারণ ছাত্রদেরও জোর করে ধরে বের করে নিয়ে গিয়েছে মিছিলে। প্রশাসনের প্রশংসা কুড়াচ্ছে আর উপাচার্যের বাসার সামনে দাঁড়িয়ে তাকে পাহাড়া দিচ্ছে।

আমরা যদি শিবির কর্মী হই তবে যারা আমাদের পেটালো তাদের নিশ্চয় শিবির বিরোধী হবার কথা। তারা আমাদের বলে গেল যে তারা ছাত্রলীগ। ক্যাম্পাসের ছাত্রলীগ কর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী জাহাঙ্গীরনগরে কোনো ছাত্রদল নেই (আমাদের পেটানোর আগ পর্যন্ত আমি জানতাম শিবিরও নেই)। এখন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি বলছে যে জাহাঙ্গীরনগরে কোনো ছাত্রলীগও নেই সব নাকি শিবিরে ভরে গিয়েছে, তারাই সন্ত্রাস করছে। আর তারাই (কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ যাদের শিবির ও সন্ত্রাসী বলেছে) কিন্তু এখন উপাচার্যের বাসভবন পাহাড়া দিচ্ছে।

প্রশাসন তো আমাদের শিবির বলে পেটালেন। যাদের ব্যানারে পেটালেন এখন তাদের মাথারা বলছে তারা ছাত্রলীগ নয় তারা শিবির। শিবির তাহলে কারা? তার মানে প্রশাসন শিবিরের পৃষ্ঠপোষক । এই কারণেই যারা নাটক করে, গান করে, কবিতা আবৃত্তি করে তাদের প্রতি প্রশাসনের এত ক্ষোভ!

আমরা উপাচার্য পতন নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছিলাম না। আমরা অচলাবস্থা সচল করার কথা বলছিলাম। আলোচনা করে হোক, বা উপর মহলের হস্তক্ষেপের মাধ্যমেই হোক আর সরি বলেই হোক। আমরা চাইছিলাম ক্লাস হোক, পরীক্ষা হোক। (বিশ্বাস না হলে জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের এগার দফা দাবির তালিকা পড়ে দেখতে পারেন এক নম্বর দাবিতেই পাবেন। প্রেস ব্রিফিং-এও একই কথা বলেছি।) কিন্তু আজ আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যতই প্রিয় পাত্র হোক, যে শিক্ষক তার ছাত্রদের চেয়ে তার ক্ষমতাকে বেশি ভালোবাসে, যে মানুষ সংস্কৃতিকর্মীদের পেটাতে দ্বিধা করে না। যে মানুষ ক্ষমতা ধরে রাখার জন্যে তার ছাত্রদের সন্ত্রাসী করে গড়ে তোলে। স্বৈরাচারিতার মাধ্যমে ক্যাম্পাসে অচলাবস্থা তৈরী করে। শিক্ষার মান উন্নয়নের বদলে অযোগ্য শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্ঞান চর্চা ও গবেষণার পরিবেশ দূষিত করে। তাকে সরকার উপাচার্য হিসেবে চাইতে পারেন (যেহেতু তার অরিজিন গোপালগঞ্জ) চিন্তাশীল শিক্ষার্থী, ছাত্র-বুদ্ধিজীবী-মুক্তচিন্তার অধিকারীরা কেউ চাইবেন না।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা ও শিক্ষা প্রদান পদ্ধতি সম্পর্কে কখনও কোনও তদন্ত হয়েছে বলে আমার জানা নেই। হলেও তা অযোগ্য লোকদ্বারা পরিচালিত হয়েছে অথবা এর রিপোর্ট নিয়ে কেউ মাথা ঘামায়নি। আজকাল জাহাঙ্গীরনগরে ডিপার্টমেন্টগুলোকে অনেকেই গর্ধভ বাছাই কেন্দ্র বলে ডাকে। আমাদের গণিত বিভাগে ভর্তি হবার পর পরই আমি জানতে পারলাম যে থিয়োরি বুঝার চেষ্টা করে  লাভ নাই। যে যত ভালো অঙ্ক মুখস্থ করতে পারে তার রেজাল্ট তত ভালো হবে। হচ্ছেও তাই। আমরা বটতলায় আলোচনা করতাম। কি করবার আছে? ভবিষ্যতে কি হতে যাচ্ছে? শিক্ষকেরা ক্লাস নিতে পারেন না অথচ তাদের ক্লাসে এটেন্ড না করলে মার্ক কমে যাবে? যারা পড়াতে পারেন না, নিজেরাই বুঝেন না তারা আমাদের খাতার মূল্যায়ন কিভাবে করবেন? তাঁদের কোনোরকম জবাবদিহিতার মুখোমুখী হতে হয়না বলে প্রত্যেকে নিজেকে ঈশ্বর ভাবেন এবং শ্রেণীকক্ষে ও বাইরে তাঁরা নিজেকে শিক্ষার্থীদের সামনে সেভাবেই উপস্থাপন করেন। উপস্থিতি ও ব্যবহারিক নম্বর তাদের হাতে কুক্ষিগত থাকায় শিক্ষার্থীরা তাদের সামনে সমালোচনা করতে ভয় পায়, তাদের বিরোধিতা করতে পারে না, তাদের ভুল ধরতে পারে না। অযোগ্য শিক্ষকের দাপট আরো বেড়ে যায় যখন তাঁরা প্রশাসনিক গুরুত্বপুর্ণ পদে নিয়োগ পান।

অযোগ্য শিক্ষক যারা জ্ঞান চর্চার পরিবর্তে ক্ষমতা চর্চা করছেন, ক্লাসে তাদের কেউ কেউ ছাত্রদের হুমকিও দিয়েছেন- তাদের বিরুদ্ধে কথা বললে শিবির বলে হল থেকে বের করে দেবেন- এবং ক্ষমতা পোক্ত করতে এঁরা উপাচার্যকে নিয়মত তেল মর্দন করছেন তার দারোয়ান হয়ে পিছনের ফটক পাহাড়া দিচ্ছেন। তাদের হুমকি উপেক্ষা করে আমরা কথা বলেছিলাম। তাই আমাদের শিবির বলে পেটানো হয়েছে। ক্যাম্পাসে ফিরে যেতে  চাইলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

এই উপাচার্য তার সময়কালে ২০০ শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন। তাদের মধ্যে হাতে গোণা কয়েকজন ক্লাস নিতে পারেন। উপাচার্য বলছেন তারা গোল্ড মেডেলিস্ট/ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট-সেকেন্ড। কিন্তু আমরা ক্লাস থেকে বের হয়ে অবাক হয়ে ভাবি আমরা যেটুকু জানি ওই গোল্ড মেডেলিস্ট বোধয় তাও জানেন না। ছাত্র জীবনের নোট হুবহু বোর্ডে কপি করে দিয়ে বের হয়ে যান। এর বদলে আমাদের হাতে সিলেবাস ধরিয়ে দিলেই হয়। বললেই হয়- লাইব্রেরিতে বই আছে, বিগত সালের প্রশ্ন আছে-পড়ে নিও।

তাহলে প্রশ্ন কাদের ফার্স্ট বানানো হয়? কিসের মূল্যায়নে বানানো হয়? এবং কেন এই অযোগ্যদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়? নিয়োগ পাবার পরও তাদের মধ্যে যোগ্য হয়ে ওঠার প্রবণতা নেই কেন? তা সবাই ভালো করেই জানেন। এরা পা চাটতে দ্বিধা করবে না এটাই সবচেয়ে বড় যোগ্যতা। এদের মাথা কিনে নেবার কাজটা নিখুঁতভাবে করা হয়েছে। বর্তমানে প্রক্টর বা সহকারী প্রক্টর হবার যোগ্যতা অভিজ্ঞতা অথবা পারঙ্গমতা নয়, বুদ্ধিবৃত্তিও নয়। যোগ্যতা হল তৈল মর্দন ক্ষমতা ও দালালগিরি যার কারণে নব নিযুক্ত শিক্ষকেরাই বসছেন সে সব চেয়ারে। যারা ছাত্রজীবনে ক্যাডার ছিলেন তারা অগ্রাধিকার পাচ্ছেন। যোগ্য শিক্ষকদের পার্মানেন্ট করা হয়না পাছে তারা উপাচার্যের বিরুদ্ধে কথা বলেন। লাইব্রেরির অধিকাংশ কর্মকর্তা ভারপ্রাপ্ত আছেন দিনের পর দিন। যে সব শিক্ষক  গবেষণা ও মুক্ত চিন্তা করেন, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কথা বলেন বা সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে যুক্ত আছেন- তাদের প্রমোশন বিলম্বিত হয়, তাদের গ্যরেজ নিয়ে হয়রানী করা হয়, বাস ট্রান্সপোর্ট নিয়ে ঝামেলা পাকিয়ে বিনা নোটিশে বেতন কর্তন করা হয়। তাই তাদের মত অনেকেই উপাচার্যের অনাচার মুখ বুজে সইছেন বা এসব আন্দোলনের কাজে আসছেন না।  উপাচার্যের কত ক্ষমতা (তার উপর যদি তিনি মন্ত্রীসভার প্রিয়পাত্র হন) তা আমাদের থেকে তারা অনেক ভালো জানেন।

না জানার বা কম জানার ফলেই হয়ত আমরা শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ চেয়েছিলাম। ভয় পাই নি হায়নার নখ আছে ভেবে- কারণ জানতামনা হায়নারা কালসাপের দাস। ভয় পাইনি সর্পের মুখে বিষ আছে ভেবে। কারণ জানতামনা কালসাপ সরকারের পোষ মানা।

আমাদের শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। আমি ধারণা করেছিলাম আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় অন্তত একজন মেরুদণ্ড ও মস্তিষ্কবিশিষ্ট  মানুষ এসেছেন। কিন্তু তাঁর বক্তব্য শুনে মনে হচ্ছে তিনি তথাকথিত ক্ষমতার গণতন্ত্র বিশ্বাস করেন সংস্কৃতি কর্মী আর লাঠিয়াল ক্যাডারদের মধ্যেকার তফাত তিনি জানেন না।

চ্যান্সেলরকে বলছি, আপনার বিশ্ববিদ্যলয়ের এতগুলো ছাত্র মার খেয়েছেন। অনশন করেছেন। অসুস্থ হয়ে পরেছেন। আপনি নাকে তেল দিয়ে ঘুমচ্ছেন। একবার খোঁজ নেন নি। এরা যদি ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীও হোত আপনি অসুস্থ শরীর নিয়েও দেখতে যেতেন। বলতেন, দোষীদের গ্রেফতার করা হবে, তোমাদের দাবী বিবেচনা করা হবে। এটাই কি আমাদের দোষ যে আমরা নাটক করি? গান করি? স্বপ্ন দেখি? স্বপ্ন দেখতে বলি? এটাই কি আমাদের দোষ যে আমরা সুশিক্ষক চাই? সুশিক্ষা চাই? গবেষণার সুযোগ চাই? সবুজ সুন্দর জাহাঙ্গীরনগর চাই? আপনারা বললে বলতেও পারেন এ দাবি আমাদের অন্যায় অন্যায্য।

তবুও আশা করছি পা ভালো হলে ক্যাম্পাসে ফিরে মুক্তমঞ্চে আবার নাটক করবার জন্যে দাঁড়াতে পারব। মুক্তমঞ্চে হামলা করার মত কোনও সন্ত্রাসী, লাঠিয়াল সেখানে আমাদের পেটাতে  ওঁৎ পেতে থাকবে না। কোনো স্বৈরাচারী শাসক সন্ত্রাসী বা ক্যাডারদের বেছে বেছে শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ দেবে না। শিক্ষাগত যোগ্যতার মানসম্পন্ন একটা সনদ নিয়ে এই ক্যাম্পাস ছাড়তে পারব। যদিও এই ব্লগ প্রকাশ হবার পর সে সম্ভাবনা খুব ক্ষীণ- যেখানে রাষ্ট্রযন্ত্র সন্ত্রাসীর পক্ষে কথা বলছে আর শিল্পী মেরে মনে করছে (অথবা সাফাই দিচ্ছে) শিবির মেরেছি।

আমাদের সাথে আমাদের বন্ধুরা আসছেন না। রাষ্ট্রযন্ত্র আমাদের বিপরীতে কথা বলছে। কেউ ভয়ে, কেউ স্বার্থে। আমরাও নিঃস্বার্থ নই। আমরা বৃহত্তর ছাত্রগোষ্ঠীর স্বার্থে, আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের স্বার্থে কথা বলছি আর মার খাচ্ছি, অবহেলিত হচ্ছি। আশা করি দেশের মাথা বলে যাদের অভিহিত করা হয়, দেশ পরিচালনার হাল যাদের হাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারবেন।

12345
Total votes: 332

মন্তব্য

ভয় পাইস না, আমরা মরি নাই। স্রেফ অ্যানিম্যাল বাইনচোদদের কাজ কামই এমুন। মাদারচোদদের কিলাইয়া থুতনা না ফাটান পর্যন্ত শালারা জাত হইব না।

মাথা মোটা কুকুর গুলো পা চাটা ছাড়া আর কিছুই শেখে নাই, শুধু সার্টিফিকেট অর্জন ছাড়া। সার্টিফিকেট এ গোল্ড মেডেল পেলেই মেধাবী হওয়া যায় না, গাধারা এইটাও বোঝে না । যার জ্ঞান বিতরণ করার কথা, সে যদি রাজনীতি করে বেড়ায় তাহলে ছাত্ররা জ্ঞান কি আসমান থেকে পাবে !

ভাই কি আর বলব জাদের কে teacher হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে তারা ত ঠিক মত কথাই বলতে পারে না..........এরা কিভাবে Goldmedelist হয়। VC এর বুঝা উচিত ছিল যে একজন খারাপ শিক্ষক যে কতজন খারাপ ছাত্র সৃষ্টি করবে। দেশের জন্য এর চেয়ে বড় ক্ষতি আর কি হতে পারে

ধুয়ে যাক এ পঙ্কিলতা
জুয়েল থিওটোনিয়াস, শিক্ষার্থী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
julu_almost_human@yahoo.com

রাজনীতির উর্ধ্বে বা বাইরে কেউ নয়। রাজনৈতিক কর্মী বা রাজনীতিক হলেই যে রাজনীতি করা হয়, আর তা না করলে রাজনীতি করা হয় না, তা কিন্তু নয়। যে কাজই করা হোক, তা রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত এমনকি কোনটা ওতপ্রতোভাবেও জড়িত। রাজনীতি করা প্রত্যেকের নাগরিক এবং রাজনৈতিক অধিকার। এতো গেল অনুষঙ্গ, এবার প্রসঙ্গে আসা যাক।

এ লেখাটি শিক্ষাঙ্গন রাজনীতি নিয়ে, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের। বহুদিন ধরেই শিক্ষাঙ্গনে ছাত্র এবং শিক্ষক রাজনীতির নামে যে সকল অপকর্মের চর্চা চলছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক, সেই সাথে লজ্জাজনকও বটে। ক্ষমতাসীন (এ পর্যন্ত ক্ষমতায় যারা এসেছে) দলের শিক্ষক-ছাত্র, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এবং ধর্মকে পুঁজি করে যারা ধর্ম ও রাজনীতিকে কলুষিত করছে, তারা সকলেই যে ধরণের রাজনৈতিক সংস্কৃতির ধারক-বাহক হচ্ছেন, তাতে করে শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ আর সুস্থ-স্বাভাবিক হতে পারছে না। নেতৃত্ব গঠনে ও বিকাশে ছাত্র-রাজনীতির প্রয়োজন আছে। সাধারণত শিক্ষার্থীরা যে ধরণের রাজনীতি করেন শিক্ষাঙ্গনে, তার জন্য কমবেশি তারা শিক্ষক এবং কর্মকর্তাদের সহযোগিতা-দিক নির্দেশনা নিয়ে থাকেন, অনেক সময় সিদ্ধান্তও নিয়ে থাকেন। বিষয়টি ইতিবাচক। কিন্তু নেতিবাচক তখনই, যখন অভিভাবকপ্রতিম শিক্ষক ও কর্মকর্তারা তাদের হীন স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার হিসেবে শিক্ষার্থীদের কাজে (কুকাজে) লাগায়। অবশ্য এর জন্য সেসব শিক্ষার্থী উপঢৌকন পেয়ে থাকেন। এক পর্যায়ে সেসব শিক্ষার্থী এ ধরণের কু-সংস্কৃতিরই চর্চা চালায় এবং আপন স্বার্থে অন্ধ হয়ে তারা লোভ-লালসা, হিংসা-প্রতিহিংসা, অসহিষ্ণুতায় এতটাই মত্ত হয়ে ওঠে যে নিজেরা তো ধ্বংসের দিকে ধাবিত হয় হয়ই, সাথে শিক্ষাঙ্গনে ভিন্নমতের শিক্ষার্থী, সাধারণ শিক্ষার্থী, এমনকি নিজ ঘরানার শিক্ষার্থীরাও তাদের আগ্রাসন থেকে ছাড় পান না।

ছাত্র-রাজনীতি নামক পবিত্র সংস্কৃতির নামে ঠিক তার বিপরীত যে চর্চা, তার মধ্য দিয়ে তাদের যে অধঃপতন, এর দায়ভার কার? অভিভাবকরা যে স্বপ্ন ও আশা নিয়ে সন্তানদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠান তা কতটুকু পূরণ হয় (পূরণ না হবার অন্য কোন কারণে যেতে চাইছি না) যদি সে সন্তানেরা অপ-রাজনীতির পাল্লায় পড়ে নিজেরাই তার ধারক-বাহক হয়? শিক্ষাঙ্গনে যে অভিভাবকপ্রতিম শিক্ষকরা নিজেদের অপকর্মের ভাগিদার-হাতিয়ার হিসেবে সন্তানপ্রতিম শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করছেন, তারা কি অভিভাবক, নাকি অন্য কিছু? মূলধারার রাজনীতিতে তো গলদ আছেই, শিক্ষাঙ্গনেও তার প্রভাব বিরাজ করছে। ব্যাপার হচ্ছে, এসব অপকর্মের বলি কিন্তু শিক্ষার্থীরাই হচ্ছেন এবং মারাত্মকভাবেই হচ্ছেন, শিক্ষকরাও হচ্ছেন কিঞ্চিৎ। এ থেকে বেরিয়ে আসতে যে নির্ভীক সংগ্রাম চলছে তাকে সাধুবাদ, যারা সংগ্রাম করছেন তাদের অভিনন্দন। তবে এ সংগ্রামের মধ্যেও যাতে গলদ না থাকে সে দিকেও লক্ষ্য রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন।

যেখানেই হতাশা, সেখানেই আশান্বিত হবার মাত্রা কয়েকগুণ বেশি। সেই সাথে ইতিবাচক মনোভাবও জিইয়ে রাখতে হবে। প্রকৃত অর্থে কেউ চায় না, দুষ্টু লোকের পতন হোক বরং লোকটির যে দোষ-পঙ্কিলতা, সেটার পতন হোক, তাই চায়। কাজেই ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে সকলেরই আশা থাকবে, রাজনীতির নামে যে অপকমের্র চর্চা চলছে তা দূর হবে এবং অপকর্মচর্চাকারীরা তাদের অপকর্মের পঙ্কিলতা ধুয়ে ফেলে প্রগতির যাত্রায় যাত্রী হবেন। আর যদি তারা তা না করেন, তবে সচেতন-সংগ্রামীদের সঙ্গে ক্ষণিকের জন্য নয় বরং সবসময়ের জন্য সাধারণেরাও অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবিরাম সংগ্রামে চালিয়ে যাবে এবং অন্যায়ের পরাজয় হবেই হবে। কেননা ঐক্যবদ্ধ ন্যায্য শক্তির কাছে অন্যায় বেশিদিন টিকে থাকতে পারে না।

আজাদ-র ছবি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রমৈত্রী'র নেতা "শহীদ রূপম" ছিলেন আমাদের তারুন্যের নায়ক, রাজপথে লড়াইয়ের শক্তি। আমরা শ্লোগান দিতাম, "রূপম আমার চেতনা, রূপম আমার বিশ্বাস"।

বহুকাল পর শহীদ রূপম -যাকে জামাত শিবিরের বর্বর আদিম নরপশুরা নির্মমভাবে হত্যা করেছিল- এর ছোট ভাইয়ের লেখা পড়ে সেইসব আগুনঝরা দিনগুলোর কথা মনে পড়ে গেল। একটা অন্যরকম চেপে ধরা কষ্টের অনুভূতিও হল।


লেখাটি জাহাঙ্গীরনগরের ঘটনা প্রবাহ -যা আমি বুঝতে পারছিলাম না- বুঝতে সাহায্য করেছে।

ধন্যবাদ এই প্রাঞ্জল লেখাটির জন্য। তবে নামের ছদ্মবেশ না নিলেও হোত, যদিও এটা একান্তই ব্যক্তিগত ব্যাপার এবং লেখায় এর একটা ব্যাখ্যাও দেয়া আছে।

উন্মোচনে স্বাগতম।

আমাদের ভালবাসাই উন্মোচনের প্রাণ ...

তারানা যেদিন তার লজ্জাস্কর আর্টিকেলটা ছাপাইলেন বিডিনিউস২৪'এ তার সাথে সাথেই দেখলাম মুক্তিযুদ্ধের লাইসেন্সধারীরা ভিসিরে জমাত বলে আখ্যা দিতেছে। এত দিন খবর ছিল না, যখন পতন অনিবার্য হয়ে উঠল, তখনই কেবল এই ডিস্কোর্স-এইটা প্রচার করার প্রয়াস যে সাচ্চা লীগার কখনো এনামুল এর মত হইতে পারে না। ওরা এই কাজ গুলা প্রথম দিকে দৃষ্টি কাড়তো, মাঝখানে হাস্যম্পদে পরিণত হইছে, এখন এটা স্রেফ ভৃত্য-পনা! পরিহাস এমন যে, ওরা যদি ওদের নিজেদের সূত্রের প্রতি সৎ থাকে থাকলে ওদের নিজ নেত্রীকেই জামাতের সমর্থক হতে হয়। এতটাই দেউলিয়া হইছে ওরা আর ওদের নব্যজাতীয়তাবাদি প্রচারের স্বীকার ঐ বিশেষ ট্যাগ।

সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার দুই দুইজন সাংসদ ঐখানে গেলেন, ফিরে এসে কলাম পয়দা করলেন, অথচ যাদের দুজনের কাছে এইটা স্রেফ দুই পক্ষের একে অপরকে দোষারোপ করার মামলা। এর মধ্যে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের দাবি দাওয়া আন্দোলনের কোনও নাম গন্ধও নাই ( সংস্কৃতি কর্মীদের, বাম সংগঠনগুলোর কথা নাই বললাম) /

ধন্যবাদ লেখার জন্য। দেখলেন তো, আপনাদের আন্দোলনের ফল কারা কিভাবে গায়েব করে দিল! আপনারা যা কিছুর জন্য আন্দোলন করলেন, রাস্তায় মার খেলেন সেই হিসেবের কিছু মিলবে/মিলল কিনা ভিসির এই পতন দিয়ে সেই পর্যালোচনা নিশ্চয়ই আপনারা অতি শীঘ্রই করবেন! সেই কথা গুলো পাবলিক ফোরামে নিয়ে আসুন। নইলে একদিনের মুসাফিররা আইসা সব আন্দোলনরেই দুই পক্ষের মারামারি বলে চালায়া দিবে। উন্মোচনে স্বাগতম।

 

 uporer lekhaguo pore mone pore gelo 14 bochor ager 98 er sei andolon er kotha. amra tokhon sobe dhukechi Jahangirnagar e. chokhe ekrash swapno. olpo olpo tuktak class hocche, tar cheyeo beshi hocche adda, khunsuti. sei shurur somoytatei amra prottokkho korlam chatro cum shikkhok rajnitir kutsit rup. ja nijer kane shune biswas hote chai na, gaye kata diye uthe, serokom ghotonai ghotlo amader chiro sobuj sundor campus e. amader apura boli holen voyonkor rajnitir. chatrolig namdhari ghrinno poshugulo rajnoitik domon pironer koushol hisebe othoba nichok monoronjoner jonne ghotalo seisob lomohorshok ghotona. uttal holo campus. sadharon chatro hisebe amrao parlam na emon ghotonar protibad kora theke dure thakte. shuru holo michil, onoshon, visir podotyag. tokhoni bujhlam shikkhangon shudhu porashonar jaiga noi. ekhane hoi aro onek kichu. amader moto chiro komol subodh chelemeyeder diyei esob hoi. bujhe na bujhe egulote joriye amra nijeder nisshesh kori. ar dur theke egulo niyontron kore kichu bigyo boro khomotalovi manush, jader amra Iswor er pore sthan dei. ami chai rajniti nishiddho hok shikkhangone. kono dolio bannar e rajniti kora jabe na. ar kono chatro chatri bebohrito hobe na karo kutsit ovilash hasil er jonne. socheton hok sobai.

 

 

যূথচারী-র ছবি

এরপরেও এই সংস্কৃতিকর্মীরা অর্থাৎ জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের মারখাওয়া এই নেতাকর্মীরা ওই নৌকা মার্কাতেই ভোট দেবে। কেউ কেউ হয়তোবা ধানের শীষে। কেননা নিজের আলাদা প্লাটফর্ম তৈরি করার চেয়ে নৌকা/ধানের শীষের মার খাওয়া তাদের কাছে অনেক আনন্দের।


রানওয়ে জুড়ে পড়ে আছে শুধু, কেউ নেই শূন্যতা-
আকাশে তখন থমকে আছে মেঘ,
বেদনাবিধুর গীটারের অলসতা-
কিঞ্চিৎ সুখী পাখিদের সংবেদ!
বিপ্লব রহমান-র ছবি

আমরা উপাচার্য পতন নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছিলাম না। আমরা অচলাবস্থা সচল করার কথা বলছিলাম। আলোচনা করে হোক, বা উপর মহলের হস্তক্ষেপের মাধ্যমেই হোক আর সরি বলেই হোক। আমরা চাইছিলাম ক্লাস হোক, পরীক্ষা হোক।

কিন্তু সব কিছু ছাপিয়ে তো ভিসির পদত্যাগ/এক দফাই সামনে চলে এসেছে!

এটিই শেষ পর্যন্ত আন্দোলনের দফারফা করে ছাড়বে বলে মনে হচ্ছে। এমনকি ভিসি পদত্যাগ করলেও শেষ রক্ষা হবে না; অচলায়তন কাটবে না। ...বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দলবাজীর কবলে থেকে মুক্ত করাই অচলায়তন কাটানোর পন্থা।...বিষয়টি খুব ভেবে দেখার বিনীত আহ্বান জানাই।

বাংলাদেশের নাংলা-র ছবি

ভাই শেষ হয় নাই। আজ উপাচার্য পরিবর্তন হইছে। কাল সে কি  আগের উপাচার্যের মত আচরণ করবে না?

দখল্বাজি মুক্ত করার প্রথম ধাপ গডফাদারের ক্ষমতা বিলোপ করা। সেটা করা পর্যন্ত সবাই একসাথে কাজ করেছি। অচলায়তন কাটানোর বিপ্লবে সবাই কি সাথে থাকবে?

সবাই থাকলে পারব। সবাই এখন না থাকলেও একসময় থাকবে। তখন পাড়ব।

(উত্তরটা দেরি করে দেবার জন্যে দুঃখিত।)

হাটুরে-র ছবি

আমরা পাশে ছিলাম, আছি, থাকবো। আন্দোলন সফল হবে আশা করছি।

শশাঙ্ক বরণ রায়-র ছবি

লড়াকু বন্ধুটিকে শ্রদ্ধা জানাই প্রথমে। হতাশ হওয়ার অনেক কারণ আছে, তবুও বলি-

“এ পথেই আলো জ্বেলে, এ পথেই পৃথিবীর ক্রমমুক্তি হবে”

লড়াই চলছে, চলবে...

........................................................

আদিবাসী বাঙ্গালী যত প্রান্তজন
এসো মিলি, গড়ে তুলি সেতুবন্ধন

মন্তব্য