সে এক ডিজি-পৌরাণিক যুগের গপ্পো । সে সময় এই পৃথিবী গ্রহ শাসন করত অতিদেবতা সাদা আংরেজগন । আমাদের এই উপমহাদেশ রাজ্যখানাও তাদের দখলে ছিল প্রায় দুইশত বৎসর কাল । এরপর উনিশশত সাতচল্লিশ ডিজি-পৌরাণিক সালে অতিদেবতা সাদা আংরেজ সাহেবদের বদান্যতায় ! এই রাজ্যের হিঁদু আর মোসলেম দেবতাদের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে দুটি নতুন রাজ্যে গঠিত হয়।
একটি হয় হিন্দুস্তান আর অপরটি মোসলেমস্থান বা পাকস্থান / পাকিস্তান । কিন্তু এই উপমহাদেশ রাজ্যের মধ্যে একটি উপ-রাজ্য ছিল যার অধিবাসীরা বাঙলা ভাষায় কথা বলত । রাজ্য ভাগের সময় আংরেজ অতিদেবতাগন ইচ্ছা করিয়া এই বাঙলাভাষী উপরাজ্য কেও দু ভাগে ভাগ করে নতুন দুই রাজ্যের সাথে জুড়িয়া দিলেন । সে যাই হোক, নতুন রাজ্যদুটির শাসনভার গ্রহণ করলেন যথাক্রমে ভগবান মোহন দাস করম চাঁদ গান্ধী ও ভগবান মোহাম্মাদ আলী জিন্নাহ!
কিন্তু এই মোসলেমস্থান বা পাকস্থান ! ছিল আবার পূর্ব ও পশ্চিম অংশ নামক দুটি ছোট রাজ্যের সমষ্টি, যাদের মধ্যে দূরত্ব ছিল এক হাজার মাইল এর অধিক । এই রাজ্যের দেবতাগণ পশ্চিম অংশে বসবাস করতেন এবং সেখান থেকেই উপদেবতাগনের মাধ্যমে পূর্ব রাজ্য শাসন করতেন। এর কিছু কাল পরে পাক রাজ্যের পশ্চিম অংশের দেবতাগণ স্থির করিলেন যে, তাহারা যেহেতু পাকস্থান রাজ্যের বাসিন্দা সেহেতু গোটা পাকবাশীকে দেবতাদের ভাষা অর্থাৎ উর্দু নামক পবিত্র ! ভাষায় কথা বলিতে হইবে।
এদিকে পূর্ব অংশের মহামূর্খ !!! মানুষগুলো রাজাধিরাজগনের দয়া অস্বীকার করিয়া দেবতাদের ভাষাকে নিজ মুখের ভাষা হিসেবে গ্রহণ করিতে অস্বীকার করত ভগবান, দেবতাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলে ! দেবতাগণ পূর্ব পাকস্থান এর মানুষদের উপর নানা রকম ঠাডা ফেলিবার পরও প্রতিরোধের মুখে নিরুপাই হইয়া উনিশশত বায়ান্ন ডিজি-পৌরাণিক সালে বাঙলা কে পূর্ব পাকস্থান এর মানুষের ভাষা হিসেবে মানিয়া লইল । এরপরও অধিককাল পর্যন্ত পাকস্থান এর দেবতাগণ পূর্ব অংশের উপর নাখোশ হইয়া নানান রকম দুর্যোগ ফেলিয়া চলিল।
এর ফলে পূর্ব অংশের মানুষরা মধ্যে দেবতাদের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ পেল এবং তারা নিজেদের মধ্যে থেকে দেবতা ও পূর্ণ রাজ্যের অধিকার চাইল । কিন্তু পশ্চিম অংশের বড় দেবতাগণ ক্ষমতা ছাড়তে রাজী হল না । ফলে উনিশশত একাত্তুর ডিজি-পৌরাণিক সালে দেবতা আর সাধারণ মানুষের মাঝে এক অসম রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বেঁধে গেল । দেবতারা চাইল মানুষদের একটা উচিত শিক্ষা দিতে যাতে তারা আর কোনোদিন তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে না পারে । যুদ্ধে একদল মানুষ নিজেদেরকে দেবতাদের সারিতে নিয়ে যেতে, দেবতাদের নামে পূর্ব পাকস্থান এর মানুষদের হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট চালানো শুরু করে।
এই অসম যুদ্ধে মানুষদের নেতৃত্ব দেন অনেকের মধ্যে অন্যতম শেখ মুজিব নামক এক মানুষ এবং বর্ণনাতীত ক্ষয়-ক্ষতির বিনিময়ে সাধরন মানুষ যুদ্ধে জয়ী হয় । এই যুদ্ধে অবশ্য হিন্দুস্তান, পূর্ব পাকস্থান এর সাধারণ মানুষদের পক্ষে যুদ্ধে অংশ নেয় । এরপর তারা তাদের দেবতাদের দেয়া নাম পূর্ব পাকস্থান পরিবর্তন করে বাংলাদেশ নামক এক নতুন মানুষের রাজ্য গঠন করে, যেখানে মানুষ তাদের রাজা নির্বাচন করবে । নতুন রাজ্যে শেখ মুজিব নামক সেই মানুষটির রাজ্যাভিষেক হয় এবং রাজ্য পরিচালিত হতে শুরু করে।
ধীরে ধীরে শেখ মুজিব নামক মানুষটি যুদ্ধের আগে থেকেই বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কাছে অসাধারণ হয়ে উঠতে থাকেন । কিছু কাল পরে, উনিশশত পঁচাত্তর ডিজি-পৌরাণিক সালে রাজকর্মচারীদের বিদ্রোহের দরুন অসাধারণ মানুষটি সপরিবারে নিহত হন । কিন্তু তার দুই রাজকন্যা বেঁচে যান সেই অতিদেবতাদের রাজ্যে থাকার কারনে।
বিদ্রোহী রাজকর্মচারীগন জোরপূর্বক রাজ্য পরিচালনার ভার গ্রহণ করে এবং প্রায় একই ভাবে চৌদ্দ বৎসর কাল যাবত পালাক্রমে রাজ্য পরিচালিত হতে থাকে । এরপর আবার উনিশশত নব্বই ডিজি-পৌরাণিক সালে শেখ মুজিবের কন্যা শেখ হাসিনা, এক রাজকর্মচারীর (জিয়াউর রহমান, পরবর্তীতে যিনি রাজ্য শাসন করেন) বিধবা স্ত্রী "খালেদা" এবং সাধারণ মানুষ আবার রাজ্য পরিচালনাকারী রাজকর্মচারীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলে । এর ফলে বাধ্য হয়ে রাজকর্মচারীরা রাজ্য পরিচালনা মানুষের দ্বারা নির্বাচিত রাজার কাছে ছেড়ে দিয়ে নিজেদের পুনরায় রাজকাজে মনোনিবেশ করে।
এরপর প্রথমে সেই রাজকর্মচারীর বিধবা স্ত্রীটি "খালেদা", সাধারণ মানুষদের দ্বারা রানী নির্বাচিত হন । এভাবে পালাক্রমে রাজকর্মচারীর বিধবা স্ত্রী এবং শেখ মুজিবের রাজকন্যাদয়ের একজন "শেখ হাসিনা", রানী নির্বাচিত হয়ে রাজ্য পরিচালনা করতে থাকেন।
কিন্তু পরজায়ক্রমে খালেদা এবং হাছিনা নিজেদের দেবতা ভাবতে শুরু করে । তারা মৃত জিয়াউর রহমান এবং শেখ মুজিব কে ভগবান রূপে এবং নিজেদের দেবী রূপে সাধারণ মানুষের মনে প্রতিষ্ঠিত করতে শুরু করে । মানুষের রাজ্যে ক্রমশ নিজেদের শক্তি সঞ্চয় করতে থাকে এবং এভাবে বাংলাদেশে নামক মানুষের রাজ্যে আবারও দেব-দেবতা আর ঈশ্বরদের শাসন শুরু হয়।
মন্তব্য
ভালো হইছে। চালায় যা।
মন্তব্য