১. যতদূর মনে পড়ে, জীবনে প্রথম বড় মানুষ’দের সাথে পরিচয় হয় মাধ্যমিকের বাংলা বইতে -পরিচয় না ঠিক, কাল্পনিক যোগাযোগ! লুঙ্গি কাছা দেওয়া, হাফ প্যান্ট পড়া, ছেড়া জামা, স্যান্ডো গেঞ্জি,উদলা শরীরের শীর্ণ কতগুলা মানুষ আস্তা একটা সামরিক বাহিনী আর তার ট্যাঙ্ক, মেশিনগান ঠেকাইতে রাস্তায় নামছিল –সেই গল্পে! বাঁচবে কি না বাঁচবে, পারবে কি না পারবে, জিতবে কি না জিতবে তার কোনোরকম হিসাব ছাড়াই সেই পাগলের দল নাকি যুদ্ধ করছিল! বীরশ্রেষ্ঠ-বীরপ্রতীক-বীরউত্তম,এই তালিকা ক্লাসে ভুইলা গেলেও কিভাবে মানুষ বিমানবাহিনীর বিমান ছিনতাই করে বা কোন সাহসে সামান্য রাইফেল নিয়া মিলিটারির বাঙ্কারে একা ঝাঁপায়ে পরে বা এ্যম্বুশ পাতে বা আরও পরে পাওয়া নক্ষত্রের দল -গেরিলারা, যারা পাওয়ার প্লান্ট উড়ায়ে দেয় তা এক বিস্ময় ছিল ছেলেবেলার! সেই গর্বে ভরা বিস্ময় না কাটলেও ধীরে ধীরে জানতে পারছি মানুষ নিজের মুক্তির জন্য, অন্যের মুক্তির জন্য, একটা মুক্ত স্বাধীন সমঅধিকারের পৃথিবীর জন্য প্রস্তুতি সহ বা প্রস্তুতি ছাড়াই, অস্ত্র সহ বা অস্ত্র ছাড়াই এক বিস্ময়কর আর একরোখা যুদ্ধ চালু রাখে, তা শাসক দল যত ভাবেই তাদের স্তব্ধ করে দিতে চেষ্টা করুক না কেন্! মুক্তির জন্য মানুষের নিঃসীম যুদ্ধ চলে সারা দুনিয়া জুড়ে আর আমাদের সময়ে এই যুদ্ধ ক্রমশ তীব্রতর -এই সামান্য শিক্ষা’ই হয়ত নির্ধারণ করবে আমরা যে বিশেষ সময়ে বাঁইচা আছি পৃথিবী নামক এই গ্রহে, মহাকালের ইতিহাসে সেই সময়ের তাৎপর্য! কিন্তু অ-লেখকরা লিখতে গেলে সিরিয়াস কথাও বিরক্তিকর হয়ে ওঠে পাঠকের কাছে এবং ঐ বিষয়ের গুরুত্ব সাময়িকভাবে হলেও নষ্ট হয়। সুতরাং সেই দায় না বাড়াই।
গতকাল হঠাৎ ‘সামনের দুনিয়া’(World Tomorrow) নামে এক টক’শো চোখে পড়ল। সাধারণত, টক’শো দেখা হয় না। কিন্তু এই শো’র যিনি প্রাণকেন্দ্রে, তিনি এক কয়েদি/গৃহবন্দী! তার কাজের ব্যাপারে সকলের মত স্বাভাবিক আগ্রহের করনেই সরাসরি দেখতে বসলাম । এখন পর্যন্ত মোটে দুইটা পর্ব বের হইছে। একেকটা ২৮ মিনিটের। গত ২৪ তারিখই মাত্র প্রথম বর্ষের দ্বিতীয় পর্ব সম্প্রচারিত হইছে। তার ঠিক সাতদিন আগে, ১৭ই এপ্রিল, রাজনৈতিক এই আলাপচারিতার প্রথম পর্ব প্রকাশ করা হয়, উইকিলিক্স নামক সংস্থার উপর বেআইনি ভাবে আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার অর্ধসহস্রতম দিনে একটা দাগ দিয়া রাখার জন্য! ঠিক, এইটা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের(Julian Assange) টক’শো! অ্যাসাঞ্জের সাথে পৃথিবীর বিভিন্ন রাজনীতিবিদ, বিশ্লেষক, বিপ্লবীদের আলাপচারিতার উদ্দেশ্য বর্ণনা দিতে গিয়ে এই রাজনৈতিক টক’শোর ওয়েবপেইজের ‘যা বিষয়’ (About) অংশে বলা হইছে,
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক গন-জোয়ার/বিপ্লব এমন এক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সূচনা করছে যার চরিত্র আমরা এখনও বুঝে উঠতে পারি নাই। পশ্চিমে, আইনের শাসন-হীনতা আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়া দেখাইয়া দিতাছে বর্তমান মূলধারা’র রাজনৈতিক তত্ত্ব আর তার দোসর সংস্থা গুলার দেউলিয়াত্ব! অন্তর্জাল (আমাদের মুক্তির সাধের নিশান) এতটা শক্তিশালী কখনও ছিলনা সে আগে, আর ছিলনা এতটা হুমকির সম্মুখীন!
এইরকম একটা ভীষণ সময়ে চেতনা আমাদের নিত্য স্মরণ করিয়ে দেয় -চারপাশের দুনিয়ারে এখনই রেডিক্যালি পুনর্বিবেচনা করা কতটা জরুরী! জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ তার আলাপচারিতায় সেই সব বিপ্লবী চিন্তা-চেতনার খোঁজ করবেন যা আগামীর দুনিয়া সাজাইতে আমাদের সাহায্য করতে পারে।
এক-বসাতেই দুই পর্ব দেখলাম। প্রথম পর্ব মিডিয়ার নজর কাড়ছে সেই পর্বের অতিথির কারণে, যিনি দীর্ঘ অর্ধ-যুগ পরে মিডিয়ায় সাক্ষাৎকার দিলেন। এদিগে দ্বিতীয় পর্বে কিছু ধ্রুপদী সমস্যার আলোচনা করা হইছে, অতিথি দু'জন। যদিও আলোচনার শেষে সমস্যা তার নিজের ঘরেই থাইকা গেছে, সমস্যার নিয়মে! আমার তুলনামূলক আগ্রহ দ্বিতীয় পর্বে। দ্বিতীয় পর্বের সেই অতিথি'দের প্রথম জন স্লাভো জিজেক(Slavoj Žižek) এবং দ্বিতীয় জন ডেভিড হরোইডজ(David Horowitz)। জিজেক সম্পর্কে মূল ওয়েবপেজে বলা হইছে,
‘তারকা বুদ্ধিজীবী’ স্লাভো জিজেক একাধারে একজন দার্শনিক, মনবিশ্লেষক এবং সংস্কৃতি সমালোচক। তিনি একপর্যায় নিজের পুরাণ বিশ্বাস ‘টিটো’র ইগোস্লোভিয়া’পন্থায় ঈমান হারান এবং ১৯৯০ তে স্লোভেনিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পদপ্রার্থী হন। জিজেক একজন ডাকসাইটে তাত্ত্বিক যিনি নিজেকে লেনিনবাদী বলে দাবি করেন অথচ পাশাপাশি ইউরোপের ইহুদি-খ্রিষ্টান উত্তরাধিকারেরও সমাদর করেন, ঐদিগে তার লিউব্লিয়ানা’র বাসার দেয়ালে ঝোলে স্টালিনের ছবি! তিনি ইউরোপিয়ান গ্রাজুয়েট স্কুলের অধ্যাপক, লিউব্লিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজতত্ত্বের জ্যেষ্ঠ গবেষক এবং লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে বির্কবেক কলা অনুষদের আন্তর্জাতিক প্রধান।
ডেভিড হরোইডজ সম্পর্কে একই জায়গায় বলা হইছে,
ডেভিড হরোইডজ আমেরিকার কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক চিন্তাধারার অতি-পরিচিত একজন খুঁটি(renowned stalwart) এবং অনুতাপশূন্য (unrepentent) জায়্যানিস্ট/ইহুদিরাষ্ট্র-পন্থী। ১৯৬০ ও ’৭০ এর দশকে তিনি রাম্পার্টজ্ ম্যাগাজিনের সম্পাদক এবং বার্কলি ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে তৎকালীন উদীয়মান ‘নিউ লেফট’ মুভমেন্টের একজন হোমরা-চোমরা ছিলেন। এর পাশাপাশি হরোইডজ লন্ডনে বার্ট্রান্ড রাসেল শান্তি সংস্থায় চাকরি করেছেন। এক ব্যক্তিগত দুর্ঘটনার সূত্র ধরে সত্তরের দশকে তৎকালীন ব্ল্যাক-প্যানথার দলের সাথে তার সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হবার পরেই ধীরে ধীরে ডানপন্থী রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। তিনি ‘ডেভিড হরোইডজ ফ্রিডম সেন্টারে’র প্রধান এবং তাত্ত্বিক রাজনীতির উপরে যথেষ্ট লিখছেন। হরোইডজ এর এই প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য মিডিয়া, একাডেমী এবং রাজনীতিতে বামপন্থী ও ইসলামিক সংশ্রবের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানো।
দ্বিতীয় পর্বের আলাপচারিতা প্রসঙ্গে বলা হইছে,
তিন জনার মধ্যকার এই আলাপচারিতার অংশবিশেষ ব্যক্তিগত কথাবার্তা, অংশবিশেষ কখনো হাস্যরসে পূর্ণ কখনও আবার আক্রমণাত্মক। কথাবার্তার বিষয়বস্তুতে উঠে এসেছে ফিলিস্তিনিরা থেকে নাৎসিরা, যোসেফ স্টালিন থেকে বারাক ওবামা, ইউরোপের অধঃপতন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা ও সাম্যের পারষ্পরিক দ্বন্দ্ব সহ বহু বিষয়!
ভাবলাম উন্মোচনে’র বান্দাদের কেউ কেউ হয়ত শো’টা দেখতে আগ্রহ পাবেন। যারা এখনও দেখেন নাই তারা চাইলে দেখে নিতে পারেন। আহামরি কিছু না হলেও, খারাপ লাগবে না। মূল ওয়েবপেইজ থেকে দেখা’র লিঙ্ক এখানে। ইউটিউবে এখানে। মূল ওয়েবপেইজে প্রতি পর্বের সাথে (ভিডিওর নিচের দিকে) আলাপচারিতার ইংরেজি অনুলিপিও দেয়া আছে।
কথা এতটুকুই! শো'টা দেখার দাওয়াত দেয়া! তৃতীয় পর্ব আসবে হয়ত পহেলা মে। পোষ্টের পরবর্তী অংশ অতিরিক্ত, না পড়লেও চলবে।
২
এইখানে আমি দ্বিতীয় পর্বের একটা বাংলা অনুলিপি তৈরির অপ্রয়োজনীয় অপচেষ্টা করলাম।* অনুবাদের কোনও পূর্ব অভিজ্ঞতা নাই। ইংরেজি অনুলিপি'তে মূল ভিডিও'র কয়েকটা লাইন বাদ দেয়া হইছে, হয়ত অপ্রয়োজনীয় -তাই। তাছাড়া আলাপচারিতার কিছু প্রসঙ্গ নিজের কাছে অস্পষ্ট লাগায় গুগলের শরণাপন্ন হতে হইছিল। তখন ই বাংলা অনুলিপি করার চিন্তা মাথায় আসে। যে কারণে আলাপচারিতার মধ্যে উঠে আসা কিছু কথার পিঠে দুএকটা টিকা যোগ করার চেষ্টা করছি আর সাথে উয়িকির লিংক তো আছেই! ইংরেজী অনুলিপি অনুসরণ না করে, পরে সেই বাদ-পরা অংশগুলা সহ বাংলা করলাম। কিন্তু কাজটা শেষ পর্যন্ত ফালতুই রয়ে গেছে। অনেক সমস্যার মূল যে সমস্যা, আমার, তা হোল বাংলা উচ্চারণ ও বানান রীতি সম্পর্কে ন্যুনতম জ্ঞান না থাকা এবং অনুবাদে বার বার বক্তার বলার ভঙ্গিতে ছন্দপতন -যা পাঠকের বিরক্তি ও ধৈর্যচ্যুতির কারণ হবে। কিন্তু কেউ যদি তারপরেও পড়েন, দয়া করে গালাগাল/পরামর্শ দিতে ভুলবেন না!!
সামনের দুনিয়া-পর্বঃ২ (বাংলা অনুলিপি)
স্লাভয়ে জিজেক ও ডেভিড হরোইডজ এর সাথে সাক্ষাৎকার,
নিচ্ছেন জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ।
[জুঅ্যা ভয়েসওভার] আমি জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। উইকিলিক্সের সম্পাদক। নিত্য উন্মোচিত হচ্ছে দুনিয়ার মুখোশ, বেড়ে চলছে ক্ষমতাধরদের রোষানল! বিগত ৫০০ দিন ধরে কোনও সুনির্দিষ্ট আইনি অভিযোগ ছাড়াই আমাকে গৃহবন্দি রাখা হইছে, কিন্তু আমদের ঠেকানো যায় নাই! আমাদের এই সময়ে আমরা খুঁজে ফিরছি সেই সব বৈপ্লবিক চিন্তাধারা যা আমাদের কর্মযজ্ঞে নতুন দিশা দিবে।
০০,৩৩
জুঅ্যা (ভয়েসওভার)
আজকে আমার সাথে যোগ দিবেন সুপারস্টার বুদ্ধিজীবী, স্লোভেনিয়ান দার্শনিক স্লাভো জিজেক; একজন প্রাক্তন কমিউনিস্ট-বিরোধী বিসংবাদী যিনি এখন নিজেকে কমিউনিস্ট বলে দাবী করেন! আমরা দুজন এখান থেকে ভিডিও কনফারেন্স করব ডেভিড হরোইডজ্’এর সাথে; একজন প্রাক্তন বামপন্থী র্যাডিক্যাল ও ব্ল্যাক-প্যানথার সমর্থক যিনি আবার এখন কট্টর(fiery) ডানপন্থী জায়্যানিস্ট/ইহুদিরাষ্ট্র-পন্থী। আমি জানতে চাইব ইউরোপ-আমেরিকার ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাইতেছে বলে এনারা মনে করেন। কিন্তু আলাপটা মাঝে মধ্যেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে আর জিজেক’কে তখন হাতে-পায়ে ধরে থামাতে হয়। আমরা চিৎকার করি, গলাবাজি করি, কথা বলি নাৎসি, ফিলিস্তিনি, ব্ল্যাক-প্যানথার আর ইজরায়েলিদের প্রসঙ্গে। ওবামা, রম্নি আর স্টালিন প্রসঙ্গে।
০১,১৫
জুঅ্যা
ডেভিড, তুমি নিজেকে পরিচয় দাও রক্ষণশীল হিসেবে এবং স্লাভো, তুমি নিজেকে কমিউনিস্ট হিসেবে! তারপরেও তোমাদের দুজনার ঘরেই স্টালিনের ছবি। কেন?
০১:৩০
[অপরপ্রান্তে ডেভিডের ফোন বাজে- আলোচনায় ছেঁদ পড়ে]
স্লাজি
তাকে সম্ভবত স্টালিন ফোন করছে। সতর্ক কইরা দিতেছে, যাতে আবোলতাবোল না বকে। [হাসি]
০১,৪৮
জুঅ্যা
আচ্ছা ডেভিড, তুমিই বল, রক্ষণশীল বলতে তুমি কি বুঝাও আর স্টালিনের ছবি দিয়েই বা তুমি কি কর?
ডেহ
স্টালিনের যে ছবিটা আমার কাছে আছে সেটা তার মৃত্যুর! আর আমি রক্ষণশীল কারণ এইসব...... বামপন্থী, আদর্শবাদী/দিবাস্বপ্ন-খোর(Utopian) দল'গুলার কোনও ধারনাই নাই মানুষের আসল প্রকৃতি/প্রবৃত্তি সম্পর্কে! ফলে, তারা যখন ক্ষমতায় যায় তখন তারা বিরাট ফাপরে পইড়া যায়! লোকজন যখন তাদের শুরু করা নতুন প্রোগ্রামগুলা পছন্দ করে না বা তাতে ভর্তি হইতে চায় না বা বিরোধিতা করে তখন তারা লোকজনরে ধইরা হয় মাইরা ফালায় বা ধইরা গুলকে ঢুকায়ে দেয়, হাহ্......আদর্শবাদী চিন্তা-চেতনার সমস্যাই হোল এই যে, ...
জুঅ্যা
জিজেক?
০২.৩০
স্লাজি
আচ্ছা বুঝলাম, কিন্তু শুরুতেই স্টালিন কেন! কারণ সে আমাকে স্মরণ করিয়ে দেয় – এমনকি আমরা হয়ত এই প্রসঙ্গে খুব সামান্য হইলেও একমত করব –কারণ তুমি আমারে র্যাডিক্যাল রাজনৈতিক এক্সপেরিমেন্ট ইত্যাদির ঝুঁকি গুলা স্মরণ করাইয়া দিতে চাও!...
ডেহ
...আমি...আমি আসলে বুঝি না স্লাভো তার এই, ‘স্টালিন গুরুত্ব হইল সে আমারে টোটালিটারিয়ান/সার্বভৌম এক-পার্টি (totalitarian) রাজনীতির কিছু কিছু বিপদ সম্পর্কে সজাগ রাখে...’ কথা দিয়া আসলে কি বুঝাতে চায়...আদর্শবাদী রাজনীতি আমাদের যে ভয়াবহতার মধ্যে নিয়া যাইতে পারে...আমি তো দেখি দুনিয়ায় যত টোটালিটারিয়ান মুভমেন্ট আছে স্লাভো তার সবগুলকেই সে সমর্থন করে। ... তুমি স্লাভো, তুমি তো নাৎসিজমের সবচেয়ে কাছাকাছি যে মতবাদ আছে তার সমর্থক – যা কিনা সব আদর্শবাদী তত্ত্ব –মধ্যপ্রাচ্যে... এমনকি তুমি ফিলিস্তিনিদের সাপোর্ট কর! আমি ফিলিস্তিনিদের বর্ণনা করার ভাষাই খুঁজে পাইনা, যারা কিনা ইহুদি দের হত্যা করতে চায়, ধিক! ওরা নাৎসিদের উত্তরসূরি।
০৩.৩০
স্লাজি
শোনো! তুমি কি কোনোদিন গেছ ওয়েস্ট ব্যাঙ্কে(West Bank)? ঐখানে ইহুদির জন্য কোনও হুমকিই নাই।...
ডেহ
...
স্লাজি
না, আমি বলতেছি তুমি শোন! ...আমি ওয়েস্ট ব্যাঙ্কে গেছি বহুবার, এবং সেইটা আমার ইহুদি বন্ধুদের সাথে! ঐ জায়গা ইহুদিগো জন্য নিরাপদ। আমি যা দেখছি তাই তোমারে বলতেছি। ...কিন্তু আমি বলতেছিনা –এবং তার আগে আমি তোমার জানাইতে চাই যে, আমার কাছে এইটা ভীষণ রকম পাতলা কথা মনে হয় যখন লোকজন বলে –ওহ, ইহুদীরা ফিলিস্তিনিগো লগে ঠিক একই আচরণ করতেছে যা নাৎসিরা ইহুদীগো লগে করছিল! আমি স্বীকার করি এই তুলনাটা বেজায় রকম পাতলা! কিন্তু, তারপরও আমি মোটা দাগে তোমারে বলতে চাই, ঐখানে ফিলিস্তিনিদের সর্বনাশ চলতেছে, তারা ভয়ংকর পরিস্থিতিতে আছে...ভীষণ রকম খারাপ অবস্থা তাদের!
০৪.০১
ডেহ
হ্যাঁ, আর তাদের এই সর্বনাশ করছে হামাস(Hamas), সর্বনাশ করছে পিএলও(PLO), সর্বনাশ করছে সৌদি-আরব...
স্লাজি
না! না! না! কখনোই না! এইকথা আমি প্রত্যাখ্যান করলাম। আমি প্রত্যাখ্যান করি ইজরায়েলিরা যেভাবে...
ডেহ
তাদের সর্বনাশ করছে মিশর, কিন্তু কখনোই ইহুদিরা না।
স্লাজি
...পাত্তা না পাওয়া আরাফাত, ইজরায়েলি কূটনীতি ইত্যাদি সব ব্যাপারই ঐখানে হামাসের জন্য ক্ষেত্র প্রস্তুত কইরা দেছে।
জুঅ্যা
ঠিক।
০৪.১৭
স্লাজি
দ্বিতীয়ত...
ডেহ
ও! আমরা তাইলে এখন হামাসে কর্মকাণ্ডের দায়দায়িত্ব ইহুদীদের ঘাড়ে চাপাইতেছি, চমৎকার!
স্লাজি
ইয়া ভগবান! তোমার ঠিক এই প্রবণতাই আমি অপছন্দ করি। আমি যাই কইতে যাই তোমার কাছে সেইটাই ইহুদিদের ঘাড়ে দোষ চাপানো মনে হয়, তামশা নাকি! তুমি জান কেন..
জুঅ্যা
আচ্ছা আচ্ছা ঠিক আছে, আমরা থামি, ইহুদী টপিক বাদ, ইহুদী টপিক বাদ। [জিজেক চেয়ার ছাইড়া দাঁড়াইয়া যায়...পারে তো কম্পিউটারের পর্দার ভিতর থেকে ডেভিড’কে টেনে বের করে...জুলিয়ান তাকে হাত ধরে থামায়...ইত্যাদি - ফেআ]
স্লাজি
না না না...তুমি দেখলা তো সে কি চায়!
সিরিয়াসলি, আজকে তুমি ইরাকের নারীদের অবস্থাটা একবার ভাব। শুনতেই তো ভয়ংকর শুনায়, আর ঐ দখলের পর যা আরও খারাপ আকার ধারণ করছে..
০৪:৩৭
ডেহ
স্লাভোয়ে –তো কে দায়ী এর জন্য? এটা আন্তর্জাতিক ...শোনো...
স্লাজি
যুক্তরাষ্ট্র তার দখল...
ডেহ
...আন্তর্জাতিক বাম আর যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক পার্টিই সাদ্দামের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গেছে আবার পাশাপাশি তারাই বুশেরও বিরোধিতা করছে যখন সে ইরাকে যুদ্ধটা শুরু করছে। আমাদের ওখান থেকে চলে আসা ভুল হইছে, ...আমাদের উচিৎ ছিল ওখানে আরও কয়েক বছর থাকা।
০৫:০৪
জুঅ্যা
ডেভিড! তোমার কাছ থকে এটা একধরনের নতুন মন্তব্য, এটা...
ডেহ
...আমাদের উচিৎ ছিল এটা সিরিয়ায় ঢুকানো, তারপর সেখান থেকে ইরানে, কিন্তু কিভাবে?...ডেমোক্রেটরা বুশের এত কট্টর সমালোচনা শুর করলো!...এখন পর্যন্ত আমেরিকান কোনও বড় পার্টি এত তীব্রভাবে কারও বিরোধিতা দেখায় নাই। এরা সবাই কিন্তু যুদ্ধের সমর্থন দিছে, শতভাগ না অবশ্য, অন্তত নেতৃত্ব পর্যায়ে থাকা সবাই এই যুদ্ধ সমর্থন করছে...তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ হিসেবে যুদ্ধের পক্ষে ভোট দিছে...সিনেটে, আর তারপর তারা উল্টা-কথা বলা শুরু করছে আর মিথ্যাচার করছে, উল্টা বুশের ঘাড়ে মিথ্যার দোষ চাপাইছে। বুশের পক্ষে গোয়েন্দা রিপোর্টের ব্যাপারে মিথ্যা বলা সম্ভবই ছিল না কারণ কেরি, রকাফেলার, ফেইন্সটাইন এইসব ডেমোক্রাটরাই গোয়েন্দা কমিটিতে বসে মূল কলকাঠি নাড়ছে। তাদের গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক জুলিয়ানের চেয়েও ক্ষমতাধর!
০৫:৪৪
জুঅ্যা
আমরা যা করি অর্থাৎ উইকিলিক্স যা করে তা হল, ফার্স্ট এ্যমেনম্যেন্ট (First Amendment) স্বাধীনতার(Libarty) নামে যাকিছুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাইছে, তার সীমানা যতটুকু সম্ভব প্রসারিত করার চেষ্টা। অর্থাৎ দুনিয়াতে সত্য প্রকাশ করার স্বাধীনতা, ইতিহাসের দলিল রক্ষা করা আর এমত বিষয়গুলা। জেফারসনের(Thomas Jefferson) একটা উক্তি উদ্ধৃত করে আমেরিকান সামরিক বাহিনীর তরফে প্রচারিত একখানা পোষ্টার একবার আমাকে স্তম্ভিত করছিল...,তাতে জেফারসনের বেশ বড় একটা মূর্তি আঁকা আর সেখানে সে বলছে, ‘স্বাধীনতা রক্ষার জন্য প্রয়োজন নিরন্তর নজরদারি কায়েম করা’ –এই হল রাষ্ট্রের স্বাধীনতা রক্ষার মূল্য –যার কিনা আছে মস্ত সব প্রতিরক্ষা সংসদ, বন্দুকওয়ালা লোকজন আর সীমান্ত-রক্ষী আর সমুদ্র-রক্ষীর দল, যারা কিনা চোখে দুরবিন দিয়ে সমুদ্রের দূর ঐপারে কি চলতেছে তার উপর গোয়েন্দাগিরি করে বেড়ায়! জেফারসন তার ঐতিহাসিক বক্তব্যে মূলত বলতে চেয়েছিলেন যে, একটা প্রকাণ্ড প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবার হাত থেকে বাঁচানর জন্যই রাষ্ট্রের নিরন্তর নজরবন্দি/পর্যালোচনা দরকার। অথচ এই লোকেরা তার অর্থ উল্টা করে বলছে, ‘ স্বাধীনতা রক্ষার্থে আমাদের অবশ্যই একটা শক্তিশালী, আগ্রাসী রাষ্ট্র প্রয়োজন যে সবার উপর গোয়েন্দাগিরি করবে’!
০৬:৪৬
ডেহ
আমার কাছেও এটা একটা অনুতাপের বিষয় যে রাষ্ট্র এত বিস্তৃত হয়ে গেছে, আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এত বিশাল... -এটা অবশ্যই দুঃখজনক, কিন্তু এটা বাস্তবতাও এবং...যা তুমি নিজেই জান। কিন্তু, আমি তোমার উত্থাপিত ‘স্বাধীনতা ও সমতা’ প্রসঙ্গে ফিরতে চাই...। অবশ্যই, মানুষ একজন আর একজনের সমান না, যদি তাদের মেধা হয় ভিন্ন, বুদ্ধি হয় আলাদা, তাহলে সবাইকে সমান করার জন্য তোমার কারও না কারও স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতেই হবে। এইটাই একমাত্র উপায়, এ ভিন্ন আর পথ নাই। সুতরাং, স্বাধীনতার সাথে সমতার অবশ্যই একটা মৌলিক দ্বন্দ্ব আছে!
০৭:২৬
স্লাজি
শোনো, তুমি যে ভাব ভাবো তার বিপরীতে আমি তত্ত্বের কোনও গজ-ফিতা নিয়া ঘুরে বেড়াই, এমন কিন্তু না! আমিও কাণ্ডজ্ঞানহীন/অসীম স্বাধীনতার পক্ষে না –সবকিছু উন্মুক্ত করে দিতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু, আমি মনে করি না উইকিলিক্স সেই কাজ করতেছে। আমি কেবল বলতে চাচ্ছি, যখন...যেভাবে বড় ক্ষমতা কাঠামো গুলা কাজ করে, ভণ্ডামির সীমা ছাড়িয়ে যায়, তখন কিছু বাছবিচার প্রয়োজন – দাঁড়াও আমি চিন্তা করে নেই এইটা কিভাবে বলা যায়!- অ্যা, অবশ্যই রাষ্ট্র তার নাগরিকদের সর্বদা উপদেশ দিবে রাষ্ট্রের ক্ষমতা কাঠামোর উপর ভরসা রাখতে- রাষ্ট্র মনে মনে দুঃখ প্রকাশ করবে যে বিশেষ কিছু কাজ রাষ্ট্রের বাধ্য হয়ে করতে হইতেছে, নাগরিকদের সেসব জানার দরকার নাই –এবং ঠিকাছে, আমি মানি যে এই খেলাটা আমাদের খেলতে হবে। আমি কোনও গর্ধব নই...কিন্তু, যখন নাগরিকদের ঠিক এই বিশ্বাস’টার ই অপব্যবহার করা হয় তখন উইকিলিক্সের মত যে কোনও প্রজেক্ট অনেক কাজের কাজ করতে পারে। দুঃখিত, এই কাজের মধ্যে আমি কোনও বিপদের সঙ্কেত শুনি না...
০৮:২০
জুঅ্যা
স্লাভয়ে, বিপ্লবের পরে...মনে করো আমরাই একটা নতুন বিপ্লবী সরকার গঠন করলাম, আর একপর্যায়ে সেই সরকারেরই কিছু অভ্যন্তরীণ গোপন নথিপত্র উইকিলিক্সের হাতে পড়ল আর আমরা সেটা জনসম্মুখে প্রকাশ করতে চাইলাম...
স্লাজি
আমি তোমার প্রশ্নের উত্তর দিব...
জুঅ্যা
আমিও কি... আমাকেও কি দেয়ালের পাশে দাড় করিয়ে দেয়া হবে?
০৮:৩৭
স্লাজি
তুমি কিন্তু আমার সাথে একমত হবা। একটা ঠাট্টা এখন করতেই হয়। যে নতুন বিপ্লবী সরকার তুমি গঠন করতে চাইতেছ সেই একই আন্দোলনের অংশ হওয়ার দরুন এখনই তোমার এই প্রশ্নের জবাব দিলে প্যাঁচ লাইগা যাইতে পারে, তারচে বরং সাইবেরিয়ায় গুলক’এর যে কয়েদে তোমাকে রাখা হবে আমি সেইখানেই এই প্রশ্নের জবাব পাঠাইয়া দেব। [হাসি]
জুঅ্যা
সে সম্ভাবনাই অধিক!
ডেহ
আসলে...স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রিতই হতে হবে। এটা কখনোই...
স্লাজি
কিন্তু সব স্বাধীনতাই কি কোনও না কোনও অর্থে নিয়ন্ত্রিত না?
০৮:৫৯
জুঅ্যা
ডেভিড, গুয়ান্তানামো বে’র ফটকে একটা স্লোগান টানানো, যাতে লেখা ‘গৌরবের দায় স্বাধীনতা রক্ষা করা’। ইরাকে তোমাদের যে জেলখানা’টা আছে, তার নাম ‘স্বাধীনতা ক্যাম্প’ (Camp Liberty)। আমার মনে করি এটা স্বাধীনতা/মুক্তি(Liberty)শব্দের ভয়ংকর অপব্যবহার, আমি তোমার কাছে জানতে চাই, তুমি কি সত্যি'ই মনে করো আমেরিকার ভিতরে রাষ্ট্র নামক যে বস্তুটা ক্রমশ বিকট আকার ধারণ করছে, প্রতিযোগীদের সাথে পাল্লা দেবার জন্য তার বাস্তব প্রয়োজন আছে...চীন, ইউরোপের সাথে প্রতিযোগিতার জন্য? নাকি লাগাম-হীনতার এই সূত্র রাষ্ট্রের মূলেই নিহিত? (is it now a self-feeding system ?)
০৯:৪৩
ডেহ
সহজ, আসলে...সমস্যার মূলে আছে মানুষ, মানুষই সমস্যার গোড়ায়। এরা লোভী, এরা মিথ্যাচারী, এরা ভণ্ড, এরা কুটনা... এরা ভীষণ স্বার্থপর! হিসাব সহজ! যারা সরকার চালায় তারাও এই একই প্রকৃতির নষ্ট মানুষজন –সাথে হাতে পাওয়া বাড়তি ক্ষমতা! একারণেই এদের নজরদারি আর নিয়ন্ত্রণ করতে হবে আর তাতে আমি তোমার সাথে একমত...নিরাপত্তা এই সেই ইত্যাদি। তথাপি, আমরা কিন্তু একটা ‘পূর্বাপর সম্বন্ধ সূত্রে’র (context) মধ্যে বাস করি. যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরাইলের উপর বিভিন্ন মহল সংঘবদ্ধ আক্রমণ চালাচ্ছে -আন্তর্জাতিক বামপন্থীরা, যারা অত্যন্ত শক্তিশালী; দক্ষিণ আমেরিকার ঐসব একনায়কেরা যাদের সাথে আমার জানা মতে স্লাভোয়ের গলায়গলায় ভাব......, ইসলামী-ফ্যাসিষ্ট ইত্যাদি। আর তার উপরে এদের অনেকেরই পারমানবিক অস্ত্র আছে, আছে রাসায়নিক আর জৈব অস্ত্রের মজুদ। আমার মনে হয় এই সব কারণ এমন এক বিপর্যয় ডেকে আনবে যা বিংশ, একবিংশ শতকের সব কিছুই মোটামুটি নিশ্চিহ্ন করে দিবে।
১০:৪১
জুঅ্যা
তোমার কি মনে হয় না এইযে কু’বিশাল এক গোপন আমলাতন্ত্র যারা দরজায় খিড়কি দিয়া ভিতরে নিজেরা গোপন সুযোগ-সুবিধা বিনিময় করে, তোমার কি মনে হয় না সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নে সম্ভবত একই ঘটনা ঘটছিল –অর্থাৎ আমাদের আরও বড় শক্তিশালী সোভিয়েত ইউনিয়ন চাই...?
১১:০০
ডেহ
সম্ভব। সম্ভব যদি প্রতিযোগিতা বন্ধ করা যায়, কিন্তু বাস্তবতা হোল... দেখ, তুমি জানো হোয়াইট হাউজের ঐ লোক যে একজন বামপন্থী? [বারাক ওবামা- ফেআ] যারে বামপন্থীরা প্রশিক্ষণ দিছে, যার পুরা রাজনৈতিক জীবন ছিল বামপন্থার সাথে। এইসব প্রতিযোগিতাও আছে, তুমি জান, আসলে কোনও একক পাওয়া সম্ভব না যা পরিপূর্ণ। সব কিছু কিভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকে তার রহস্য তো তুমি জানই। বিষয়টা এই ভাবে দেখতে পার, ধরো এই দলগুলা এক একটা মাফিয়া চক্র যারা একে অপরের গলায় ছুরি ধরে আছে আর সেই কারণেই আমরা নিরাপদ/ভারসাম্যে আছি।
১১:৩৩
স্লাজি
কোনও রকম আমেরিকা বিদ্বেষ ছাড়াই আমি একটা ছোট্ট কথা বলি...
ডেহ
সমস্যা হল রাশিয়ার মত দেশ গুলা নিয়ে যারা চাইলেই বিরোধী দলের কার্যক্রমই বন্ধ করে দিতে পারে।
জুঅ্যা
ডেভিড... ডেভিড..
স্লাজি
হ্যাঁ, জানি, রাশিয়া। তুমি বুঝাতে চাচ্ছ পুতিন। আমি জানি তুমি কি বোঝাতে চাও –রাশিয়া, পুতিন! কিন্তু পুতিন ই কি সেই লোক না যার সাথে পরিচয় হওয়ার পরে বুশ বলছিল, মনে আছে তোমার, বলছিল, ‘ আমি পুতিনের চোখের দিকে তাকিয়ে ছিলুম, বুঝিতে পারেছিলুম এই লোকটিকে আমি বিশ্বাস করিতে পারি’! এইটা একটা ফুটনোট হিসেবে বললাম। আমি যা বলতে চাইতেছি তা হোল দেখ, দেখ...
১২:০০
হ্যাঁ, ঐ কথাটা ছিল সেইসময়ে বলা বুশের গর্ধব-মার্কা কথামালার শীর্ষে!
১২:০৪
স্লাজি
হ্যাঁ, যা বলতেছিলাম। শোন, আমি...দুঃখজনক ভাবে
ডেহ
এই সাক্ষাতকার কি তোমরা রাশিয়ান টিভিতে প্রচার করবে!? [হয়ত, রাশিয়া টু'ডে(RT) -ফেআ]
স্লাজি
সবার আগে বলা জরুরী যে তুমি কমিউনিষ্ট শব্দটা যেভাবে ব্যাবহার কর... কমিউনিষ্ট’রা তাদের সত্যিকারের বিরোধীদল ডেমোক্রেটদের নিশ্চিহ্ন করে দিতে চায় –এই প্রোটোটাইপ গুলা তোমার জানার কথা –কমিউনিস্টরা ভাবে তারা বাদে আর সবাই ফ্যাসিষ্ট, ন্যূনতম গণতান্ত্রিক দাবিদাওয়া যাদের কাছে... ‘ফ্যাসিষ্ট প্রতি-বিপ্লব’ ইত্যাদি ইত্যাদি! দুঃখজনক ভাবে আমার বলতে হচ্ছে তুমিও ‘কমিউনিস্ট’ শব্দটা মোটামুটি একই অর্থে ব্যাবহার করছ। যে ই আমেরিকান রক্ষণশীল স্থাপনাগুলার ন্যূনতম সমালোচনা করবে সে ই কমিউনিষ্ট। তাহলে, অবশ্যই, ওবামা কমিউনিষ্ট...সবাই কমিউনিষ্ট।
১২:৪৪
ডেহ
দাড়াও! তুমি নিশ্চয়ই...তুমি নিশ্চয়ই বারাক ওবামার কথা বলছ না! কারণ...
স্লাজি
অবশ্যই। দুনিয়ার কোন যুক্তিতে সে একজন কমিউনিষ্ট হয়...?
ডেহ
তাইলে বারাক ওবামা আসলে কে বা তার অতীত কি, সেই সম্পর্কে তোমার কোনও ধারনাই নাই!
কারণ এটা শুধু একার আমার করা সমালোচনা না...
১৩:০১
স্লাজি
দেখ, আমি অতীত ইতিহাস নিয়া মাথা ঘামাই না। স্টালিন তো প্রথমে একজন ধার্মিক কবি ছিলেন, কাব্য করে বেড়াতেন, আমার কাছে কয়েকটা আছেও –আমরা দুজনেই যা জানি। কিন্তু আমি সংক্ষেপে যা বলতে চাই... তথাপি তোমার কি মনে হয় না যে... আমার মনে হয়, এইটা হাস্যকর..
ডেহ
আর, তুমি কি ভাবো ‘শো ট্রায়াল’ গুলার সাথে সরকারি গোপন তদন্তের কোনও সম্পর্ক নাই, হুহ? [বাঁকা-হাসি]
[স্টালিন আমলের কথিত ‘শো ট্রায়াল’(Show Trial) গুলোর প্রতি ইঙ্গিত করা হচ্ছে সম্ভবত -ফেআ]
স্লাজি
তথাপি তোমার কি মনে হয় না... অন্তত আমার বিবেচনায় প্রেসিডেন্ট হিসেবে বুশের সবচে বড় ব্যর্থতা তার বুদ্ধিহীন-...আমি আগ্রাসী শব্দটা ব্যবহার করতে চাই না...ফাক ইট, মাঝে মধ্যে আগ্রাসী হবার প্রয়োজন আছে – তার বুদ্ধিহীন রাজনীতি, তার...তার দশকের/শাসনামলের ফলাফল হিসেবেই যুক্তরাষ্ট্র কার্যকরীভাবে প্রধান বিশ্ব পরাশক্তি হিসেবে তার স্থান হারানোর দ্বারপ্রান্তে পৌছাইছে, ল্যাটিন আমেরিকায় কার্যত তার নিয়ন্ত্রণ নাই ইত্যাদি ইত্যাদি। এবং আমি মনে করি এবং এইটা বামপন্থী হিসেবে কোনও গোপন আনন্দ নিয়া বলতেছি না যে, হে হে শেষ পর্যন্ত আমেরিকার বারোটা বাজানো গেছে, বরং আমার মনে হয় এবং তুমি হয়তো আমার সাথে একমত হবা যে আমরা ক্রমশ একটা খুবই বিপদজনক, বহুকেন্দ্রীক পৃথিবীতে প্রবেশ করতেছি। আমেরিকা আবার কোনোভাবে তার হারানো নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাবে সেই দিবাস্বপ্ন আমি অন্তত আর দেখি না।
১৪.১৯
ডেহ
খুবই বিপদজনক, আমি একমত।
স্লাজি
হ্যাঁ – সেটা একটা বিপদজনক পৃথিবী। দ্বিতীয়ত, ইউরোপ কিন্তু অতটা খারাপ না। শোন! বাস্তবতা স্বীকারে দোষ নাই আর আমি জানি এই কথা বলাতে অনেক বামপন্থীরা আমাকে ইউরোপ-কেন্দ্রীক ইত্যাদি হাবিজাবি বলে গালাগাল দিবেন। 'ইউরোপিয়ান কল্যাণ রাষ্ট্রের' (European Welfare State Dream) স্বপ্ন’টা – যদি আমরে সেই ইউরোপিয়ান প্রেম প্রকাশে সুযোগ দাও- আমি মনে করি যুক্তরাষ্ট্রে স্বপ্নের চেয়েও বড়/ব্যাপক! দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পরের সেই সময়টা কি একটা দারুণ সময় ছিল না? সেই মঙ্গল রাষ্ট্র যেখানে অসংখ্য মানুষ নিরাপদে জীবন যাপন করছে...তাদের স্বাধীনতা ইত্যাদি! ইউরোপ নিয়া এত হাসিঠাট্টা কইরো না। যতদিন পর্যন্ত টিকে ছিল, তা ছিল অসামান্য এক ব্যাপার।
১৫:০৩
ডেহ
ধুর! ও এক দুর্যোগের আমল ছিল। ইউরোপ একটা সাংস্কৃতিক থিমপার্ক, বিশেষত্বহীন। এই হইছে তাই পরিণতি! তোমাদের ঐ মঙ্গল রাষ্ট্রের স্বপ্নই ইউরোপরে খেলায় (পরাশক্তির -ফেআ) ল্যাং মারছে। তাই সে কোনও সিনেই নাই।
১৫:১৬
জুঅ্যা
সোশ্যালিস্টদের স্বপ্নের স্বর্গ সুইডেনে -আমার ব্যক্তিগত বেশ অভিজ্ঞতা আছে এবং আমি হলফ করে তোমাকে বলতে পারি বিজ্ঞাপনে যা প্রচারিত হয় তার সাথে বাস্তবের সিকিভাগও মিল নাই।
স্লাভ
২০ কি ৩০ বছর আগেও কিন্তু এমন ছিল না! আমার ধারণা ... ওদের কিছু একটা ভাইঙ্গা পড়ছে।
ডেহ
ঠিক, সুইডিশ’দের কোনও নৈতিকতা নাই।
১৫:৩২
ডেভিড, একটা কাল্পনিক সাম্যবাদী সমাজের জন্য যে আকাঙ্ক্ষা তা হল– যা আছে তার চেয়ে ভাল অবস্থানে যাবার চেষ্টা –এমনকি তা যদি স্বাধীনতাও হয়, মানুষ চায় আরও বেশি স্বাধীনতা, মানুষ তো সে দিকেই পথ হাঁটে। প্রত্যাশা আর আদর্শের নিরিখেই মানুষ তার সমসাময়িক ঘটনাবলি বিশ্লেষণ করতে পারে। সেই পথ আমরা কি শেষে ধর্মের কাছে বিসর্জন দিলাম? কারণ, সাম্যের চেতনারে বন্ধী করার জন্য ধর্মতত্ত্ব ওত পেতে আছে।
১৫:৫৯
ডেহ
জীবন অর্থহীন, মানুষ পৃথিবীতে উদ্দেশ্যহীন ভাবে জন্মায় আর মরে গিয়ে বিস্মৃত হয় – এই বোধ নিয়া কোনও মানুষের পক্ষে জীবনযাপন করা সম্ভব না। অন্তত অধিকাংশ মানুষের পক্ষেই। যে কারণে, তুমি যদি ধার্মিক হও -মৃত্যুর পরে ঈশ্বর জীবনের হিসেব মিলিয়ে দিবেন- তোমার আত্মশুদ্ধির জন্য মৃত্যু পরবর্তী জীবন আছে। কিন্তু তুমি যদি অবিশ্বাসী হও তাহলে তো তুমি এই জীবনেই আত্মশুদ্ধি করতে চাইবে। বামপন্থা আদতে এ ই – এটাও একটা রিলিজিয়াস মুভমেন্ট, আর এটা কোনও কাকতালীয় ঘটনা না যে এইসব বাদ/তন্ত্র (ism) - এইসব কল্পনাদৃষ্টি(Utopianisms), তা সে সমাজতন্ত্র(Communism), ফ্যাসিবাদ(Fascism), নাৎসিবাদ(Nazism) যা ই হোক না কেন..
১৬:৩৩ স্লাজি
অথবা উদারতাবাদ (liberalism).
ডেহ
অথবা কি ?
স্লাজি
অথবা উদারতাবাদ। এটাও তো একটা কল্পনা!
১৬:৪০ ডেহ
মানুষের সবসময়ই চেষ্টা করতে হবে পৃথিবীটাকে আর একটু ভাল করার। খুব সামান্য পরিবর্তন আনার জন্যই পর্বত সমান স্পৃহা প্রয়োজন, সুতরাং তুমি বুঝতেই পারছ, তুমি (জুলিয়ান) যা করতে চাও তাকে বর্ণনা করা যায় এমন কিছু আমি খুঁজছি। তুমি যা করতে চাও, তুমি যে গোঁড়ামি(র্যাডিকেল) করতেছ তার পরিণতি ভয়াবহ/ধ্বংসাত্মক হতে পারে।
স্লাজি
কিন্তু ইতিহাসে যখন এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে তখন তোমাকে অবশ্যই...দেখ...যখন তোমার সামনে হিটলার বা হোলোকাস্ট/ইহুদী-নিধন...
[দুজন ঝগড়া করতেছ...ফলত কিছুই পরিষ্কার শোনা সম্ভব না]
ডেহ
...কিন্তু সেগুলা বন্ধ করার রাস্তা এইটা না,
স্লাজি
কিন্তু, যখন তুমি হিটলার যা হোলোকাষ্টের মত পরিস্থিতির সম্মুখীন, তুমি নিশ্চয়ই বলবা না, ‘এই, চল ঐ নাৎসি লোকটার সাথে বন্ধুত্ব পাতাই’, ধীরে ধীরে পরিবর্তনের চেষ্টা চালাই...তোমাকে অবশ্যই এমন কিছু করতে হবে...
ডেহ
হ্যাঁ, একদম ঠিক কথা।
১৭:১৪
স্লাজি
কখনো কখনো তোমাকে আক্রমণাত্মক হইতেই হবে। আমি আশা করি এই ব্যাপারে অন্তত আমরা একমত। আর ঐসব ইউটোপিয়ান ব্যাপার-স্যাপার প্রসঙ্গে আমার অবস্থান নমনীয়। সবার মতই আমিও দেখতেছি ; আমরা ক্রমশ একটা সম্ভাব্য আকস্মিক বিপর্যয়ের দিকে আগাইতেছে, আর আমি শুধুমাত্র বলতে চাই যে আমাদের সজ্ঞানে, সজাগ ভাবে এইসব বিপর্যয়ের মুখোমুখি হইতে হবে – কোনও সহজ কাল্পনিক সমাধানের কথা ভাবলে চলবে না তা সে কমিউনিষ্ট, লিবারেল অথবা অন্য যেকোনো কিছুই হোক না কেন।
ডেহ
আমি আলোচনার একটা সারাংশ করার চেষ্টা করি...
স্লাভ
সে(ডেভিড) সাধারণ সম্পাদকের পদ চাইতেছে -স্টালিন! আলোচনার শেষে যে রেজুমি লিখে! কিমিউনিষ্ট সুলভ স্বভাব তার(ডেভিড) যায় নাই! [হাসি]
১৭:৫২
ডেহ
কিছু একটা বলতে চাচ্ছিলাম, ভুলে গেছি! যুদ্ধ নিয়তির মতন...যুদ্ধই মানবকুলের স্বাভাবিক অবস্থা! সবসময়ই যুদ্ধের দামামা বাজছে পৃথিবীতে, সেই শুরু থেকেই। শান্তি তখনই আসছে যখন সম্ভাব্য আগ্রাসী গোষ্ঠীগুলারে চোখ-রাঙানি দিয়া দাবাইয়া রাখার মত এক অথবা একাধিক পরাশক্তি তৈরি হইছে! বরং আমি তোমাকে প্রশ্ন করছি, যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে কা’কে/কাদের'কে তুমি সেই পরাশক্তি হিসেবে চাও?
স্লাজি
আমি জানি না। কিন্তু আমার বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রের এখন আর সেই পদে প্রার্থিতা করার যোগ্যতাও নাই।
ডেহ
আর যুক্তরাষ্ট্র... ঠিক, এ কারণেই আমরা ঐরকম বিপর্যয়ের (উয়িকিলিক্স -ফেআ) সম্মুখীন হচ্ছি। কিন্তু তুমিও এসব বিপর্যয়ে ইন্ধন যোগাতে বামপন্থিদের উৎসাহ দিচ্ছ!
১৮:৩২
জুঅ্যা
কিন্তু তোমাদের আঞ্চলিক সরকারকে (states) জবাবদিহিমূলক করার পথটাও কি অনুরূপ নয়, অঞ্চল নির্বিশেষে একটা মুক্তবাজার (free market)ব্যবস্থা রাখা?
স্লাভো
তুমি কি ইঙ্গিত করতেছ, ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক বিকল্পের দিকে?
জুঅ্যা
...ঠিক তাই...ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক বিকল্প, এবং তখন এই অঞ্চলের(state) নিয়ম-কানুন/ব্যবস্থাপনায় না পোষালে লোকে অন্য অঞ্চলে চলে যেতে পারে। নিজেদের ব্যবসা-বাণিজ্য, সহায়-সম্পদ, পরিবার-পরিজন সব কিছুই তারা সরিয়ে নিতে পারে।
১৮:৪৫
ডেহ
যুক্তরাষ্ট্রের সামর্থ্য নাই...ইরাকে আমরা যার প্রমাণ দিছি। আমরা একটা সামান্য দেশই দখল করে রাখতে পারি না! কোনমতে দু-চারদিন টিকতে পারি, তা ও তো ঐ যুদ্ধে ছয় সপ্তাহ টিকছি। আমেরিকা হল...এটা এমন দেশ যেখানে লোকজন খুব...আসলে এদেশে সুযোগ অনেক...এখানে লোকজন আনন্দ করতে ব্যাস্ত... আমি যুদ্ধে যাব না ইত্যাদি, আমেরিকানরা যুদ্ধে যেতে চায় না।
১৯:১২
জুয়া
আমেরিকাকে যুদ্ধে নিতে হয় মিথ্যা কথা বলে!
ডেহ
না কিন্তু, বরঞ্চ টনি ব্লেয়ার সেই কাজ করছে। আমেরিকা পঙ্গু – কারণ তাদের প্রধান সেনাপতি নিজেই একজন বামপন্থী।
১৯:২৮
স্লাজি
ঠিক এইখানেই আমি দ্বিমত পোষণ করি এবং আমি আন্তরিক ভাবেই বলতেছি। বিশ্বের কাছে যদি যুক্তরাষ্ট্রের এখনও ন্যূনতম গ্রহণযোগ্যতা ইত্যাদি থাইকা থাকে, তোমার শুনতে তিতা লাগলেও, তা ঐ ওবামার মত লোক'দের কারণেই, যারা ওখানে কিছু করলেও করতে পারে!
জুঅ্যা
তার প্রশাসনের চতুর্থতম কার্যদিবসে ওবামা পাকিস্তানে প্রথম ড্রোন হামলা চালানোর অনুমোদন দিয়েছে। কি মনে হয়, তার আসল চেহারা কি?
১৯:৪৯
ডেহ
যখন সে অফিসে বসল, এবং এমনকি তারও আগে যখন সে নির্বাচনী প্রচারনা চালাচ্ছিল সে তখনই খুব ভাল করে জানতো মিলিটারিতে তার অবস্থান বেশ নড়বড়ে। যে কারণে, সে প্রথমেই পাকিস্তানকে বলীর পাঁঠা বানায়। সে তুলনামূলক ভাবে অধিক অসামরিক-হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী অথচ বামপন্থীরা তাতে গোস্বা করে না, কারণ বাম’রা একটা ধর্মবাদী চক্র, তারা নীতি-নৈতিকতার ধার ধারে না। তুমি জান...ঐসব এশিয়ানরা ড্রোন বোমায় মারা পড়লে বাম’দের কিছু যায় আসে না...তুমি জান...বা যারা রাস্তায় প্রতিবাদ করছে তাদের ব্যাপারেও...
জুঅ্যা
কিন্তু, সে করতে চাচ্ছে কি?
ডেহ
...ওবামা পাকিস্তানে আর আফগানিস্তানে যা করছে! তুমি জান...এটা কল্পনারও অতীত...বামপন্থীদের উপরে আমার আর কোনও শ্রদ্ধা অবশিষ্ট নাই কারণ আমি বিশ্বাস করি না তাদের কোনও নীতি আছে।
২০:৩২
স্লাজি
এইখানেই আমাদের তফাত। আমরা দুজনেই ওবামার সমালোচনাকারী। তুমি তার সমালোচনা কর, কারণ তোমার কাছে সে একজন কমিউনিষ্ট, বামপন্থী। আমি তার সমালোচনা করি কারণ আমি মনে করি না সে কোনও মনে-মনে/গোপনে/শরমিন্দা কমিউনিষ্ট। হয়ত সে ভান ধরতে পারে, কিন্তু সে অবশ্যই কোনও কমিউনিষ্ট না। তোমার আমার অমিল এই জায়গায় কেবল।
২০:৫৫
ডেহ
তুমি জানোই না তুমি কি বলতেছ, স্লাভোয়ে।
স্লাজি
আচ্ছা! জানে কে তাইলে?
ডেহ
তুমি বুঝবে, মানে..., তারেক আলীর কথাই শুনে দেইখো, সেও ওবামার কট্টর সমালোচনা করে ...কিন্তু তার কারণ তোমারা এক এক জন অতি-বাম(left to the leftist)।
স্লাজি
এই...এই...এইগুলা তোমার পুরাণ বামপন্থী দোস্তের দল হইতে পারে, তারেক আলী(Tariq Ali) আমার বন্ধু না।
২১:১০
স্লাজি
শোন, ঐসব ‘গণতন্ত্রবাদী বাম’ নামক গু আমি পয়সা দিয়া কিনি না, ‘অঞ্চলবাদী তৃণমূল গণতন্ত্র’ ইত্যাদি, বাল-ছাল যতসব! আমি শুধু বলতে চাই, যে মৌলিক সমস্যা কমিউনিজমের জন্ম দিছিলো সেই সমস্যা তার অবিকৃত চেহারায় আমাদের মাঝে এখনও বিদ্যমান। আর তার সমাধান না খুঁজে পাওয়া পরিণতির কথা চিন্তা করলে আমি সন্ত্রস্ত বোধ করি।
ডেহ
না, সেই সমস্যা এখন নাই। আর, কিছু সমস্যা পৃথিবীতে চিরদিনই থকবে।
স্লাজি
কিন্তু পৃথিবীতে তো সমস্যার অন্ত নাই...
ডেহ
এইটাই বাস্তব দৃষ্টিভঙ্গি। আর যেকোনো সমাধানের পাইতে হলে তার দাম তোমাকে চুকাইতেই হবে...
(এপর্যায়ের কথা কিছু বুঝা যায় না ঝগড়ার কারণে)
২১:৩৭
জুঅ্যা
ঠিকাছে, ঠিকাছে চলুন...ভদ্রমহোদয়গণ, ভদ্রমহোদয়গণ, আপনারা দয়া করে থামুন...আমাদের আরও বেশ কিছু বিষয়ে কথা বাকি... [হাসি]
স্লাজি
ঠিক তাই...
জুঅ্যা
[হাসতে হাসতে] ...আরও বেশ কিছু বিষয়ে কথা বলা বাকি...
স্লাজি
আমরা (ডেভিড, জিজেক) হইলাম দুই উগ্রপন্থী, আর সে(জুলিয়ান) কিনা একজন লিবারেল হইয়া আমাদের থাইমাতে চাইতেছে... এক কাম করি বরং, আমারা দুই উগ্রপন্থী একজোট হইয়া এই লিবারেলটারে খাইয়া দেই!
২১:৫৪
জুঅ্যা
বেশ কিছু ব্যাপার বাকি এবং আমি চাই সেই ব্যাপারগুলা তুলতে, বুঝলে? সুতরাং, ডেভিড, তুমি ব্ল্যাক-প্যানথারে ছিলে, এবং হুয়ি-পরবর্তী যুগ পর্যন্ত সক্রিয়... [সম্ভবত হুয়ি নিউটান (Huey Newtion) -ফেআ]
ডেহ
কি? না আমি কক্ষনোই তাদের সদস্য ছিলাম না। আমি কেবল অর্থ সংগ্রহের প্রচারনা চালাতাম...
২২:০৯
জুঅ্যা
তুমি তাদের সাহায্য করতে। তুমি তাদের কাজকর্মে অংশগ্রহণ করতে এবং তাদের সমর্থন করতে...
ডেহ
হ্যাঁ, হ্যাঁ।
২২:১৫
স্লাজি
তুমি ছিলা হিটলারের জন্য অর্থ-সংগ্রহকারী ঐতিহাসিক সেইসব ব্যাংকারদের মত... যদি তুলনা করি!
২২:২০
জুঅ্যা
...এবং র্যাম্পার্টজ্ (Ramparts) ম্যাগাজিনের সম্পাদক থাকাকালীন সেখানকার একজন বই-ব্যবস্থাপক (Bookkeeper), বেটি ভ্যান প্যাট’কে (Betty Van Patter); তুমি প্যানথারদের সাথে পরিচয় করিয়ে দাও। এবং তোমার কাছে পাঠানো একজনার একটা চিঠি সম্পর্কে আমি এখন দৃষ্টি আকর্ষণ করছি...আ..., ‘আমি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি তুমিই বেটির মৃত্যুর জন্য দায়ী, ঐ রকম একটা সময়ে তাকে প্যানথারদের বই অডিট করতে পাঠানো আর তাকে একটা 'কু-ক্লুক্স-ক্ল্যান’এর সাদা পোশাকে ১২৫ হার্লেম স্ট্রিট বা পশ্চিম ওকল্যান্ডে পাঠানোর মধ্যে কোনও তফাত ছিলনা।...’
[‘ক্লু-ক্ল্যাউক্স-ক্ল্যান’ (Ku Klux Klan) কুখ্যাত সাদা বর্ণবাদী গোষ্ঠী। নিওয়র্কের হার্লেম এলাকা বিখ্যাত তার সুদীর্ঘ প্রতিরোধের ইতিহাসের জন্য যার মধ্যে অন্যতম আমেরিকায় কালোদের মুক্তি আন্দোলন– সেই রাজনৈতিক নক্ষত্রদের নামে নাম করন করা হয়েছে ঐ এলাকার কিছু রাস্তার –মার্টিন লুথ্যার কিং জুনিয়র সরণী, ম্যালকম এক্স এভিনিউ ইত্যাদি। তবে, এই চিঠিতে ১২৫ হার্লেম স্ট্রিটে সংঘটিত কোনও বিশেষ ঘটনা নির্দেশ করা হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত নই। -ফেআ]
ডেহ
জুলিয়ান, এটা কোনও... এটা কোনও... এক লোক তার ক্ষোভ উগড়াচ্ছে বিষাদে ভরা ঐ চিঠিতে, সে নিজেই ব্ল্যাক-প্যানথারের সাথে জড়িত ছিল, আমার আগেই, অথচ সে আমকে তখন জানায় নাই। বামপন্থীরা তাদের উদ্দেশ্য রক্ষার জন্য যেকোনো কিছু বা ব্যক্তিকে বিসর্জন দিতে প্রস্তুত, ঐ বিশেষ ক্ষেত্রে তা ছিলাম আমি!
২৩:১২
জুঅ্যা
ডেভিড, তোমার কি মনে হয় এই বিয়োগান্তক ঘটনা... তুমি একটা হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিলে – আমি বোঝাতে চাচ্ছি, তোমার পরিচিতের মধ্যে একটা হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছে! তোমার জীবনে এই ঘটনা ভীষণ গুরুত্ব বহন করে এবং এটা নিশ্চয়ই পৃথিবীর প্রতি তোমার দৃষ্টিভঙ্গি’কে প্রভাবিত করেছে, কিন্তু তোমার কি মনে হয়... এই ঘটনা কি তোমার চোখে বাস্তবকে উন্মোচন করেছে, নাকি উল্টো তোমার দৃষ্টিভঙ্গি’কে অস্বচ্ছ করে দিয়েছে?
২৩:৩৬
ডেহ
আমি এ ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন ছিলাম। বেটি খুন হয়... অর্থাৎ ওর লাশটা পাওয়া যায় ১৯৭৫’এর ফেব্রুয়ারিতে,..., এর পরবর্তী অনেকগুলো বছর আমি রাজনৈতিক ভাবে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় ছিলাম...নয় বছর! ১৯৮৪’তে আমি রেগান'কে ভোট দেই, সে সময়ে’ই রক্ষণশীল হিসেবে আমার আত্মপ্রকাশ। স্বভাবতই, বাম-ব্লক আমাকে প্রচণ্ড চাপ দিচ্ছিল, কিন্তু আমি কিছুই প্রকাশ করি নাই..., ঐ নয় বছরে বাম ব্লক’কে আক্রমণ করার মত কোনও রাজনৈতিক সক্রিয়তাও আমার ছিলনা, আমি খুব সতর্ক ছিলাম...বুঝতেই পারছ, মনে হত আমি ঐ আন্দোলন দ্বারা প্রতারিত, যা সমর্থন করতাম তার কথা ভেবে অনুশোচনা হোতো, তাই, তুলনামূলক ভাবে মানসিক স্থিরতা ফিরে পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষায় ছিলাম! আসলে, বিশ্বাস-অবিশ্বাস থাকা বা না থাকার ব্যাপারটা মানুষের চরিত্রগত, কিন্তু...
২৪:৪৫
জুঅ্যা
ডেভিড, বেটির মৃত্যুর পরে তুমি জীবনী লেখা শুরু কর –রকাফেলার সহ আমেরিকার অন্যান্য বড় পরিবারগুলোর...
ডেহ
হ্যাঁ, হ্যাঁ...
জুঅ্যা
তুমি এই জীবনীগুলো লেখার সময়ে কি এইসব প্রভাবশালী পরিবারের বিভিন্ন সদস্যদের সাক্ষাৎকার নাও?
ডেহ
হ্যাঁ।
জুঅ্যা
জীবনী গুলো লেখার সুবাদে তুমি নতুন একটা বিশেষ সামাজিক বলয়ের মধ্যে প্রবেশ করতে থাক...
২৫:০৬
ডেহ
না, না, না। আমার চলাফেরা সারাজীবন প্রায় একরকমই ছিল। আমি কোনও বিশেষ বলয়ের মধ্যে যাই নাই...হয়ত কিছুটা গেছি, আমাকে যেতে হয়েছে। বামপন্থী থাকা কালীন যে বন্ধুরা ছিল তাদের সবার সাথেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, আর ওটা ছিল আমার মধ্য-জীবন, স্বভাবতই আমাকে নতুন বন্ধু তৈরি করে নিতে হইছে। আমার মনে হয় যারা বাম-ব্লকে থেকে যায় তার পেছনে এই ব্যাপারটা একটা বড় প্রভাবক হিসাবে কাজ করে কারণ তারা জানে একবার সীমানা ভাঙলেই সব বন্ধুরাও ছেড়ে যাবে...
[ডেভিডের ফোন আসে, আবার]
দুঃখিত!
২৫:৫৩
স্লাজি
সমস্যা নাই। আমি মানবিক কমিউনিজম চাই যেখানে তুমি এই কাজ চালাইয়া যাইতে পারবা। [হাসি]
ডেহ
...না, তোমাদের কাজ/সক্রিয়তা ইত্যাদিকে অসম্মান করার জন্য না।
আমকে এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়েও দেহরক্ষী নিয়ে যাইতে হইছে এই দেশের ফ্যাসিষ্ট বামপন্থীদের কারণে।
জুঅ্যা
সারা পৃথিবীতে আমার হুলিয়া জারি...
স্লাজি
আমি এই রুমে একমাত্র ব্যক্তি যে কমিউনিষ্ট হিসেবে ডানপন্থীদের হাতে শারীরিক নির্যাতনের স্বীকার হইছি, আবার জাতীয়তাবাদের বিশ্বাসঘাতক হিসেবে কমিউনিষ্ট দের হাতে...
ডেহ
আরে ধুর, আরে ধুর (চাপাবাজি কইরো না) [হাসি]
স্লাজি
না, না, আমি ঠাট্টা করতেছি না।
২৬:২৫
ডেভিড, আসন্ন নির্বাচনে তুমি কারে ভোট দিবা?
ডেহ
আচ্ছা, আমাদের তো এখন পর্যন্ত প্রার্থী মনোনয়ন হয় নাই, তবু জানতে চাইলে...
জুঅ্যা
আচ্ছা, আমি বুঝাতে চাইছি যারা মনোনয়ন প্রার্থী তাদের মধ্যে!
ডেহ
আমার ধারনা এই লোককে কেউ যদি পরাজিত করতে পারে, সেটা রম্নি।
জুঅ্যা
ওবামাকে পরাজিত করতে ?
ডেহ
হ্যাঁ। আমি আসলে কোনও প্রার্থীর(রিপাবলিকান) ব্যাপারেই সন্তুষ্ট না।
২৬:৪২
স্লাজি
এই জায়গায় আমি একমত। এইটা নেহায়েত লজ্জাজনক এবং হয়ত দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাতন্ত্র্যর জন্যই নেতিবাচক, আমি যেভাবে ব্যাপারটা দেখি, -যে রিপাবলিকান পার্টি একজন নেতাও তৈরি করতে পারে নাই যারে নিয়া দলের সমর্থকরা অন্তত আশাবাদী হইতে পারে ইত্যাদি।
ডেহ
একমত
স্লাজি
এটা দুঃখজনক। এই ব্যাপারটা আমি ভাল চোখে দেখছি না।
ডেহ
আমি একমত, এটা খুব ক্ষতিকর।
২৭:০৬
জুঅ্যা
ধন্যবাদ, ডেভিড হরোইডজ ।
স্লাজি
দুঃখিত। সে (ডেভিড) একজন গোপন...সে কমিউনিষ্ট দের চাইতেও খারাপ, সে হইল একজন নমনীয় সমাজবাদী (Socialism with a human face), যা মূলত অস্তিত্বের নিকৃষ্টতম রূপ। [হাসি]
ডেহ
এব্যাপারে আমি কিছু জানি না..[হাসি]
স্লাজি
নমনীয় সমাজতন্ত্র হল দশা'র মধ্যে সবচেয়ে অচল দশা, এইটা অনেকটা ব্যাঙ্গের হামাগুড়ি দেবার মত!
[socialism with a human face-প্রবাদটা ‘প্রাহা বসন্ত’কালিক (Prague Spring) সময়কে প্রকাশ করে। রাষ্ট্রের বিপরীতে ব্যক্তি স্বাধীনতাকে প্রাধান্য দেয়ার নামে ৬০’এর দশকে শেষভাগে প্রাক্তন কমিউনিষ্ট চেকোস্লোভাকিয়ার তৎকালীন পার্টির প্রথম সেক্রেটারি আলেক্সান্দার দুবচেক (Alexander Dubček) সরকার ব্যবস্থায় যে উদারতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কার শুরু করছিলেন তার নিশান ছিল এই কথাটা। দুবচেক নিজেই এই কথাটা প্রথম উচ্চারন করেন বলে কথিত আছে। পার্টি প্রধান হিসেবে দুবচেকের কার্যদিবস শুরুর প্রথম দিন, ১৯৬৮ এর ৫ই জানুয়ারি; হতে ২০শে আগস্ট পর্যন্ত সংস্কার চলতে থাকে, সোভিয়েতের চাপে ঐদিন রাজধানীতে ‘ভারসবা প্যাক্ট’(Warsaw Pact)এর সৈন্য প্রবেশ করে এবং সংস্কার চেষ্টা বন্ধ হয়ে যায়। -ফেআ]
২৭:২৫
জুঅ্যা
তোমাদেরকে ধন্যবাদ। বিদায়।
[ডেভিডের সাথে কনফারেন্সের ইতি, কক্ষে মাত্র জুলিয়ান ও জিজেক]
২৭:৩০
স্লাজি
ইয়া মাবুদ! শোন, তোমার একটু স্টালিনিয় সম্পাদনা করতে হবে। এতক্ষণ স্রেফ উন্মাদনা হইল!
[সাক্ষাৎকার শেষ, শেষ সঙ্গীত/নাম সম্মাননা]
*২৮ মিনিটের পর্বগুলা আপাতত কেবল RT সরাসরি সম্প্রচার করতেছে এবং প্রায়-সমসময়েই অন্তর্জালে বিনামূল্যে উন্মুক্ত করা হইতেছে। শো’র নিজস্ব ওয়েবপেইজে বলা আছে মূল সাক্ষাৎকারগুলোর দৈর্ঘ্য ২৮ মিনিটের বেশি এবং সেই পূর্ণদৈর্ঘ্য পর্বগুলা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে, জুলিয়ানের আইনি পরিস্থিতি বুঝে। ওয়েবপেইজে শো সম্প্রচারের লাইসেন্সের ব্যাপারে কিছু কথা বলা আছে, কিন্তু অনুলিখনগুলা'র লাইসেন্সের ব্যাপারে কিছুই বলা নাই। ধারনা করি, অন্তর্জালে যেহেতু তারা বিনামূল্যে উন্মুক্ত করে দিচ্ছে সেহেতু অবাণিজ্যিক ভাবে কেউ তার পছন্দের ভাষায় একটা অনুলিখন করার চেষ্টা করলে তা বেআইনি হবে না। তবে, ওদের কাছে করা মেইলের জবাব পাওয়া গেলে বিষয়টা পরিষ্কার হবে।
মন্তব্য
গুরুত্বপূর্ণ টক-শো'টির কথা জানতাম না। হয়তো ইউটিউবে এটি খুঁজে পেলে দেখে নেবো। ...
কিন্তু এখন পুরো টক-শো'ই একদম দৃশ্যমান। দীর্ঘ আলোচনা পর্বটি অনুবাদ আকারে ব্লগ পাতায় তুলে দেওয়ার জন্য ফেরদৌস আলমকে অশেষ ধন্যবাদ।
জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের প্রায় প্রতিটি বক্তব্যই চিন্তাশীল। বিশেষ করে তার এই দুটি বক্তব্য তো বটেই:
এবং
রিপোর্টারের ডায়েরি: পাহাড়ের পথে পথে...
একমত, অ্যাসাঞ্জের মন্তব্যগুলা টু দি পয়েন্ট ছিল! দার্শনিক বাগাড়ম্বরেও দেখলাম তার আগ্রহ তুলনা মূলক কম, অন্য-দুজনার চেয়ে !
দুই যুগ আগেই ওদের স্কুলগুলোর উপর করা গবেষণায় নাকি দেখা গেছে ওদের শিশুদের বুদ্ধিবৃত্তি আগের জেনারেশনের গুলার চাইতে ক্রমান্বয়ে কমতেছে, এই রকম কিছু একটা পড়ছিলাম, কোথায় মনে নাই! এমন কি যে ইউরোপ এই গবেষনার ফলাফলে আগাইয়া ছিল সেখানে গতবছর সুইডেনে করা এক গবেষনায়ও নাকি সুইডিশ টিনএজার'দের একই চিত্র পাওয়া গেছে। কিছুদিন আগেও RT'র এক রিপোর্টার নিওর্কের রাস্তায় র্যান্ডম ভাবে কিছু লোকরে প্রশ্ন করছিল, আফগানিস্তান কোথায়? গাদ্দাফি কে? ইরান কোথায়? রাজধানী কি? অর্ধেকের বেশি লোক জানে না। যদিও এগুলা ফালতু তুলনা বা টিজ করার করার জন্য করা, কিন্তু এর মধ্যে সত্য যে কিছু নাই তা কিন্তু না। আসলে, আমি মিথ্যায় বিশ্বাস করে যদি অন্যের দেশ দখল করতে চলে যাই, তাদের বোম্বিং করি, শিশু হত্যা করি তাহলে নিজেরে 'মিথ্যার স্বীকার' বলে দায় এড়ানোর সুযোগ নাই।
আসল সার্কাস হল ডেভিডের কথাগুলা... কতখানি প্রতিক্রিয়াশীল হইলে এইরকম আন্ধা মন্তব্য করা যায়! সব শব্দেরই সম্ভবত একটা নিজস্ব ভার্সন আছে এই লোকের! ডেভিডের মত প্রতিক্রিয়াশীল'রাই আসল ঝামেলাটা পাকায়!
যারা স্বাধীনতা এবং সাম্যের দ্বন্দ্বের ভুল ব্যাখ্যা দেয়, 'মানুষ মূলগত ভাবেই একদল নষ্ট জানোয়ার' এই টাইপ মনগড়া ব্যাখা দিয়া রাষ্ট্র-দানব কায়েম রাখতে চায়। যেখানে, বহু বৈজ্ঞানিক গবেষণায় অনেক আগেই দেখানো হইছে , পরিবেশের প্রভাবহীন ন্যেচার/প্রবৃত্তি বলতে কিছু নাই!
একদল আবার, সোভিয়েতের পতনের জন্য আমলাতন্ত্ররে দায়ী না করে এত বছর পরেও বেকুবের মত তাকে বামপন্থার ত্রুটি হিসাবে দেখাতে চায়! আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি অ্যাসাঞ্জও তার প্রশ্নে, রাষ্ট্রযন্ত্রের নিয়ন্ত্রনহীনতাকে
দায়ী করার ইঙ্গিত দিছে, বামপন্থা'কে না!
আর আমেরিকানরা যে গর্দভ একটা জাতিতে পরিণত হৈয়া উঠতেছে (দম্ভ, সুবিধা, ) সেই কথা তো বহু আমেরিকান'রাই সেই কবে থেকেই বলে আসতেছে
পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
মজা তো। কিন্তু অনেক বড়রে। টাইম পাইলাম না পুরাডা পড়ার। কাইলকা আবার ট্রাই মারুম। অনুবাদ তুরুপ হইছে।
হ, একটু বড়ই, আমিতো পিপড়ার বেগে টাইপ করি, তিনদিন লাগছে টাইপ করতে!
বহু ধন্যবাদ!
অসাধারণ একটা লেখা, অনেক কাজে লাগবে।
অনেক ধন্যবাদ।
রানওয়ে জুড়ে পড়ে আছে শুধু, কেউ নেই শূন্যতা-
আকাশে তখন থমকে আছে মেঘ,
বেদনাবিধুর গীটারের অলসতা-
কিঞ্চিৎ সুখী পাখিদের সংবেদ!
ধৈর্য করে পড়ার জন্য অনেকেও ধন্যবাদ!
লেখার আকারের কারণে পড়তে দেরি হল। একটু ফাঁকি দিয়ে দিয়ে পড়লাম (কিছু মনে কইরেন না)। এতটা পরিশ্রম করেছেন এবং এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ আলাপ তুলে এনেছেন - এজন্য সালাম।
অনুবাদ কিন্তু বেশ ভাল। আরও অনুবাদ দিয়েন।
আলাপের প্রথম দিকেই স্ট্যালিন ফোন করার খুব মজা পেয়েছি! হা হা হা...
........................................................
আদিবাসী বাঙ্গালী যত প্রান্তজন
এসো মিলি, গড়ে তুলি সেতুবন্ধন
হেহে, না দাদা। আমি অনুবাদ গিয়ে রসিকতা গুলা নষ্ট করে ফেলছি, ফুঁটে নাই, রসিকতার জায়গায় উল্টা টেনশন তৈরি হইছে! স্লাভোর মুখে শুনতে কিন্তু বেশি মজা লাগবে! অনেক ধন্যবাদ পড়ার জন্য।
অনেকদিন পর আপনাকে অনলাইনে দেখা যাচ্ছে। আপনি উন্মোচনে লিখুন। ভাল লিখেন বলেই এই আবদার করছি।
মন্তব্য