slideshow 1 slideshow 2 slideshow 3

You are here

বড় হয়ে দেখেছি...

জীবনটা কত বড় বা কত ছোট তা ব্যক্তি বিশেষ নির্ভর করে বলে আমার মনে হয়। মাঝে মাঝে এই সূক্ষ্ম,সুন্দর জীবনটা অনেক বড় ও কঠিন মনে হয়। জীবনের হিসাবে মেলে না এমন কোন ঘটনার পরিপেক্ষিতে গেলে মনে হয় আসলেই জীবনের পরিধি অনেক বড় এবং কঠিন।

বিধাতা জানেন জীবনের পরিধি কত বিস্তৃত। বিধাতার বিশ্বাসে এ জীবন অতি সূক্ষ্ম। কিন্তু কিছু কিছু ঘটনা যখন আপন মনকে ভাবিয়ে তোলে তখন আর সে জীবনের কোন হিসাব মিলানোয় দায় হয়ে যায়।

ছোট বেলা থেকে যে পৃথিবী দেখেছি,যে সুন্দরের ভূবনে বসবাস করেছি তা আর পায় নি খুজে যত বড় হচ্ছি ততোই যেন সেই সব ধারনা যাচ্ছে পালটিয়ে। ছোট বেলায় যে নয়নে বাবা,মা,ভাই,বোন,আত্মীয় স্বজন,প্রতিবেশি কে দেখেছি,বয়সের বাড়নে তা যেন অনেকটা মিথ্যা হয়ে যাচ্ছে আমাদের বয়সের ধাচে।

বড় হতে হতে আর সামাল দিতে পারছি না পরিবার,বাবা,মা,ভাই,বোন,আত্মীয় স্বজন,প্রতিবেশিদের সাথে সে নিবিড় সম্পর্কে বেধে। সব যেন হারিয়ে যাচ্ছে,পালটিয়ে যাচ্ছে ব্যক্তিগত স্বার্থের অজুহাতে। বড় হয়ে দেখেছি ছেলে বাবা-মার সাথে খারাপ আচারন করছে।ছেলে খারাপ সঙ্গ দিচ্ছে,ছেলে ভাই-বোন,আত্মীয় স্বজন,প্রতিবেশিদের থেকে হারিয়ে যাচ্ছে মায়ার বাধন থেকে।

বড় হয়ে দেখেছি মেয়ে অন্য জালে মায়ার ছায়া শীকড়কে ছেড়ে। বড় হয়ে দেখেছি মেয়ে স্বাধীনতার নামে খারাপ সঙ্গে লুকোচুরি বাধে।বড় হয়ে দেখেছি মেয়ে ভালবাসার নামে অবৈধ সম্পর্কের জালে।

বড় হয়ে দেখেছি আত্মীয় স্বজন ও কত দূরে দূরে প্রয়োজন শুধু নিজের তরে।বড় হয়ে দেখেছি সম্পদ নামের অট্টালিকাতে আত্মীয়দের মাঝে বাধে কলঙ্কিনি।বড় হয়ে দেখেছি যে সম্পর্ক ছিল মধুর হয়ে তা আজ চোখা-চোখিও না মেলে।

বড় হয়ে দেখেছি প্রতিবেশি সাহায্যের ভানে ঠকিয়ে চলে একে অন্যকে।বড় হয়ে দেখেছি প্রতিবেশি নানা দলে ঘোরে।বড় হয়ে দেখেছি প্রতিবেশি শত্রু আগে হতে জানে।

বড় হয়ে দেখেছি ভাই ভাইকে মারে।কিন্তু ছোট বেলার মত আর আদর না করে। বড় হয়ে দেখেছি ভাই ভাইকে জীবন নিয়ে টানে।বড় হয়ে দেখেছি ছেলে বাবা-মাকে খুন করে।বড় হয়ে দেখেছি ছেলে বাবা,মাকে দোরে ঝুলিয়ে তালা দিয়ে সুখমঞ্চ খোজে।বড় হয়ে দেখেছি বাবা মা কে বৃদ্ধাশ্রমে থাকতে।বড় হয়ে দেখেছি ছেলে বউ এর ঘর নিয়ে মাতে। বড় হয়ে দেখেছি ছেলে মাতলামি করে।বড় হয়ে দেখেছি ছেলে সন্ত্রাসীও করে।

আমাদের বড় হওয়াতে পৃথিবীর সকল পূর্ব ধারনা গুলো মিথ্যাচারে পরিনত হয়।আজ শুনছি বাবা ছেলেকে,ছেলে বাবা-কে,ছেলে বউকে,বউ স্বামীকে,আত্মীয় আত্মীয়কে কত সব অকল্পনীয় সংঘাতে যা কি না কেড়ে নেয় এই পৃথিবীর রূপ আর দেখতে না দেয়।খুবই সামান্য কোন কারনের ফলে আমরা ঘটিয়ে ফেলেছি কতকগুলো জীবনের পরিসমাপ্তিতে।যা হয়তো কোন দিন  কেউ কখনও কল্পনাও করতে পারে নি।ক্ষমা কর প্রভু,বিনেক দাও মোদের,শুদ্ধ আত্মা দাও,আমরা যে বাচতে চায়। এই আকুতি আমাদের সাধনায়

12345
Total votes: 41

মন্তব্য

সোহাগ আল ইমরান-র ছবি
আমরা বড় হচ্ছি , আর চির চেনা পৃথিবীটা কে দেখছি এক অন্য ধারার প্রহশনে

Iইমরান

পচুর হশাতা দেখি আপনের মনে। তবে ভাইডি এর উল্টাডাও আছে, আপনেরি চেনা জগতে।

সোহাগ আল ইমরান-র ছবি

ধন্যবাদ  সবুজ বাঘ ভাই... আমিও আপনার সাথে একমত আছি, তবে আমি এই লেখাটি সে দিন রাতে লিখেছিলাম,যে দিন মধ্য রাতে শুনলাম... *এ টি এম শামছুজ্জামান এর ছোট ছেলের হাতে বড় ভাই খুন ... এই ঘটনা যখন পড়লাম তখন আমি আমার ছোট বেলাতে ফিরে গেলাম। আমিও তো আমার ভাই বোনের সাথে অনেক মারা মারি করেছি। কিন্তু কিছু পরে আবার একও হয়ে গেছি । আমি ভাবলাম নিশ্চয় তাদের জীবনটাও এর ব্যাতিক্রম নয়। তবে আজ বড় হয়ে এ কি শুনছি, এ কি দেখছি,এমন ঘটনা ঘটছে হরি হরি... আমি এমন পৃথিবী দেখতে চায় না ... ভাই এ আমার কোন হাসি, তামাসা বা হতাশা নয়। আমি সত্যি বলছি এ আমন আহাজারি আমি দেখতে চায় না... আমি ছোট বেলায় যেমন ছিলাম এখন আমি তেমনি থাকতে চায়... আমি দোয়া করি সবায় যেন ভাল থাকে সবুজ প্রৃথিবীর তলে... ধন্যবাদ

Iইমরান

যূথচারী-র ছবি

ভাই ঠিকই বলেছেন, আমি আছি আপনের দলে। সবুজ বাঘের উল্টাসিধা কথায় কান দিয়েন না। হতাশাই প্রকৃত মুক্তির পথ। পৃথিবীতে যতো বিখ্যাত কাব্য রচিত হয়েছে সবই ছ্যাকা খাওয়া কবিদের লেখা। কাজেই আমরা যারা হতাশাবাদী আমাদেরও বিখ্যাত হওয়ার সম্ভাবনা আছে।


রানওয়ে জুড়ে পড়ে আছে শুধু, কেউ নেই শূন্যতা-
আকাশে তখন থমকে আছে মেঘ,
বেদনাবিধুর গীটারের অলসতা-
কিঞ্চিৎ সুখী পাখিদের সংবেদ!

 @ যূথচারী আমি সবুজ বাঘের দলে। এখন ও অনেক কিছু আছে। আমাদের জন্য আপনারা আছেন। এত হতাস হওয়ার মত কিছু হয়নি এখন ও ।

সোহাগ আল ইমরান-র ছবি

ধন্যবাদ ... বোন তন্দ্রা চাকমা... আসলে আমি তেমন ভাল লিখতে পারি না , সে আমি আন্দাজ করতে পারলাম। পরবর্তিতে নিশ্চয় ভাল করে লিখার চেষ্টা করবো। আসলে আমি ওই দিনের কিছু অপ্রত্যশিত ঘটনার পরিপেক্ষিতে আমার এই লেখা, আমি কোন হাসি তামাসা বা হতাসা প্রকাশ করার জন্য লিখি নি, এ টি এম শামছুজ্জামান এর ছোট ছেলের হাতে বড় ছেলে খুন এই খবরে আমার মনটা বড় অস্থির হয়ে উঠল এক আজানা ভয়ে , আমিও তো ছোট বেলায় কত রাগারাগি , মারামারি করেছি ভাই বোনদের সাথে , কিন্তু আবার কিছু পরে তা ঠিক হয়ে গেছে, আর বড় হয়ে আমি এ কি দেখছি, কি শুনছি  সেই আপন কেও খুন করতে বাধছে না ... আমাকে ভুল বুঝবেন না্‌, সত্যি বলছি আমি এমন চায় না , দোয়া করি সবাই সুন্দর জীবন যাপনে ছন্দ খুজে পাক এই সবুজ ঘ্রানের বুকে

Iইমরান

সোহাগ আল ইমরান-র ছবি

ধন্যবাদ ভাই যুথচারী... আমি কি বলেছি তা আমি জানি না ...শুধু এ টুকু বলতে চায় শুষ্ঠ জীবন নিয়ে এ পৃথিবীতে এসেছি, সুষ্ঠ জীবন নিয়েই মরতে চায়, আমি কোন দলাদলিও করতে আসেনি... আর আমি কোন হাসি, তামাসা বা হতাসা যায় বলুন না কেন, কোনটায় বোঝাতে চায় নি... আমি শুধু এ টুকু বলতে চায় ... আমি এমন আহাজারি দেখতে চায় না । আমি এমন বেভেদ দেখতে চায়  না। আমি ছোট বেলায় সে সব মানুষ কে যেমন করে দেখেছি,বুঝেছি, ভালবেসেছি ঠিক তেমনি করে থাকতে চায়... দোয়া করবেন ভাই... আর আমিও দোয়া করি আমরা সবায় যেন সুন্দর মনভাবের মাধ্যমে বেচে থাকতে পারি এই সুন্দর চির সবুজ ভূবনে

Iইমরান

মন্তব্য