slideshow 1 slideshow 2 slideshow 3

You are here

সবুজ বাঘ-এর ব্লগ

শিক্ষক

হান্দার পট্টির সামনে আইয়াই ধরা খাইলাম। ঝমঝমাইয়া বৃষ্টি নামল। মেজাজটা চইষা গেল। বিষ্টিরে খানকির পুলা কইয়া গালি দিবার ইচ্ছা হইল। কিন্তু দিবার পারলাম না। তার আগেই বুইড়া বুইড়া বৃষ্টির ফোটা নাইমা আইতে লাগল।

কোনো বাড়ির সামনে খাড়াইয়া যে এট্টু আশ্রয় নিমু তারও উফায় নাই। হান্দাররা এমনেতেই জ্যান্দর। বাড়ির সামনে হাইগামাইগা থোয়। বড় বড় নাড্ডিলা গু দেখিয়া পেট মোচড়াইয়া বমি আসে। গরুর নাড়িভুরি, ঘাউয়ালা কুইত্তা ও ক্যাঁও ক্যাঁও করা কুত্তার বাচ্চা আর কাচা চামড়ার গন্ধে হান্দার পট্টি চিরকালই একটা অশান্তিপূর্ণ অন্ধকার। ফলে এইটুকু রাস্তা পাউ চালাইয়া আইগিয়া যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাম।

বিজ্ঞান বনাম পবিত্র ঘুড়ার ডিম

একটা শান্তিপূর্ণ বিজ্ঞানের কাছে পবিত্র ঘুড়ার ডিমের কোনো দামই নাই
তাই ঘুড়ার ডিম আমাদের ঘরে এসে কাঁদে 
হাউমাউ করে কাঁদে ফোৎ ফোৎ কইরা কান্দে
আমরা কুড়ক্যার ডিম দিয়া ভাত খাই আর ঘুড়ার ডিমের ফ্যাৎকান্দা দেখি
ঘুড়ারা বুড়া হয়ে মারা যাবার আগে কিছু কিছু ডিম পাড়ে
সেইসব পিতামাতাহীন এতিম ডিম ভেউ ভেউ করে কাঁদে
আর নালিশ করে, বিজ্ঞান আমাগের ভালোবাসে না
তাই আমাদের বেঁচে থাকায় কোনো আমোদ নাই। আমরা মরে যেতে চাই 
আমাদের মরে যেতে দেও
আমরা তখন কুড়ক্যার ডিমের কুসুমের সুসুম খাওয়া ধরি

দিদিকে বৌদি বানিয়ে নিন, আর নোটাকে কচি পাঁঠা

ব্যক্তিগত ঝামেলা এমনই যে বিস্তর জনগুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার স্যাপারও গায়ে বিন্ধে না। তবু কিছু কিছু বিষয় এমনই যে মাথায় গেঁথে থাকে, পরে তা পেকে ফোঁড়া বাঁধিয়ে ফেলে। এমতাবস্থায় বেলের কণ্টক দ্বারা ফুটো করে ভিতরের পুঁজ বাহির করিতে না পারিলে ফোঁড়াটা টাটায়।

এই যেমুন ওইদিন চোখে পড়ল মমতা দিদির খাসা কিছু ছবি এঁকে কোনও এক গাঁয়ের প্রফেসর সাব ধৃত খাইছে। তাহারে তৃণমূলের লুকেরা মেরে ভর্তা বানিয়ে পুলিশে দিয়েছে (পুরো ঘটনা জানি না, তাই অতিরঞ্জন কিংবা ক্ষীণরঞ্জন ক্ষমার্হ)। হেহেহেহে। এইসব ঘটমা চরম আমোদময়।

মানুষ তার ভিজে বেড়ালের জন্য কাঁদে

মানুষ তার ভিজে বেড়ালের জন্য কাঁদে

হুহু করে কাঁদে

তারা চায়, ভিজে বেড়ালটা তাদের বুকের ভিতরেই ভিজে থাক, মজে থাক আরামে আমোদে, প্রয়োজনে রোদ পোহাক যমজ পাহাড়ের ঢালে

কিন্তু ভিজে বেড়াল এমনই মিনসে যে সে মিনেসোটা নদীর তীরে গা শুকাতে চলে যায়

চলে যাওয়ার আগে কাউকেই বলে যায় না। বলে যাওয়া তার স্বভাব না

তার স্বভাব অভাবে পড়া গৃহস্তের মতো আঁতিপাতি করে খুচরো পয়সার ন্যায়

পুকপুক করে সুখ খোঁজা। ফলে সে মিনেসোটা পাহাড়ের তীরে বসে কেবলই খাবি খায়

নরোম রোদ আর শোধবোধ হওয়া জীবনের কাছে মিটিমিট ঘুড়ি উড়ানোর বায়না তার নাই

পরিচিত মিথ্যাচার

অথবা প্রাণেশ স্যারের মতোই পৃথিবীর রঙ কালো

বিকেলের রোদ যেভাবে তোমার চুলে এঁকে দেয় বিষাদের ছায়া

দূরে হেঁটে যাওয়া মানুষেরা নিতান্তই অপরিচিত

অথচ তোমাকে চিনবার প্রত্যাশায় পকেটস্থ চিনে বাদামগুলো মুখস্থ হয়ে যায়

আমরা তবু বিকেলের রোদের মতোই একে অন্যের হৃদয়ে হামাগুড়ি খাই

এই যে দূরের অচেনা লোক তারও ভালোবাসা আছে

আছে না বলা ম্যালা কথা, গুপ্তধন চুরির ছেলেমানুষী প্রত্যাশা কিংবা কোনোটাই নাই

হতাশায় বিবর্ণ হতে হতে মুষড়ে পড়া মানুষের মতো তার কোনও কথা নাই

আপনার বাবার দেশ, চাইলে আপনি সবই বন্ধ করে দিতে পারেন

প্রধানমন্ত্রীকে আমার সাংঘাতিক ভালো লাগে। আসলে এত ভালো কাউকেই আর লাগে না। আর লাগবেই বা কেন? উনার মতো মহান মানুষ আর হয়? হয় না। ইহজগতে কেন, পরজগতেও উনার মতো মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। উনি এতটাই মহান যে ইচ্ছা করলেও উনি জনগণকে কষ্ট দিতে পারেন না। অথচ কষ্ট দেওয়ার সকল ক্ষমতাই জনগণ উনার হাতে তুলে দিয়েছেন। কিন্তু তারপরও তিনি কাউকে কষ্ট দেন না।

বেঁচে থাকা

একটা সাঙ্কেতিক চিহ্নের মতোই দোপেঁয়াজা গেনজাম

ঝড়ের রাতেও  জঙ্গলে মহীরূহ বাস করে 

আমরা পৃথিবীর টিকেট কেটে বাংলাদেশে ঢুকেছিলাম

আমাদের হারানো যাবে না

আমরা হেরে গিয়েও এ কথাই বলব

যদিও বিজ্ঞান আমাদের জানায় মানুষ আসলে হেরে যায় না

মরে যায়

বেঘোরে ঘোরে অঘোরে সঘোরে চাঘরে হাঘরে

ফলে মরে যাওয়াটাই ফ্যাক্ট

জিতে যাওয়া কিংবা হেরে যাওয়া নয়

তবে কি বেঁচে থাকাটা ফ্যাক্ট নয়?

বিজ্ঞান জানায়, আসলে বেঁচে থাকাটা নিয়তি

কালেভদ্রে মানুষ বেঁচে থাকে

 

রাপুখাপাং ৩

খুট করে শব্দ হয়। মেঝের গর্ত থেকে ধীরে ধীরে উপরে উঠতে থাকে ছিটকিনি। বাইরে থেকে কে যেন সূতা টানে। সাইফুদ্দিনের এক চোখ খুলে যায়, দরোজার বাইরে থাকা অজ্ঞাত লোকটার পরিচয় জানতে। ঘরে ঢোকে ডামনিক টিপরা। ঠোঁটে বিলবিলে হাসি ঝুলিয়ে। বোগলে জলের বোতল। খালি গা। লুঙ্গি পরা।

কীরে বাঙ্গালি ভাই আমার.. ছাড়ে বারোতা বাজে.. তুই ছালা এখনও ঘুমাইছ? দিপার্তমেন্তে যাও নাই? ইলোরা ম্যাদাম তো তুমারে খুঁজছে। ডামনিক টিপরা নাটকীয় ভঙ্গিতে বলতে বলতে কাছিয়ে আসে।

একজন আকরাম খান

আকরাম খানরে চিনি ম্যালা বছর আগে থিক্যা। তখন ক্লাস সিক্স কি সেভেনে পড়ি। টাঙ্গাইলে রেনেসাঁ (ভুলও হইতে পারে) ক্লাবের হইয়া খেলতে নামল আকরাম। ক্লাবটা শিবনাথ পাড়া আর আদালত পাড়ার মিল্যা। প্রতিপক্ষ শক্তিশালী থানাপাড়া। হাবিবুল বাশার সুমনরে দলে নিছে। সুমন তহন বিমানে খেলে আর আকরাম আবাহনীতে। ফলে আকরামের পক্ষে না থাকার কোনও উপায়ই নাই।

 

তাইরন আবাবিল

আবাবিল পাখিকে ভালোবাসে আযাজিল ফেরেস্তা

আমরা ভালোবাসি আবাবিল পাখির গুস্ত ভাজা

যদিও জানি না আবাবিল পাখির গুস্ত খাওয়া যায় কি-না

তবু যেহেতু আমরা জানি বেশির ভাগ পাখির গুস্তই সুস্বাদু ফলে আবাবিল পাখিই বা খারাপ কী?

তাই আবাবিল পাখি পাথর ছুইড়া মারলেই কি না মারলেই কি

ওরে আমরা বেশি কইরা পিঁয়াইজ কাঁছা মইচ দ্বারা ভাজা কইরা

লাল চাইলের ভাত দিয়া মাইরা দিমু

যদিও বিজ্ঞান এইসব নিহত ইঁদুরের গল্ফ জানে

কলিকাতা বুকফিয়ার ২

পাদুকাদ্বয় অতিরক্ত ব্যাদ্নায় মুহ্যমান থাকায় আশপাশের বিরাট বিরাট স্টলও নজর কাড়িল না। নজর কাড়িল না স্টলের সামনে তাহা পাবলো নুরু দা, চার্লিস ডিকেন সাব কিম্বা আজগর হালার পোর বিরাটকায় ফটুকসমৃদ্ধ স্টলগুনিও। ভালো কথার গাইলমারা এইসব কথাবিজ্ঞানীরা তাই আফন মনেই হাসিতে নাগিল। তাহার তুয়াক্কা না করিয়া গোরু খোঁজার ন্যায় গুরু খুঁজিতে নাগিলাম। কিন্তু কুথায় গরু, কুথায় গুরু, কেহই তাহার সন্ধান দিতে পারিল না।

চট্টগ্রামে কী হচ্ছে

এই মাত্র বন্ধু সঙ্গীতা ফোনে জানালো চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উপর খড়গ হাতে নামছে জামাত-শিবির ক্যাডাররা। তারা নন্দীর হাটের বাবা লোকনাথের আশ্রম জ্বালিয়ে দিয়েছে। হামলা চালাচ্ছে হিন্দু বাড়িতে। জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে বাড়ি ঘর। নারীদের উপর নির্যাতন হচ্ছে। পুরুষদের উপর আক্রমণ চলছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংঘর্ষের পর গতকাল থেকেই এসব হামলার ঘটনা ঘটে চলছে। অথচ এসব ঘটনায় প্রচলিত মিডিয়া নিরুত্তর। তারা একে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা বলবে কি বলবে না, এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় মশগুল।

কিন্তু আমরা জানতে চাই। জানতে চাই, কী হচ্ছে চট্টগ্রামে, কেউ কি জানেন? 

 

কলিকাতা বই মেলা-১

দুস্ত সৌমেন ভদ্র ভদ্রলুকের ন্যায় কইল, বাগুইহাটি থিক্যা সুজা গেলে যে টাইম লাগব, নিউ টাউন দিয়া ঘুইরা বইমেলায় গেতে একই টাইম লাগব। মুফতে তোরে কলকাতার দুই ডাবল বড় নিউ টাউনডাও ঘুরিয়া দেখানো গেল।

ঝাড়া হাতপাউ লুকের কাছে বিছা কলা খাউয়া আর সমুদ্র কদলী ভক্ষণের প্রস্তাব মূলত একই। ফলে সৌমেন ভদ্রর প্রস্তাব মানিতে দ্বিধা করিবার প্রশ্নই নাই। খালি কহিলাম, চল তো যাই।

কিন্তু দোস্তো, সমস্যা একটাই। কহিয়া সৌমেন আমা মুখপানে তাকাইল।

কহিলাম, কী?

কহে, আমাগো ইকটু পিছনে যাইয়া গাড়িতে উঠিতে হইবে যে!

কহিলাম, উঠিব, সমিস্যা কী?

কহিল, তবে চ।

আমাগো তুই মাইরা হালা

বিজ্ঞানের কাছে বহু কেন্দে কেটে বললাম, ফাদার নিউটন, তুমি আমারে বাঁছাউ। বিজ্ঞান হাসিয়া কহিল, আগে মরিয়া নও।

কহিলাম, মরিয়া যাইবার পরে যুদি তুমি বাছিঁয়া না দেও, তাহাইলে কেম্বে কি? তখন বিজ্ঞান ঈষৎ রাগ করিয়া কহিল, তাইলে চ্যানের বাল হামার কাছে আসিচ্ছ ক্যা?

কহিলাম, কতা সত্য। কিন্তু তুমার কাছে না আসিয়াও তো পারি না। কারণ অন্য কেউ মড়ারে তাজা করিতে পারে না।

বিজ্ঞান হাসিয়া কহে, তর বাড়ি কনে?

নিমরাজি হইয়া কহি, কইচাডাঙ্গা।

কয়, তা কী দিয়া ভাত খাইছত?

কহি, দুলাভাইরে দিয়া।

বিজ্ঞান ভুদাই হইয়া কয়, মানে?

Pages