slideshow 1 slideshow 2 slideshow 3

You are here

এমদাদুল হক-এর ব্লগ

তৃতীয় দিন

গত রাতের মতই আজও ঘুম জেগে দেখি চারটা বাইশ বাজে। সিগারেটে আগুন ধরিয়ে মনে হলো, যাকে ছাড়া এটা সম্ভব ছিলো না, যে ম্যাচ কাঠিটা দিয়ে আগুন জ্বালালাম, সিগারেট ধরিয়ে সেই কাঠিটা কোথায় ছুড়ে ফেলে দিলাম অথচ এমনও সময় পার করেছি, ম্যাচ কাঠির অভাবে সিগারেট ধরাতে পারিনি সারারাত। সিগারেট ফুকতে ফুকতে উঠানে এসে দেখলাম আশে পাশের বাড়ি থেকে আর কোন আলো আসছে না তবে দূরে অনেক দূরে দু একটা বাতি জ্বলে উঠে আবার খানিক পর নিভে যাচ্ছে; এই সময় মনে হয় লোক জন পেশাব করতে জেগে উঠে !
 

শুভ জন্মদিন তিশা !

মাঝে মাঝে মনে হয় আজকেই জীবনের শেষ দিন, আর তখনই ডাক্তারের দেয়া সময়ের
হুশিয়ারি মনে পরে, বড়জোর আর তিরিশ দিন! তবে এইটা বলা মুশকিল, সবার শরীর
একরকমের না, সবাই একরকমের রেসপন্স করে না! এরপরও ডাক্তার বললো হয়তো
পাচ্চল্লিশ দিন।

আমি বাসায় কাউকে কিছু বলি নাই, বরং অহেতুক ঝগড়া কইরা চইলা আসছি! সেই

সাধারন ডায়রি | ০৯ মার্চ২০১৫ | রাত: ১২ টা ২৭

সি এন জি করে বাসায় ফিরার সময় নভোথিয়েটারের পাশ দিয়ে ফাঁকা রাস্তা পাইয়া সি এন জি মামা দিল একটা টান! রাস্তা পুরা ফাকা আর রাত তখন ১১টা ১০। হটাত কোথা থেকে একটা গুলির শব্দ অনেক দূরে এবং সঙ্গে সঙ্গে আমার বুকে একটু ব্যথা অনুভব করলাম। বিদেশি মদের তেজ তখনো কমে নাই। মাথায় ঘুরতেছিল একটা প্রশ্ন; মানব জীবনের উদ্দেশ্য কি? মাঝে মাঝেই আজকাল বেশী বেশী ডারবি সিগারেট খাবার ফলে বুকে ব্যথাটা একটা নিয়মিত ব্যাধি হইয়া দাড়াইছে, আর সেই সাথে কালকে টাকা হাতে না আসলে বাড়ি ভাড়া কেমনে যোগাড় হবে সেইসব চিন্তা।

ফুলের নাম ডালিয়া !

 মিস ডালিয়া আমাদের পাড়ায় আসলে আমরা তার প্রেমে পরে যাই; আমরা যারা মিস ডালিয়ার কাছাকাছি থাকি কিংবা থাকার সুযোগ পাই তারা আবার মাঝে মাঝে আদর করে তাকে ফুল বলে ডাকি, কারণ ডালিয়া নামের সাথে সাথে ফুল শব্দটাও আমাদের মাথা হয়ে মুখে চলে আসে, আর এক বার দুইবার ফুল বলে ফেলার পর নিজেরাই আবিষ্কার করি, নামটা ভালোই হয়েছে; এইসকল রোমান্টিকতা আরেকটু যখন ঘনীভূত হতে থাকে তখন থেকেই আমরা আর ডালিয়াকে ডালিয়া ডাকি না, মিস ডালিয়া প্রথমে হয় ডালিয়া ফুল, আর কিছুদিন পর হয়ে যায় শুধু ফুল। ফলে আমরা যারা মিস ডালিয়ার কাছাকাছি থাকি কিংবা থাকার সুযোগ পাই তারা মিস ডালিয়াকে ফুল বলে ডাকতে থাকি, আমাদের কাছে মিস ডালিয়া এখন শুধু ফু

সাধারণ ডায়েরি | ২৪ডিসেম্বর২০১৪ | রাত: ১১ টা ১১

এই মাত্র একটা খুন করে আসলাম রাস্তায়, আমি সাধারণত মুরগির মাংস খাই না কারণ সেটা খাবার উপযুক্ত করার জন্য রক্ত ঝরাতে হয়; রক্ত আমার পছন্দ না। সকাল থেকেই অনেক ফুরফুরে মেজাজে আছি, জীবন সুন্দর এইটা প্রতিমুহূর্তে উপলব্ধি করছি, বান্ধবীর সাথে সিনেমা দেখে, সিনেমা হল থেকে হাত ধরে হেটে হেটে, হেলে দুলে গান ও গেয়েছি; সুন্দর আবহাওয়া, খুব একটা শীত না আবার মটর সাইকেল চালানোর সময় মুখে বাতাসের ঝাপটা যে অনুভূতি দিচ্ছিল তাতে প্রতি মুহূর্তে শিহরিত হয়ে ভেবেছি জীবন কত সুন্দর। অথচ এই মাত্র একটা খুন করলাম, আসলে খুন না, এক্সিডেন্ট।

দুপুর

আমি অনেক বার দূর দেশে যেয়ে দেখেছি
আমি অনেক বার হাওয়া বদল করেছি,
কাজ হয় নি কখনো।

আমি অনেক বার প্রেমে পড়েছি
আমি অনেক বার প্রেম করেছি,
তবুও একাই রয়েছি।

আমি অনেক অর্থ পেয়েছি
আবার হারিয়েছি, তবু
সুখ আসে নি।

আমি অনেক ভেবে ভেবে দেখেছি
নিজেকে নিয়ে সমস্যায় পড়েছি।

আমি আমার নিজের আবেগ থেকে মুক্তি চেয়েছি
পিছু ছাড়ে নি কখনো,
আমি প্রেম, অপ্রেম, ভালোবাসা, ঘৃণায় বাচতে চেয়েছি
নিজেকে ক্ষমা করিনি কখনো।
আমি গান করেছি
আমি গান শুনেছি
শান্তি মেলেনি, কৈশোরের মত।

তবুও ভালোবাসি

তোমার আজ চোখ লাল, মাথা ঝিম
রিক্সায় চড়ে আজ বাড়ি ফেরার দিন
তোমার আজ চাঁদের আলো, সোডিয়াম বাতি
আর কালো পিচে সমুদ্র তীর হয়, এইসব রাতি

তোমার আজ মাথা ধরেছে খুব হয়তো
তুমি ঠিক করে বিদায় দিলে না, আজও
তোমার আজ সমুদ্র তীর ঘেঁষে রিক্সা চলে
চাঁদের আলোয় আজও ফেরা হবে।

দিনটি হোক বীথির জন্য !

প্রিয় বীথি,

তোমার পুরো নামটা আমি ভুলে গেছি। আরও ভুলে গেছি তোমার চেহারা, শুধু মনে আছে তোমার বয় কাট চুলের কথা আর লাল রঙয়ের একটা জেট প্লেন। তোমার কথাও যে খুব একটা মনে আছে তা না, শুধু মনে আছে তুমি একটা শান্ত এবং নীরব মেয়ে। পঞ্চম শ্রেণীর ফাইনাল পরীক্ষার শেষ দিনে তোমার সাথে গোল্লাছুট খেলা, আরেকটা স্মৃতি যা এখনো ভুলি নি। তোমাকে এই চিঠি লেখার কথা ছিল ২০০১ সালে কিন্তু তখন সাহস পাইনি, আজ কেন যেন অনেক করে তোমার কথা মনে হতে থাকায় এই চিঠি লিখতে বসলাম।

ঘুম


তোমাকে আজ ঘুমাতে দেব না
সারা রাত জেগে বসে থাক আমার পাশে
কিংবা দূরে, তবুও জেগে থাক।

তোমাকে আজ ঘুমাতে দেব না।

কিংবা ঘুমিয়ে গেলে, তোমাকে ডেকে তুলে দেব
ডেকে বলবো, বসে থাক আজ সারা রাত; ঘুমিও না
তুমি ঘুম চোখে আবার ঘুমিয়ে পরলে, তবুও ডাকবো

তুমি আজ আর ঘুমিয়ো না, এখনি জেগে উঠো ।

 


আমিও আজ সারা রাত ঘুমাবো না
আমি জেগে থাকবো
না তোমার জন্য না
আমার জন্য জেগে থাকবো
না কবিতা লিখবো না,
নিজেকে বুঝবো।

তুমি এখনো ঘুমিয়ে থেকো না।
জেগে উঠো।

 


 

দিঘির নাম, রামসাগর !

ঈশ্বরের সাথে একধরনের অভিমানের সম্পর্কে জড়িয়ে যায় হারু। ঈশ্বরকে হুদাই দোষ দিতে থাকে কিম্বা আসলে হুদাই না; যে কারণে দোষ দিতে থাকে সেই কারণটাই হয়তো পরবর্তীতে হুদা মনে হইতে থাকে; এমন সময় কোন এক রাতে অথবা দিনে এমনকি সন্ধ্যায়, ঈশ্বরের দেখা মেলে!

ফ্রি ফ্লোটিং প্ল্যানেট

জানো তো, এই মাত্র পৃথিবীতে খবর এসেছে
না, আমার মৃত্যু না; একটি একাকী তারার...

সূর্যকে ভালোবেসেই কাছাকাছি থাকে গ্রহ
খুব একটা দূরে যায় না, যেতে পারে না, অমঙ্গল হয় তাতে, আর ছিটকে পরে আঁধারে। তোমার চারিপাশে আমার ঘুরপাক এই একই নমুনা, আমি আঁধারে হারাতে চাই না।

জেনে থাকবে হয়তো, মহাকাশ যাত্রী দ্বয়
একদা মহাকাশে ভ্রমণ কালে
একটি একাকী তারার খবর নিয়ে আসে
দল ছেড়ে অনেক দূরে, কোন কেন্দ্রে আসক্তি না রেখে, কারো অক্ষ না মারিয়ে
একাকী একটি তারা মহাকাশে, নীরবে দাড়িয়ে...

নিমন্ত্রণ

উত্তেজনায়, চরম উত্তেজনায়
এক দৈরে পাহাড়ে উঠে যাই, এক নিশ্বাসে সমুদ্র পারি দেই
পান করি সুধা, সুধা চিরন্তন
তোমাকেই চাই, হে ক্রীতদাসী; রানী কোথাও নাই।

উত্তেজনা প্রশমিত হয়, নিজস্ব পদ্ধতিতে,
কখনোই পারবো না তোমাকে নিয়ে
পাহাড়ে দৈরে উঠতে, আর সমুদ্র বহু দূর।
স্রোতের টানে আমি তোমাকে ছেড়ে দেব, দিতে হবে।

তাৎক্ষনিক ভর করে, সকল ক্লান্তি
মনন এবং শরীরে।
আমি হেরে যাই, প্রশমনের পর
আমি হেরে যাই তোমার কাছে।
আমি হেরে যাই পৃথিবীতে।

রেইনকোট

আজ ঘর থেকে বাহির হব না
বৃষ্টি দেখবো; ব্যালকনিতে বসে, খানিক দাড়িয়ে।
বৃষ্টি দেখবো; ঈশ্বরের চোখে
উচ্চতায় বৃষ্টির রূপ বদলে যায়।

ঈর্ষা

তোমার কার্লি চুল; ভেনাসের জন্ম মনে করিয়ে দেয়
তোমার জোড়া ভ্রু; মথায় আসে ফ্রিদা কাহালো
তোমার স্থিরতা; বুদ্ধের নমুনা
তোমার না বলায়; প্রকৃত ভালোবাসা

তোমার সব কিছুতে আমার ঈর্ষা
আমি চিৎকার করে তোমায় আলোড়িত করতে চাই
তুমি মুখে নিবর।

Pages