slideshow 1 slideshow 2 slideshow 3

You are here

রানা-এর ব্লগ

বাহা (ফুল) উৎসব, প্রকৃতি এবং জীবন যেখানে একই সুত্রে গাঁথা।

কথা বললেই গান, পা বাড়ালেই নাচ! আবাল বৃদ্ধ বনিতা সবাই গাইতে জানে, নাচতে জানে।প্রকৃতির অন্তরঙ্গ সস্পর্কে জড়িত তাদের শিল্প ও সঙ্গিত জীবন। তারা নাচে সামাজিক উৎসবে, বিয়ের অনুষ্ঠানে, অতিথি বরণে, পূজা পার্বনে, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে। হাতে হাত ধরে, কোরাসে, কোমর দুলিয়ে তুমদা-তামাকের ছন্দে তারা জীবনের কথা বলে, প্রকৃতির কথা বলে।

একদিন বৃষ্টি ঝরা রাতে

গতকাল দুপুর থেকে একটানা বৃষ্টি। বাসার ক্লপসিপল গেটের ভিতরে একহাটু পানি। সামনের ফাঁকা জায়গায় জমে থাকা পানিতে একঝাক পুটি মাছ।একঝাক মানে পনের বিশটা।মাছ গুলোর লেজ থেকে পেটের মাঝদিয়ে লাল বর্ডার।শোবার ঘরের জানালায় বসে স্বচ্ছ-পরিস্কার পানিতে পুটি মাছ! আগে কখনও দেখেছি বলে মনে পাড়ে না। জানালার সামনে পানিতে রঙ্গিন পুটি মাছ! খাবার মেন্যুতে ভাজা ইলিশ (জাটকা) আর রাধুনি পাগল চালের ভূনা খিচুড়ি।বৃষ্টিঝরা আয়েশি দিনটা এরচেয়ে ভালো কাটানোর অন্যকোন উপায় ছিল না।

গল্প অল্প, ঘটনা সত্যি-১

এমন থুত্থুড়ে বুড়ো তিনটি নারকেল গাছ বছরের পর বছর উঠানের মাঝখানে কালের সাক্ষী করে দাঁড় করিয়ে রাখার কোন অর্থ আমার মাথায় আসে না। যে কোন সময় বিপদের আশংকা! টিয়া আর লক্ষ্মী পেঁচার আবাসস্থল কাঠঠোঁকরার গর্তগুলো বিপদের মাত্র আরও বাড়িয়ে তুলেছে। অবশ্য গাছ গুলোতে প্রচুর নারিকেল ধরে, কিন্ত সেটাও অন্য বিপদের কারণ। বড় গাছ বলে ডাব নারিকেল কোনটায় পাড়ার লোক পাওয়া যায় না। ফলে ঝুনা নারিকেল, শুকনা বেগো, (ডাটাসহ পাতা) নারকেলের মুচি (ডাবের পূর্ব অবস্থা) সবটাই সমান বিপদজনক। এত আশংকার পরও বছরের পর বছর কোন ক্ষয়-ক্ষতি ছাড়াই কীভাবে কেটেছে সেটা একটা রহস্য হলেও আমার কাছে এই গাছের রহস্য গভীর রাতের নীরবতা ভঙ্গ করে একবারে গাছের মাথার অদ্ভত একটা আওয়াজ।

আবহমান বাংলার রাখাল : পর্ব-৪

খরগোশ (লাফা) তাড়ানোর দলটি ফিরে এসেছে। দলের সবাই এখন খরগোশ মারার গল্পে মগ্ন। আখ খাওয়া বন্ধ করে মন্ত্রমুগ্ধের মত খরগোশ মারার গল্প শুনি। একবার এক চাচাতো মামা ফাঁদ পেতে চারটি খরগোশ ধরেছিলেন। বাড়িতে নিয়ে পলোর মধ্যে আটকিয়ে রাখার সময় খরগোশগুলো নাকি শিশুর মত আওয়াজ করে কাঁদছিল। চোখের পানিতে ভেসে যাচ্ছিল খরগোশগুলোর বুক। অঝোর ধারায় সেই কান্নার খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়েলে খরগোশগুলো দেখার জন্য অসংখ্য মানুষের ভিড় জমে যায়। কান্না সইতে না পেরে আরেক নানা এসে যে মামা খরগোশ ধরেছিল তাকে অনেক বকাবকি করে খরগোশ চারটি মাঠে নিয়ে গিয়ে ছেড়ে দিয়ে আসে।

আবহমান বাংলার রাখাল : পর্ব-৩

গরু রাখা লাঠিটার (নড়ি) আগার দিকের চিকন মাথাটা কাঁত করে শক্ত মাটির সাথে আর গোড়ার দিকের একটু মোটা মাথাটা থাইয়ের উপরে পেছনের মাংশের উপর, পা দুটো একটু সামনে এগিয়ে সারা শরীরের ভার লাঠির উপর ছেড়ে দিয়ে তিন পায়ের উপর দাঁড়িয়ে আয়েশি ভঙ্গিতে বিড়ি টানছে। বাম বগলের নিচে কাঠের হাতল যুক্ত একটি ছাতা। এই অবস্থায় নিজের পা দুটোর চেয়ে শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য লাঠিটায় তার কাছে অনেক বেশি বিশ্বস্ত। বিড়িতে দম দিয়ে ধোঁয়া ছাড়ার ফাঁকে খুক খুক কাশি আর নাক দিয়ে সর্দি টানারমত সুড়ুত সুড়ুত অবিরাম শব্দ করে চললেও এখন তার পুরো মনোযোগ বিড়ি টানায়।

আবহমান বাংলা রাখাল পর্ব-২

ছেলেবেলার দুইজন প্রিয় মানুষ, মামার বাড়ির আকবর মামা, আর আমার নিজের বাড়ির জয়নুদ্দীন চাচা। মামাবাড়িতে গেলে সবাই বলে মামারা আট ভাই। কিন্ত আমি যখন হিসেব করি দেখি নয়জন। সবার হিসেবে আট আর আমার হিসেবে নয়। কোনটা ঠিক, সবারটা? না আমরটা? না দুটোই?

আদিবাসীদের ভূমি অধিকারের লড়াই : সিধু, কানু থেকে আলফ্রেড সরেন

১৮৫৫ সালের ৩০ জুন ভগনাডিহি গ্রামে ১০ হাজার আদিবাসীর এক সমাবেশে সিদু, কানু ইংরেজ সরকারের বিরুদ্ধে যে বিদ্রোহের সূচনা করেছিলেন ইতিহাসে তা সাঁওতাল বিদ্রোহ নামে পরিচিত। যা ছিল বৃটিশ ভারতের ইতিহাসে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনে শোষিত, বঞ্চিত, মানুষের প্রথম সশস্ত্র গণসংগ্রাম। ভূমির ওপর আবহমান কাল থেকে চলে আসা সামাজিক বা গোষ্ঠী মালিকানার পক্ষে ভূমিতে ব্যক্তিগত মালিকানা উচ্ছেদের এই লড়াই আদিবাসী সাঁওতালদের করতে হয়েছিল একইসাথে বৃটিশ সরকার, জমিদার ও সুদখোর মহাজনের বিরুদ্ধে।

“শীল পাটায় ঘষাঘষি মরিচের দফা সারা” দুই জোতদারের বিরোধ ৪ আদিবাসী কৃষি শ্রমিক খুন

গতকাল শুক্রবার সকাল নয়টায় নওগাঁর মান্দা উপজেলার চকগোপাল গ্রামে বিরোধপূর্ণ জমির ধান কাটা নিয়ে দুইপক্ষের সংঘর্ষে ঘটনা স্থলে ২জন এবং হাসপাতালে নেবার পথে ১ জনের মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে আহত আরো এক আদিবাসী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ওই সংঘর্ষের ঘটনায় ৪ আদিবাসী শ্রমিক নিহত হলেন।

আবহমান বাংলার রাখাল: পর্ব-১

সে অনেক দিন আগের কথা। তখন গ্রামে গৃহস্থের বাড়িতে গরু দেখাশুনা করার জন্য রাখা হতো রাখাল। রাখালের কাজ ছিল সারাদিন মাঠে গরু চরানো, আর সন্ধা হলে বাড়ি ফিরে গরুকে গোয়ালে উঠিয়ে সানি খাওয়ানো। একজন রাখালকে ৮/১০টি থেকে ২০/২৫টি গরুর সকল যত্ন আত্তি করতে হত। (গরু রাখার কাজ প্রধান ছিল বলে তাদের রাখাল বলা হতো) বিনিময়ে সারা বছর খাওয়ার নিশ্চয়তা ও বছর শেষে এক দু’মন ধান। তখনকার দিনে সমাজের সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারের থেকে আসা রাখালেরা ছিল পেটের দায়ে গৃহস্থ বাড়ির অলিখিত চুক্তি ভিত্তিক দাস। রাখালের সাথে গৃহস্থ বাড়ির সস্পর্কের যে  ভিন্ন ভিন্ন মাত্রা তা বোধ করি গৃহস্থ পরিবারের সাথে অন্য কোন সস্পর্ক দিয়ে বিচার করে

সাঁওতাল লোক বিশ্বাসে সৃষ্টি তত্ত্ব

সৃষ্টির আদিতে পৃথিবী বলে কিছু ছিলনা, ছিল শুধু পানি আর পানি। একদিন চন্দ্রের কন্যা স্নান করতে এসে তার শরীরের ময়লা দিয়ে দু’টো পাখি তৈরী করল। তাদের একটির নাম হাঁস অন্যটি হাঁসিল। তারা অনেক দিন ধরে পানিতে ভাসতে ভাসতে একদিন ঠাকুরজিউ অর্থাৎ ইশ্বরের কাছে খাবার চাইল। তখন ঠাকুরজিউ পৃথিবী সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন। কিন্তু পৃথিবী সৃষ্টির জন্য প্রয়োজন মাটি। মাটি কিভাবে যোগাড় করা যায়। ঠাকুরজিউ রাঘববোয়ালকে নির্দেশ দিলেন পনির নিচে থেকে মটি নিয়ে আসার জন্য। কিন্তু বোয়াল দাঁতে করে মাটি নিয়ে আসতে গিয়ে মটি গলে গেল। বোয়ালের চেষ্টা ব্যর্থ হলো। তারপর কাঁকড়াকে আদেশ করল কাঁকড়াও ব্যর্থ হলো। এরপর ঠাকুরজিউ কচ্ছপকে

আলফ্রেড সরেন মৃত্যু যাকে অমরত্ব দিয়েছে

২০০০ সালের ১৮ আগস্ট, ঘড়ির কাটায় সকাল এগারটা, ভূমি দস্যু হাতেম ও গদাই লস্কর তার দেড়শতাধিক ভাড়াটিয়া খুনি সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে নওগাঁ জেলার, মহাদেবপুর উপজেলার ভীমপুর গ্রামের ১৩টি আদিবাসী পরিবারের উপর যে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ ও তাণ্ডবলীলা চালায় তা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকে হার মানায়। অতর্কিত এই আক্রমণে আদিবাসীরা হত বিহ্বল হয়ে পড়ে। খুনিরা চিৎকার করে খুজতে থাকে আলফ্রেড সরেনকে। একেরপর এক বাড়ী আগুনে জ্বালিয়ে দিতে দিতে অগ্রসর হয় খুনিরা। সামনে যাকে পায় তার উপর চলে পৈশাচিক নির্যাতন। শিশুদের হাত পা ধরে পুকুরে ছুড়ে মারা হয়। আদিবাসী পরিষদের নেতা বৃদ্ধ জগন্নাথ সরেণ ও যতীন সরেণ নামে ৩০ বছরের এক যুবককে আগুনে নিক্ষেপ ক

আদিবাসী বাঙ্গালী যত প্রান্তজন, এসো মিলি, গড়ে তুলি সেতুবন্ধন

আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবিতে যখন আদিবাসী বাঙ্গালী সকল প্রান্তজন মিলে সেতুবন্ধন গড়ে তোলার আহবান, তখন রাজশাহীর তানোরের ‘অস্পৃশ্য’ আদিবাসীরা বর্ণ বৈষমের শিকার। এখনও তাদের হোটেল, রেস্তোরা, চায়ের দোকানে ঢুকতে দেওয়া হয়না। দিন মজুর আদিবাসী নারী-পুরুষ গৃহস্তের বাড়িতে কাজ করতে গেলে খাবার থালা বাসন সাথে নিয়ে যেতে হয়। কারণ সমাজের তথাকথিত কিছু মানুষ যারা সমাজকে নিয়ন্ত্রণ করে, তারা সমাজের মানুষের মাঝে এই ধারণা দিয়েছে যে তাদের ছোয়া লাগলে সব কিছু অপবিত্র হয়ে যাবে, তাদের জাত নষ্ট হবে, ধর্ম চলে যাবে। এই দোহাই দিয়ে তারা আদিবাসীদের সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে যুগযুগ ধ